ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম চলছে। দ্রুত বর্জ্য সরাতে প্রায় ২৯ হাজার ৫০০ কর্মী মাঠে কাজ করলেও, ঈদের দ্বিতীয় দিনেও রাজধানীর বিভিন্ন অলিগলি ও রাস্তার পাশে বর্জ্য পড়ে থাকতে দেখা গেছে। গরমের কারণে এসব বর্জ্য থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।
কর্তৃপক্ষের দ্রুততম সময়ে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শেষের ঘোষণার পরও রাজধানীর দুই সিটির বহু এলাকায় পশুর বর্জ্য পড়ে থাকতে দেখা যায়। শুক্রবার সকালে সরেজমিনে অন্তত ২৯টি স্থানে কোরবানির পশুর উচ্ছিষ্ট স্তূপ আকারে জমে থাকতে দেখা গেছে।
সরকার কোরবানির বর্জ্য অপসারণের জন্য ১২ ঘণ্টার একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল। ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ যথাক্রমে ৮ ঘণ্টা এবং নির্ধারিত সময়ের আগেই এই কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে। তবে সেই সময়সীমা পার হওয়ার পরও নির্ধারিত স্থান থেকে আবর্জনা চূড়ান্ত গন্তব্যে নেওয়া হয়নি। বিভিন্ন এলাকায় বর্জ্য সংগ্রহ করা হলেও তা রাস্তায় ফেলে রাখা হয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে নগর ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম শতভাগ সফল বলে দাবি করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রথম দিনের মধ্যেই অধিকাংশ ওয়ার্ড সম্পূর্ণ বর্জ্যমুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে যেসব এলাকা শতভাগ পরিচ্ছন্ন বলে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, সেখানেই পশুর রক্ত ও নাড়িভুঁড়ি পড়ে থাকতে দেখা যায়। দক্ষিণ সিটির ১৪, ২২, ২৭, ৩৫ ও ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডকে আগের রাতে বর্জ্যমুক্ত বলা হলেও সেখানে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র পাওয়া গেছে।
মিরপুর, গুলশান, বনানী, হাজারীবাগ, চকবাজার ও নাজিরাবাজারসহ দুই সিটির আওতাধীন বিভিন্ন সড়কে এই অব্যবস্থাপনা চোখে পড়ে। এসব এলাকার কোথাও মাংস কাটার চাটাই, রক্ত, আবার কোথাও পশুর শিং ও খুলি ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকতে দেখা যায়। কিছু কিছু সড়কে বর্জ্যের কারণে চলাচলের জায়গা বন্ধ হয়ে গেছে এবং তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়ার দীর্ঘ সময় পরও এমন দৃশ্য নাগরিকদের ভোগান্তি বাড়িয়েছে।