স্টাফ রিপোর্টার
গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ সফল করতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রস্তুতিমূলক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ কর্মসূচি সফল করতে বিভিন্ন বিভাগের প্রস্তুতি ও করণীয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর মগবাজারে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল (সাবেক এমপি) ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. রেজাউল করিম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর অ্যাডভোকেট হেলাল উদ্দিন।
এ ছাড়া ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা মাহফুজুর রহমান ও ডা. ফখরুদ্দিন মানিক, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মো. কামাল হোসাইন এমপি, জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি পরিকল্পনাবিদ সিরাজুল ইসলাম, এফডিইবির কেন্দ্রীয় সভাপতি আব্দুস সাত্তার শাহসহ প্রচার, মিডিয়া, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক বিভাগের দায়িত্বশীল এবং ছাত্র প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের দাবিতে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত ১১ দলের লংমার্চ বাস্তবায়নের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। কর্মসূচি সফল করতে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিভাগের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামী ৫ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টায় রাজধানীর শাপলা চত্বরে লক্ষাধিক মানুষের সমাবেশের মাধ্যমে লংমার্চ শুরু হবে। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এতে অংশ নিয়ে চট্টগ্রাম অভিমুখে যাত্রা করবেন।
লংমার্চটি পথে নারায়ণগঞ্জের মদনপুর, কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এবং চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে পথসভায় মিলিত হবে। পরে চট্টগ্রামে গিয়ে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটবে। এ ছাড়া লংমার্চের পথের বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয়রা কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের অভিবাদন জানাবেন। বিভিন্ন উপজেলা থেকে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ অভিবাদন জানানো শেষে লংমার্চের বহরে যোগ দেবেন বলেও বৈঠকে আলোচনা করা হয়।
সভাপতির বক্তব্যে ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, “গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আমরা লংমার্চকে জাতীয় সিরিজ কর্মসূচি হিসেবে নিয়েছি। কারণ, আমরা ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পরদিনই ১১ দলের শীর্ষ বৈঠক করে সংসদে এবং রাজপথে একসঙ্গে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
তিনি বলেন, শুরু থেকেই ১১ দল দায়িত্বশীলতার সঙ্গে আন্দোলন করে আসছে এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
বর্তমান সরকারের বিভিন্ন কর্মকা-ের সমালোচনা করে তিনি বলেন, সরকারের অবস্থার কারণে আবারও জুলাই আন্দোলনের পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে। সরকার জুলাইকে মুছে দিতে চায় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, “আমরা জুলাইকে মুছে দিতে দেবো না, থামাতে দেবো না। গণঅভ্যুত্থান জনগণ করেছে, এটি কোনো দলের ইস্যু নয়; এটি জনগণের ইস্যু।”
তিনি কৃষকদের সার সংকট এবং বিদ্যুৎ সংকটের বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর দাবি, দেশের সাতটি সার কারখানার মধ্যে ছয়টি বন্ধ রয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ সংকটের কারণে শিল্পকারখানার উৎপাদনে মারাত্মক প্রভাব পড়ছে এবং বিভিন্ন কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
আগামী ৫ সেপ্টেম্বরের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ কর্মসূচি সফল করতে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষসহ দেশবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।