বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘‘আমি প্রশাসনকে স্পষ্টভাবে বলতে চাই, আপনারা যদি বলেন, সরকার দলীয় সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহত শিবির নেতা শহীদ সাইফুল্লাহ বারী ও জামায়াত কর্মী সালাউদ্দিন আহমেদের হত্যাকারী অপরাধীরা আপনাদের নজরদারিতে আছে, তাহলে ব্যবস্থা নিতে অসুবিধা কোথায়? যাকে নজরদারিতে রেখেছেন, তাকে তুলে নিয়ে এসে আইনের আওতায় আনুন। মানুষকে আইন নিজের হাতে তুলে নিতে বাধ্য করবেন না। প্রশাসন কোনো দলের নয়। প্রশাসন গোটা জাতির সম্পদ। প্রশাসনকে নিরপেক্ষভাবে তার দায়িত্ব পালন করতে হবে। দল আসবে, দল যাবে। ক্ষমতা কারও জন্য চিরস্থায়ী নয়। আল্লাহ যাকে চান ক্ষমতা দেন এবং যাকে চান ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেন।’’

আজ ১০ আগস্ট (সোমবার) গাইবান্ধার সাঘাটায় সরকার দলীয় সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহত শিবির নেতা শহীদ সাইফুল্লাহ বারী ও জামায়াত কর্মী সালাউদ্দিন আহমেদের কবর জিয়ারত শেষে সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়াস্থ কাজী আজহার আলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ‘খুনিদের বিচারের দাবি ও সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে’ অনুষ্ঠিত বিশাল জনসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

Jamaat Ameer Dr. Shafiqur Rahman in Gaibandha1

জামায়াত আমীর ডা. শফিকুর রহমান কবর জিয়ারত ও শোকাহত দুই পরিবারের বাবা-মাসহ স্বজনদের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন। তাদের খোঁজখবর নেন এবং সান্ত্বনা প্রদান করেন। মহান রব্বুল আলামীনের দরবারে তাদের নিয়ে দোয়া করেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দুঃখভারাক্রান্ত মন নিয়ে আজ আমি আপনাদের কাছে এসেছি। আমরা শুনেছি, আপনারা আমাদের দুই শহীদের পরিবারের কাছে গিয়েছেন, তাঁদের সান্ত্বনা দিয়েছেন এবং তাঁদের জন্য দোয়া করেছেন। আমরা আপনাদের জন্য আর কী দোয়া করব? বরং আপনারা সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন-মহান আল্লাহ যেন আমাকে দেশের জনগণের জন্য, মানবতার জন্য এবং মানুষের কল্যাণের জন্য লড়াই করতে গিয়ে শহীদ হিসেবে কবুল করেন।

যাঁরা মানুষের কল্যাণে জীবন দিয়ে চলে যান, তাঁদের জন্য আল্লাহর কাছে রয়েছে মহা সম্মান। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেছেন, সালাত ও সবরের মাধ্যমে তাঁর সাহায্য চাইতে। আর যারা আল্লাহর পথে জীবন দিয়েছেন, তাঁদের মৃত বলতে নিষেধ করেছেন। তাঁরা জীবিত, কিন্তু আমরা তা উপলব্ধি করতে পারি না।

তিনি আরও বলেন, আমরা দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছর জুলুম-নির্যাতন সহ্য করেছি। মজলুম হয়ে আমরা কি আবারও জুলুমের পথে ফিরে যাব? নির্বাচনের পর সরকার গঠনের পরও যদি সরকারের লোকদের হাতে মানুষকে বঞ্চিত হতে হয়, তাহলে সেই পরিবর্তনের অর্থ কী? এই দেশ জনগণের ট্যাক্সের টাকায় চলে। জনগণের অধিকার থেকে কাউকে বঞ্চিত করার অধিকার কারও নেই। গাইবান্ধা, রংপুর, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাটসহ বৃহত্তর উত্তরাঞ্চলের জনগণকে যারা বঞ্চিত করবে, তারা জনগণের শত্রু ভোটের অধিকারে নির্লজ্জ হস্তক্ষেপের নাম গণতন্ত্র হতে পারে না।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, আমরা নির্বাচনের আগে ঘোষণা দিয়েছিলাম, আল্লাহ যদি আমাদের সরকার গঠনের সুযোগ দেন, তাহলে আমরা পুরো উত্তরবঙ্গকে কৃষির রাজধানী হিসেবে গড়ে তুলব, ইনশাআল্লাহ। সরকার গঠন করতে পারিনি, এ নিয়ে আমাদের কোনো আফসোস নেই। কিন্তু সেই দাবি আমরা সংসদের ভেতরে তুলে ধরেছি এবং ভবিষ্যতেও তুলে ধরব। সুযোগ পেলে আমরা তা বাস্তবায়ন করব, ইনশাআল্লাহ।

