গত ২৩ এপ্রিল রাজধানীর শাহবাগ থানার ভেতরে ঢুকে ডাকসু নেতাদের ওপর ছাত্রদল নেতাকর্মীদের হামলা এবং পাবনা, কুমিল্লা চট্টগ্রামে ছাত্র শিবিরের ওপর ছাত্রদলের হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের সভাপতি প্রফেসর ড.এম কোরবান আলী এবং জেনারেল সেক্রেটারি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সিনেট সদস্য অধ্যাপক এবিএম ফজলুল করীম এক যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন।
গতকাল শনিবার এক বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় বলেন, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শাহবাগ থানার ভেতরে ডাকসুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী এবং সমাজসেবা সম্পাদক এবি যুবায়ের ও ডাকসুর মুক্তিযোদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক নারী নেত্রী জুমার ওপর ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বর্বরোচিত ও কাপুরুষোচিত হামলা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং অনভিপ্রেত। হাজার হাজার শিক্ষার্থীদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ওপর এই ন্যক্কারজনক হামলা গণতান্ত্রিক সভ্য সমাজে মেনে নেওয়া যায় না। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
নেতৃদ্বয় আরও বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আব্দুল্লাহ আল মাহমুদের নামে একটি ভুয়া আইডি থেকে গুজব ছড়ানো হয়। তিনি তা অস্বীকার করে নিজের পেজে পোস্ট দেওয়ার পরও তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। নিরাপত্তার জন্য তিনি শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে গেলে জিডি গ্রহণ না করে তাকে আটকিয়ে রাখা হয়। খবর পেয়ে বিষয়টি সমাধানের জন্য এবি যুবায়ের ও মোসাদ্দেক আলী থানায় আসলে ছাত্রদলের সন্ত্রাসীরা পুলিশের উপস্থিতিতে তাদের মারাত্মকভাবে আহত করে।
নেতৃদ্বয় পুলিশের ভূমিকায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, পুলিশের যেখানে নাগরিকদের নিরাপত্তা দেওয়ার কথা, সেখানে পুলিশ নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে, যা অত্যন্ত নিন্দনীয়। জালিম শাসকগোষ্ঠীর লাঠিয়াল বাহিনী হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে পুলিশের এ ভূমিকা অতীতের ফ্যাসিবাদী আচরণের কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়। পুলিশের এই ন্যক্কারজনক ভূমিকায় দেশবাসী খুবই উদ্বিগ্ন।
নেতৃদ্বয় বলেন, একইদিন বৃহস্পতিবার দুপুরে পাবনার ঈশ্বরদী সরকারি কলেজে ইসলামী ছাত্র শিবিরের শান্তিপূর্ণ মিছিলে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়ে কয়েকজনকে আহত করে। রাতে কুমিল্লা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ছাত্রশিবিরের ওপর হামলা চালিয়ে অন্তত ২০ জন নেতাকর্মীকে আহত করা হয়। এর আগে ২১ এপ্রিল চট্রগ্রামে শিবিরের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করে ছাত্রদলের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা। এসব ঘটনা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, পরিকল্পিতভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে।
নেতৃদ্বয় আরো বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো দেশের শীর্ষস্থানীয় বিদ্যাপীঠের শিক্ষার্থীদের নির্বাচিত প্রতিনিধিসহ পাবনার ঈশ্বরদী এবং কুমিল্লা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ও চট্রগ্রামে ইসলামী ছাত্র শিবিরের নেতাকর্মীদের ওপর এমন রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক হামলা কোনোভাবেই কাম্য নয়। ছাত্রদের জানমালের নিরাপত্তা এবং শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বিঘিœত করার যেকোনো অপচেষ্টা রুখে দিতে দেশের সচেতন ছাত্রসমাজ ও প্রশাসনকে সজাগ থাকতে হবে। সরকারের প্রতি আহবান অবিলম্বে ডাকসু নেতাদের ওপর হামলাসহ যেসকল জায়গায় হামলার ঘটনা ঘটেছে তার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।