গেলো বছর আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকার কারণে এসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। সম্প্রতি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা রাষ্ট্রপতির কাছে মার্জনা চেয়ে আবেদন করলে তা মঞ্জুর করা হয় এবং তাদের দণ্ডাদেশ বাতিলের আদেশ দেওয়া হয়। রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ, ২০২৫ জারির বিরোধিতা করে আন্দোলনে অংশ নেওয়া জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ২১ কর্মকর্তার দণ্ড মওকুফ করেছেন রাষ্ট্রপতি।
গত বছর ওই আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকার কারণে এসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। সম্প্রতি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা রাষ্ট্রপতির কাছে মার্জনা চেয়ে আবেদন করলে তা মঞ্জুর করা হয় এবং তাদের দণ্ডাদেশ বাতিলের আদেশ দেওয়া হয়। গতকাল রোববার অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি) এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।
প্রজ্ঞাপন ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, শাস্তি মওকুফ হওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন— কমিশনার মো. জাকির হোসেন (চলতি দায়িত্বে), অতিরিক্ত কর কমিশনার হাছান মুহম্মদ তারেক রিকাবদার, মির্জা আশিক রানা, চাঁদ সুলতানা চৌধুরানী, সুলতানা হাবীব, মুরাদ আহমেদ, সিফাত ই মরিয়ম, আ.আ.ম. আমীমুল ইহসান খান, সাধন কুমার কুন্ড ; যুগ্ম কর কমিশনার মিজ মোনালিসা শাহরীন সুস্মিতা, মামুন মিয়া, মাসুমা খাতুন, মোরশেদ উদ্দীন খান, সানোয়ার”ল কবির; উপ কর কমিশনার জিল্লুর রহমান, ইমাম তৌহিদ হোসেন, সাইদুল ইসলাম, শাহাদাৎ জামিল, মোহাম্মদ শিহাবুল ইসলাম এবং রাজস্ব কর্মকর্তা সবুজ মিয়া ও শফিউল বশর।
২০২৫ সালের জুন মাসে রাজস্ব খাতের সংস্কার আন্দোলনের সময় এসব কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশ্যে সেই বদলির আদেশ ছিঁড়ে ফেলেন, যা ১৯৭৯ সালের সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালার ৩০এ বিধি এবং সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি (খ) অনুযায়ী ‘অসদাচরণ’ হিসেবে গণ্য হয়।
তৎকালীন ওই আন্দোলনের সময় কর্মকর্তারা এনবিআরের প্রধান কার্যালয় অবরুদ্ধ করে রাখেন এবং সারাদেশে দুই দিনের কর্মবিরতি পালন করেন। এতে দেশের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছিল। একপর্যায়ে তারা এনবিআর চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবিতে তাকে নিজ সংস্থায় ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করেন এবং ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার এনবিআরকে ‘অত্যাবশ্যকীয় সেবা’ হিসেবে ঘোষণা করে এবং সংকট নিরসনে পাঁচজন উপদেষ্টাকে নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করে। পরবর্তীতে ব্যবসায়ী নেতাদের মধ্যস্থতায় কর্মকর্তারা আন্দোলন প্রত্যাহার করে কাজে ফিরলেও সরকার তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু করে।
তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এনবিআর এসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বাধ্যতামূলক অবসর, সাময়িক বরখাস্ত এবং বেতন গ্রেড অবনমনসহ বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি প্রদান করেছিল। একই সময়ে ১১ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানে নেমেছিল দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
রাষ্ট্রপতির এই আদেশের ফলে দীর্ঘ আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা শেষে ওই ২১ কর্মকর্তা তাদের দণ্ড থেকে অব্যাহতি পেলেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে এনবিআরের প্রশাসনিক স্থবিরতা কাটাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।