স্টাফ রিপোর্টার
ইসলামী ব্যাংকের সচেতন গ্রাহক ফোরামের সদস্যদের ওপর হামলা চালিয়েছে এসআলমের সময়ে নিয়োগ পাওয়া চাকরিচ্যুতরা। এসময় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ এবং ধাওয়া ও পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে গ্রাক ফোরামের ৩৫ জনসহ দুই পক্ষের অন্তত ৫৫ জন আহত হয়েছেন। গতকাল সোমবার রাজধানীর দিলকুশায় ব্যাংকটির প্রধান কার্যারয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল সাড়ে ৭টায় ইসলামী ব্যাংকের চাকরিচ্যুতরা ব্যাংকের সামনে অবস্থান নেন। এ সময় গ্রাহক ফোরামের সদস্যরা পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে সেখানে অবস্থান নিলে তাদের ওপর হামলা চালায় এসআলম সমর্থিত ব্যাংকটির চাকরিচ্যুতরা। পরবর্তীতে গ্রাহক ফোরামের সদস্যরা তাদের ধাওয়া দেন। এতে দুই গ্রুপের সদস্যরা আহত হন। এসআলম সমর্থকদের হামরায় গ্রাহক ফোরামের ৩০ থেকে ৩৫ জন সদস্য আহত হয়েছেন জানিয়ে সংগঠনের সভাপতি নুর উন নবী মানিক বলেন, ‘অবৈধ নিয়োগপ্রাপ্তদের সঙ্গে ব্যাংকের কোনো সম্পর্ক নেই। ব্যাংকটির বিরুদ্ধে নতুন করে ষড়যন্ত্র করতে তারা অবস্থান নিয়েছেন। আজ যখন শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছি, তখন পুলিশের ছত্রছায়ায় হামলা চালানো হয়েছে।’ তিনি জানান, ‘পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আরও ২৫ থেকে ৩০ জন আহত হয়েছেন, তারা চিকিৎসা নিয়ে বাসায় ফিরে গেছেন। যারা পরিকল্পিতভাবে হামলা করেছে, তাদের খুঁজে বের করতে হবে। একই সঙ্গে তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।’ অধ্যাপক নুর নবী মানিক বলেন, চাকরিচ্যুত ব্যক্তিদের সঙ্গে ব্যাংকের কোনো সম্পর্ক নেই। তাদের বিরুদ্ধে ব্যাংকে নতুন করে ষড়যন্ত্রের অভিযোগও করেন তিনি। তার দাবি, শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচিতে পুলিশের ছত্রচ্ছায়ায় হামলা চালানো হয়েছে।
অধ্যাপক নুর নবী মানিক আরও বলেন, সৎ, যোগ্য ও পেশাদার ব্যক্তিদের নিয়ে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ গঠন এবং ব্যাংকে এস আলম গ্রুপের কথিত ‘অশুভ হস্তক্ষেপের’ প্রতিবাদে তাঁরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করছিলেন। তিনি দাবি করেন, কর্মসূচি শুরুর পর আগে থেকে অবস্থান নেওয়া একদল ব্যক্তি শেয়ারহোল্ডার ও গ্রাহকদের ওপর হামলা চালায়। সিসিটিভি ফুটেজ ও গণমাধ্যমকর্মীদের ধারণ করা ভিডিও দেখে হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। ফোরামের দাবি, ইসলামী ব্যাংকের প্রায় তিন কোটি গ্রাহকের আমানতের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সাত দফা দাবিতে তারা নিয়মতান্ত্রিকভাবে কর্মসূচি পালন করছেন। সংগঠনটি নিজেদের অরাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে উল্লেখ করেছে। হামলার সঙ্গে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের লোকজন জড়িত থাকতে পারেন বলেও জানান অধ্যাপক নুর নবী মানিক।
অন্যদিকে, এসআলম গ্রুপের সমর্থিত ২৫ জনের ওপর হামলার দাবি করেন চাকরিচ্যুত কয়েকজন। তাদের একজন শহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা দ্বিতীয় দিনের মতো ব্যাংকের সামনে অবস্থান কর্মসূচি নিয়ে দাঁড়িয়েছি। আজ উপস্থিত হওয়ার ২০ মিনিটের মধ্যে গ্রাহক ফোরামের সদস্যরা আমাদের ওপর হামলা চালান। পুলিশ প্রোটেকশন দিয়ে আমাদের সরিয়ে দিয়েছে। ২০ থেকে ২৫ জন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মতিঝিল বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মহসীন আল মুরাদ বলেন, সকালের সংঘর্ষের বিষয়ে তিনি অবগত নন। তিনি জানান, বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অবস্থান করছেন। বাংলাদেশ ব্যাংক কেপিআইভুক্ত প্রতিষ্ঠান হওয়ায় তাদের সেখান থেকে চলে যেতে বলা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানান তিনি।