ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি'র বোর্ড মিটিং ছাড়াই বাংলাদেশ ব্যাংকের হস্তক্ষেপ ও বিধিবহির্ভূতভাবে চেয়ারম্যান নিয়োগের প্রতিবাদে ব্যাংকটির হাজার-হাজার গ্রাহক, শেয়ারহোল্ডার মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে।

সোমবার (১ জুন) সকালে রাজধানীর মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে গ্রাহকদের মানববন্ধনে পুলিশ এলোপাতাড়ি লাঠিচার্জ, টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ, জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এতে গুলিবিদ্ধ সহ শতাধিক গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডার আহত হয়। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে আহতরা রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে দেখা যায়, সকালে মানববন্ধন কর্মসূচি শুরু হওয়ার আগেই পুলিশ জলকামান ও টিয়ারগ্যাস নিয়ে অবস্থান করছে। ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডার ও গ্রাহকেরা শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন কর্মসূচি শুরু সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ জলকামান ও টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে। এসময় পুলিশ সদস্যরা এলোপাতাড়ি লাঠিচার্জ করতে থাকে। এতে ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক আন্দোলন। পুলিশের হামলা ৩০ জন গুলিবিদ্ধ সহ শতাধিক গ্রাহক আহত হয়। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পুলিশ সাধারণ গ্রাহকদের ব্যাংকে প্রবেশ করতে দেয়নি।

ইসলামী ব্যাংক ভুক্তভোগী গ্রাহক সমন্বয় পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক নুর নবী মানিক জানান, গত ২৪ মে সরকারের অবৈধ হস্তক্ষেপে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদত্যাগ করেন এবং এমডি ওমর ফারুক খানকে জোরপূর্বক ছুটিতে পাঠানো হয়। ঐদিন বাংলাদেশ ব্যাংক ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসর বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বিতাড়িত সাবেক ডেপুটি গভর্নর খুরশিদ আলমকে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে। সাথে সাথে ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডার ও গ্রাহকেরা আওয়ামী লীগের দোসর এস আলম গ্রুপের উত্তরসূরি খুরশিদ আলমকে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিয়োগ বাতিলের দাবি জানান এবং এমডি ওমর ফারুক খানকে স্ব পদে বহাল করার আহ্বান জানান। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংক গ্রাহকদের দাবি উপেক্ষা করে এস আলম গ্রুপের লোকজনকে ইসলামী ব্যাংকে পূর্ণবাসনের দিকে এগিয়ে যায়। এরই প্রতিবাদে আজ ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডার ও গ্রাহকেরা শান্তিপূর্ণভাবে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করতে গেলে সরকারের নির্দেশে পুলিশ জলকামান ও টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে এবং ব্যাপক লাঠিচার্জ করতে থাকে। এতে ১০জন গুলিবিদ্ধ সহ শতাধিক সাধারণ গ্রাহক আহত হয়। আহত অনেকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এসময় তিনি আরও জানান, ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সরকার ইসলামী ব্যাংকে পতিত আওয়ামী লীগের দোসর এস আলম গ্রুপকে ইসলামী ব্যাংকে পূর্ণবাসনের চেষ্টা করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতা ব্যাংকের চেয়ারম্যানকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে এবং এমডিকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। এর প্রতিবাদে সারাদেশে ইসলামী ব্যাংকের প্রতিটি শাখার সামনে ভুক্তভোগী গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডার মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। কিন্তু সরকার ইসলামী ব্যাংকে নগ্ন হস্তক্ষেপ অব্যাহত রেখেছে।

তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংক তারল্য সংকটে রয়েছে। ব্যাংকে কোনো টাকা নেই। গ্রাহকেরা চেক দিয়ে টাকা উত্তোলন করতে পারছে না এমনকি এটিএম বুথেও টাকা পাওয়া যায় না। ইসলামী ব্যাংক ভুক্তভোগী গ্রাহক সমন্বয় পরিষদের পক্ষে থেকে তিনি দাবি জানিয়ে বলেন, অবিলম্বে ইসলামী ব্যাংক থেকে এস আলম গ্রুপের উত্তরসূরিদের অপসারণ করতে হবে এবং খুরশিদ আলমের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ বাতিল করে ইসলামী ব্যাংকের প্রকৃত মালিকদের নিয়ে মিটিং করে চেয়ারম্যান এবং এমডি নিয়োগ দিতে হবে।