আসন্ন ঈদুল আযহা উপলক্ষে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদের প্রধান জামাত সকাল সাড়ে ৭টায় অনুষ্ঠিত হবে। তবে আবহাওয়া প্রতিকূল থাকলে প্রধান জামাত সকাল ৮টায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে স্থানান্তরিত করা হবে।
ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব মামুন আল মোর্শেদ চৌধুরী এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সম্প্রতি ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ঈদুল আযহা উদযাপন নিয়ে অনুষ্ঠিত এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় এবং সভার সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলো ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে।
জাতীয় ঈদগাহে অনুষ্ঠিতব্য এই প্রধান জামাত ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। এই জামাতে সাধারণত রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, কূটনীতিক এবং বিভিন্ন স্তরের সাধারণ মানুষ অংশ নিয়ে থাকেন।
বায়তুল মোকাররমে ৫টি জামাত
জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে পবিত্র ঈদুল আযহার পাঁচটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এখানে প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৭টায়।
এসব জামাতে ইমামতি ও মুকাব্বিরের দায়িত্ব পালনকারী আলেম ও সংশ্লিষ্টদের তালিকা চূড়ান্ত করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন (ইফা)।
ইফার পক্ষ থেকে দায়িত্বপ্রাপ্তদের তালিকা গণমাধ্যমে পাঠানো হয়েছে। এর আগে ইফার দ্বীনি দাওয়াত ও সংস্কৃতি বিভাগের পরিচালক ড. মোহাম্মদ হারুনূর রশীদ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ তালিকা চূড়ান্ত করা হয়।
প্রথম জামাত সকাল ৭টায় অনুষ্ঠিত হবে। এতে ইমামতি করবেন বায়তুল মোকাররমের সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মুফতি মো. মিযানুর রহমান। এখানে মুকাব্বির হিসেবে থাকবেন মসজিদের মুয়াজ্জিন ক্বারি ইসহাক।
দ্বিতীয় জামাত সকাল ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে। এতে ইমাম হিসেবে থাকবেন ফাউন্ডেশনের জাকাত ফান্ড বিভাগের পরিচালক (রুটিন দায়িত্ব) ড. মাওলানা ওয়ালীয়ূর রহমান খান। মুকাব্বিরের দায়িত্ব পালন করবেন মসজিদের চিফ খাদেম মো. নাসির উল্লাহ।
তৃতীয় জামাত সকাল ৯টায় অনুষ্ঠিত হবে। এতে ইমামতি করবেন ফাউন্ডেশনের মুফতি মো. আব্দুল্লাহ। মুকাব্বির হিসেবে থাকবেন মো. রুহুল আমিন।
চতুর্থ জামাত সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হবে। এতে ইমামতি করবেন ইফার দ্বীনি দাওয়াত ও সংস্কৃতি বিভাগের উপ-পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মাওলানা মোহাম্মদ নূর উদ্দীন। মুকাব্বিরের দায়িত্ব পালন করবেন মো. আব্দুল হাদী।
পঞ্চম বা সর্বশেষ জামাত সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে অনুষ্ঠিত হবে। এতে ইমামতি করবেন ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমির ধর্মীয় প্রশিক্ষক জুবাইর আহাম্মদ আল-আযহারী। মুকাব্বির হিসেবে থাকবেন মো. আমির হোসেন।
নির্ধারিত কোনো জামাতে ইমাম অনুপস্থিত থাকলে বিকল্প ইমাম হিসেবে ফাউন্ডেশনের সহকারী লাইব্রেরিয়ান মো. শহিদুল ইসলাম দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া বিকল্প মুকাব্বির হিসেবে মো. শামসুল হক দায়িত্ব পালন করবেন।
সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্ধারিত সময়ের আগে মসজিদে উপস্থিত হয়ে পবিত্র ঈদুল আযহার জামাতে অংশ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।
শোলাকিয়ায় সকাল ৯টায়
কিশোরগঞ্জ সংবাদদাতা : কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠে এবার পবিত্র ঈদুল আযহার জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৯টায়। ১৯৯তম জামাতে ইমামতি করবেন মুফতি আবুল খায়ের মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ।
জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত শোলাকিয়া ঈদগাহ পরিচালনা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
সভায় ঈদ জামাত উপলক্ষে সার্বিক প্রস্তুতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মুসল্লিদের যাতায়াত ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
প্রতিবছরের ধারাবাহিকতায় এবারও দূর-দূরান্ত থেকে আগত মুসল্লিদের সুবিধার্থে “শোলাকিয়া এক্সপ্রেস” নামে দুটি বিশেষ ট্রেন চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া মুসল্লিদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ২ প্লাটুন বিজিবির পাশাপাশি র্যাব, পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে।
সভায় জেলা প্রশাসক ও শোলাকিয়া ঈদগাহ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিন বলেন, শোলাকিয়ার ঈদ জামায়াত দেশের অন্যতম বড় ধর্মীয় সমাবেশ। মুসল্লিরা যাতে নিরাপদ ও নির্বিঘেœ নামাজ আদায় করতে পারেন, সে জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে। কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি যাতায়াত, ওজু, বিশুদ্ধ পানি ও স্বাস্থ্যসেবার বিষয়েও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।