তিনি আরও বলেন, আমি যেখানেই গিয়েছি, মানুষের কাছ থেকে শুনেছি; এই দুই তরুণ ছিলেন এলাকার শ্রেষ্ঠ সন্তান। অথচ দুই তরুণকে বিনা অপরাধে হত্যা করা হলো। আমরা চাই না আর কোনো মায়ের বুক খালি হোক। আর কোনো বাবাকে সন্তানের লাশ কাঁধে নিতে হোক। এই দুই শহীদের মায়ের চোখের পানি আপনারা আমার চেয়ে বেশি দেখেছেন। আজ এসে আমি তার সাক্ষী হয়েছি। আমরা হত্যার রাজনীতি চাই না।

তিনি বলেন, ক্ষমতার লোভ, দখলদারিত্ব ও চাঁদাবাজি মানুষকে অমানবিক করে তোলে। টেম্পোস্ট্যান্ড থেকে শুরু করে সমাজের কোনো জায়গাই দখলদারিত্ব ও চাঁদাবাজির বাইরে থাকবে না, এটা হতে পারে না। ২০২৪-এর বিপ্লব হয়েছিল সমাজ থেকে সব ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করার জন্য। যারা চাঁদাবাজি করে, দখলদারিত্ব করে এবং মানুষের জীবন কেড়ে নেয়, তারা সমাজের আবর্জনা। এই আবর্জনা পরিষ্কার করতে হবে, ইনশাআল্লাহ।

বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিগত দিনে অনেক নিরীহ মানুষকে নির্যাতন করা হয়েছে, খুন করা হয়েছে, গুম করা হয়েছে, পঙ্গু করা হয়েছে, মামলা দিয়ে জেলে পাঠানো হয়েছে। কারও জন্য জেলখানাকে বাসস্থান বানানো হয়েছে। অসংখ্য মায়ের বুক খালি হয়েছে, স্ত্রী বিধবা হয়েছেন, সন্তান এতিম হয়েছে। এটি কোনো নির্দিষ্ট দলের সমস্যা নয়। এটি একটি রাজনৈতিক ভাইরাস। ফ্যাসিবাদকে বাংলাদেশের জনগণ পরাজিত করেছে। আমরা বাংলাদেশে আর কোনো ফ্যাসিবাদ দেখতে চাই না। বাংলার জমিনে আমরা আর কোনো স্বৈরাচারকে প্রশ্রয় দেব না।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালে ভাই-বোনেরা সবাই রাস্তায় নেমে এসেছিলেন। মায়েরা ১০ মাসের শিশু সন্তান নিয়েও রাস্তায় নেমেছিলেন। প্রয়োজনে আবারও আমাদের রাস্তায় নামতে হবে। জাতির প্রয়োজনে একবার নয়, শতবারও নামতে আমরা প্রস্তুত, ইনশাআল্লাহ। যতদিন আল্লাহ জীবন দেবেন, যতদিন চলার শক্তি দেবেন, ততদিন জাতির প্রয়োজনে আমরা মাঠে থাকব। আমরা কাপুরুষ নই। আমরা দুর্বল নই।

তিনি আরও বলেন, আমরা এমন বাংলাদেশ চাই, যেখানে আমাদের শিশুরা নিরাপদ থাকবে, আমাদের মেয়েরা নিরাপদ থাকবে, আমাদের বোনেরা নিরাপদ থাকবে, আমাদের মায়েরা নিরাপদ থাকবে, আমাদের যুবকরা নিরাপদ থাকবে এবং আমাদের প্রবীণরা নিরাপদ থাকবে। আমরা চাই, সকল ধর্মের মানুষ নিরাপদ থাকুক, সকল বর্ণের মানুষ নিরাপদ থাকুক, এ দেশের সকল ভাষাভাষী মানুষ নিরাপদ থাকুক। বাংলাদেশ হবে সকলের জন্য নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশ।

