রাজধানীতে কুরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণে অব্যবস্থাপনার অভিযোগ পাওয়া গেছে। কুরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণে সিটি করপোরেশনের ঘোষণার সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির মিল নেই বলে অভিযোগ করেছেন বিরোধীদলে থাকা রাজনৈতিক নেতারা। তারা বলেছেন, অনেক এলাকায় বর্জ্য পড়ে থাকায় জনস্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে এবং রোগব্যাধি ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এদিকে রাজধানী ঢাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা দেখার জন্য নিজে রাস্তায় ঘুরে বেড়িয়েছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুক্রবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নিজে গাড়ি চালিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকায় কুরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণ পরিস্থিতি দেখেছেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং সূত্র বলছে, প্রধানমন্ত্রীর গাড়িতে ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আবদুস সালাম, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির বিশেষ সম্পাদক মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন মৃধা ও প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-২ মেহেদুল ইসলাম।
জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমাকে ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি প্রশাসক আবদুস সালামকে তার বাসার সামনে যেতে বলেন। সেখানে গেলে তিনি আমাদের গাড়িগুলো ছেড়ে দিতে বলেন। এরপর তার গাড়িতে আমাদের উঠিয়ে নেন। প্রধানমন্ত্রী কেন ডেকেছেন, কোথায় যাবেন, সে বিষয়ে আমাদের কোনো ধারণা ছিল না।
মীর শাহে আলম বলেন, ‘পরে দেখি, তিনি ঢাকায় চলমান বিভিন্ন উন্নয়নকাজ ও কুরবানির পশুর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেমন হচ্ছে, তা সরেজমিনে দেখতে বের হয়েছেন। কয়েকটি এলাকার অবস্থা দেখে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। পরিদর্শনকালে হাতিরপুল, এলিফ্যান্ট রোড, গ্রিনরোড, ফার্মগেট ও কারওয়ান বাজার এলাকায় কুরবানির পশুর বর্জ্যের পাশাপাশি আগের জমে থাকা ময়লা রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জানান, এসব এলাকায় বর্জ্য অপসারণে অবহেলার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে। এরপর তার নির্দেশে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের দুই আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাকে তাৎক্ষণিকভাবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়। একই সঙ্গে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত হওয়া কর্মকর্তারা হলেন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের অঞ্চল-৫-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাদেকুর রহমান এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অঞ্চল-১-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী সালেহ মুস্তানজির। দুজনই উপসচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তা। স্থানীয় সরকার বিভাগ সূত্র বলছে, কুরবানির পশুর বর্জ্য দ্রুত অপসারণে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনকে আগেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। তবে প্রধানমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শনে কয়েকটি এলাকায় সেই নির্দেশনার ঘাটতি ধরা পড়ে।
অন্যদিকে কুরবানির পশু ও হাটের বর্জ্য অপসারণ নিয়ে রোববার নগর ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডিএসসিসি প্রশাসক আবদুস সালাম বলেন, ‘ঈদের দিন থেকে এখন পর্যন্ত ৩৬ হাজার ৮৬ টন বর্জ্য মাতুয়াইল ল্যান্ডফিল্ডে চূড়ান্ত ডাম্পিং করা হয়েছে। নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি বর্জ্য অপসারণ করেছি। এখনো কাজ চলছে।’ কুরবানির বর্জ্য শতভাগ পরিস্কার করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘হঠাৎ কোথাও বর্জ্য দেখা গেলে সেটিও পরিষ্কার করা হবে।’
কুরবানির হাটে যেসব ইজারাদাররা অনিয়ম করেছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান আবদুস সালাম। তিনি বলেন, ‘তাদের জরিমানা বা জামানত বাজেয়াপ্ত করা হতে পারে।’ বর্জ্য অপসারণে কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি হয়েছে স্বীকার করে ডিএসসি প্রশাসক বলেন, ‘ভবিষ্যতে যাতে সেটিও না হয় সে লক্ষ্যে কাজ চলছে।’ রাজধানীতে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া রোধে এখন থেকে আগাম প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে বলেও জানান আবদুস সালাম।