সরকার গঠনের পর প্রথম ছয় মাস অতিক্রম করেছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার। এ সময়ে মন্ত্রণালয়ভিত্তিক কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে তিনটি মন্ত্রণালয়ে রদবদল এবং কয়েকজন নতুন মুখকে মন্ত্রিসভায় যুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
সরকার ও বিএনপির দলীয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, সবকিছু ঠিক থাকলে কাল শনিবার এর মধ্যে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে। আলোচনায় থাকা প্রস্তাব অনুযায়ী, বান্দরবান থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরীকে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকনকে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী করা হতে পারে। তবে সাচিং প্রু জেরী ও মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন দুজনই জানিয়েছেন, তারা বিভিন্ন মাধ্যমে এ ধরনের আলোচনা শুনেছেন। তবে সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে তাদের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি।
সূত্র জানায়, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন গতকাল বৃহস্পতিবার শেষ হওয়ার এক-দুই দিনের মধ্যে মন্ত্রিসভায় নতুন মুখ যুক্ত করার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়া বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহধর্মবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে গত ১ জুন তিনি পদত্যাগ করেন। ফলে প্রায় দুই মাস ধরে মন্ত্রণালয়টি পূর্ণ মন্ত্রীশূন্য রয়েছে। বর্তমানে সেখানে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। তিনি একই সঙ্গে ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বেও রয়েছেন।
এদিকে গতকাল রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জয়ী হলে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে পূর্ণ মন্ত্রীর পদটি শূন্য হবে। এ অবস্থায় মন্ত্রণালয়টিতে নতুন করে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা চলছে।
রাজনৈতিক মহল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া আলোচনায় বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের নাম রয়েছে। তাকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নতুন কাউকে আনা হতে পারে। এ ক্ষেত্রে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানির নাম আলোচনায় রয়েছে। তবে মন্ত্রিসভায় রদবদল নিয়ে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন খবরের বিষয়ে সম্প্রতি শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি গণমাধ্যমকে বলেছেন, তাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ কিছু গণমাধ্যমে যে খবর প্রকাশিত হয়েছে, তাতে তিনি বিব্রত।
মন্ত্রিসভা পুনর্গঠন হলে সংসদ সদস্যদের পাশাপাশি বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর কয়েকজন নেতাকেও টেকনোক্রেট কোটায় মন্ত্রিসভায় যুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে বলে জানা গেছে।
এ নিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য রুহুল কবির রিজভী, সংসদ সদস্য আন্দালিব রহমান পার্থ, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর এবং ড. আসাদুজ্জামান রিপনের নাম আলোচনায় রয়েছে। সংসদের হুইপদের মধ্য থেকেও দু-একজনকে মন্ত্রিসভায় নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।