তিনি বলেন, যারা ক্ষমতায় এসেছেন, তাঁরা বলেছিলেন, দলীয় শাসন কায়েম করবেন না। কিন্তু এখন যদি প্রশাসন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসার কমিটিসহ সর্বত্র দলীয় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা হয়, তাহলে প্রশ্ন উঠবেই, এটা কী হচ্ছে? শিক্ষক নিয়োগে টাকা, প্রতিষ্ঠানের কমিটি দখল, ছাত্রছাত্রী ও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিভিন্নভাবে অর্থ আদায়; এই সংস্কৃতি আমরা বন্ধ করতে চাই। আমরা দুর্নীতি বন্ধ করতে চাই। আমরা দখলদারিত্ব বন্ধ করতে চাই। আমরা চাঁদাবাজি বন্ধ করতে চাই। আমরা একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়তে চাই।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ কোনো একটি দলের নয়; বাংলাদেশ সকলের। এ কারণেই গণভোটের মাধ্যমে জনগণের মতামত নেওয়া হয়েছে। জনগণ তাদের রায় দিয়েছে। যারা জনগণের রায়ের কথা বলেছিল, তাদের এখন সেই রায়কে সম্মান করতে হবে। আমি পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, গণভোটের রায় অমান্য করলে শুধু ‘না’ থাকবে না, একসময় সেই ‘না’ও ‘নাই’ হয়ে যাবে। জনগণের রায়কে অগ্রাহ্য ও অপমান করে অতীতে কেউ টিকে থাকতে পারেনি, শান্তি পায়নি, সম্মান পায়নি। আপনারা যদি গণরায়ের সাথে তামাশা করেন, তাহলে যখন জনগণ জেগে উঠবে, তখন তার পরিণতি আপনাদের ওপরই বর্তাবে।

তিনি বলেন, যারা আপনাদের আজ প্রশংসা করছে, হয়তো মনে হচ্ছে তারা আপনাদের পক্ষে বাতাস দিচ্ছে। কিন্তু মনে রাখবেন, এই বাতাস একদিন আপনাদেরই উড়িয়ে নিয়ে যেতে পারে। আমরা তা চাই না। আপনারা সঠিক পথে ফিরে আসুন। জনগণের রায় মেনে নিন। প্রয়োজনীয় সংস্কার করুন। মানুষের জন্য গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশের পথ খুলে দিন। আপনারা যদি সেই পথ খুলে দেন, আমরা বিরোধী দল হিসেবে আপনাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করব। কিন্তু যে পথে আগের স্বৈরাচারী সরকার হেঁটেছিল, সেই পথে আপনারা হাঁটবেন না। যে পথে আগের সরকার হেঁটেছিল, সেই পথে যারা হাঁটবে, তাদেরও একদিন পালানোর পথ খুঁজতে হবে।

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এ দেশের মানুষ আর কোনো আধিপত্যবাদ মেনে নেবে না। বাংলাদেশের ওপর কোনো বিদেশি শক্তির খবরদারি আমরা চাই না। কোনো অপশক্তির কাছে মাথানত করব না, ইনশাআল্লাহ। আমরা মাথা উঁচু করে বাঁচতে চাই। যতদিন বেঁচে থাকব, মানুষ হিসেবে বাঁচতে চাই। কারও গোলাম হিসেবে বাঁচতে চাই না। সংগ্রাম চলছে, সংগ্রাম চলবে। ইনশাআল্লাহ বিজয় হবে। মানুষের বিজয় হবে।

গাইবান্ধা-৫ (সাঘাটা-ফুলছড়ি) আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল ওয়ারেছের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ জনসমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চল পরিচালক মাওলানা আবদুল হালিম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিন, বগুড়া জেলা আমীর আব্দুল হক, গাইবান্ধা জেলা আমীর আব্দুল করিম এমপি, মাওলানা নজরুল ইসলাম এমপি, অধ্যাপক মাজেদুর রহমান এমপি, গাইবান্ধা জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইউসুফ আল কার্যাভী ও সেক্রেটারি ফাহিম মন্ডল প্রমুখ।

জনসমাবেশ যৌথভাবে পরিচালনা করেন জেলা জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি সৈয়দ রোকনুজ্জামান ও জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ফয়সাল কবির রানা। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন শহীদ সাইফুল্লাহ বারীর পিতা জনাব হাবিবুর রহমান, শহীদ সালাউদ্দিন আহমেদের পিতা জনাব শামসুল ইসলাম দুদু, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও বগুড়া মহানগরী আমীর মাওলানা আবিদুর রহমান সোহেল, সাঘাটা উপজেলা জামায়াতের আমীর ইবরাহিম হোসাইন ও সেক্রেটারি জনাব আব্দুল গফুর এবং ফুলছড়ি উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা সিরাজুল ইসলামসহ স্থানীয় জামায়াত ও শিবিরের নেতৃবৃন্দ।

জনসমাবেশের বিশেষ অতিথি মাওলানা আবদুল হালিম বলেন, সকল শহীদরা আমাদের কাছে সম্পদ। আমীরে জামায়াত তাঁদের পরিবারের খবর নিয়মিত নিয়েছেন। শহীদ সালাউদ্দিন আহমেদকে ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আমীরে জামায়াত নিজে দেখেছেন, বারবার তাঁর খোঁজখবর নিয়েছেন এবং শাহাদাতের আগ পর্যন্ত তাঁর চিকিৎসার বিষয়ে অবগত থেকেছেন। শুধু তাই নয়, শাহাদাতের পর তাঁর জানাজা থেকে শুরু করে দাফন পর্যন্ত প্রতিটি মুহূর্তের খবর তিনি রেখেছেন। আমাদের মানবিক নেতা, আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেই আজ গাইবান্ধার সাঘাটায় ছুটে এসেছেন।

তিনি বলেন, আজ আমরা অত্যন্ত দুঃখজনক একটি ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে এখানে এসেছি। একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র ও যুব সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংঘটিত ঘটনায় দুজন মানুষের প্রাণ চলে গেছে। এটা কোনো সভ্য ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মানুষের প্রত্যাশা হতে পারে না। সম্প্রতি হবিগঞ্জে একজন ছাত্র তার চোখ হারিয়েছে। আমরা প্রশ্ন করতে চাই তার হারানো চোখের দৃষ্টি কি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ফিরিয়ে দিতে পারবেন? আমরা প্রধানমন্ত্রীকে প্রশ্ন করতে চাই শহীদ সাইফুল্লাহ এবং শহীদ সালাউদ্দিনের মা-বাবাকে আপনি কি সান্ত্বনা দেবেন? অথচ আমাদের আমীরে জামায়াত তাঁদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে এসেছেন। তাঁদের মায়ের কান্না তিনি দেখেছেন। দুই শহীদের মায়ের কান্না থামানো যাচ্ছে না।

তিনি শহীদদের দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানিয়ে বলেন, এই ঘটনায় ছয়জনকে অভিযুক্ত করে মামলা করা হয়েছে। কিন্তু এখনও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। অভিযুক্ত সন্ত্রাসী যদি প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ায়, তাহলে এটি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা এই তামাশা দেখতে চাই না। আমি প্রশাসনের প্রতি স্পষ্টভাবে বলতে চাই, চিহ্নিত সন্ত্রাসী পলাশকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করতে হবে। যদি তাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করা না হয়, তাহলে এর দায়দায়িত্ব প্রশাসনকেই নিতে হবে।

তিনি জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, আপনারা এই জনসমাবেশ দেখছেন। আমরা আইনের শাসনে বিশ্বাস করি। আমরা চাই না জনগণ আইন নিজের হাতে তুলে নিক। আপনারা জনগণকে আইন নিজের হাতে তুলে নিতে বাধ্য করবেন না। দুজন মানুষকে হত্যা করার পর একজনের জানাজা আমরা এক মাস আগে পড়েছি, আরেকজনের জানাজা গতকাল হয়েছে। সরকারি দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হওয়ার কারণে যদি আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রয়োগ না হয়, তাহলে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবেই; তা দেশবাসীর কাম্য নয়।

তিনি আরও বলেন, আমাদের মনে পড়ে শহীদ রাজবুল হক সরকার প্লাবনের কথা। তিনি পলাশবাড়ীর একজন এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন। তাঁকে হত্যার অভিযোগও উঠেছিল তৎকালীন বিএনপির ছাত্র ও যুব সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। পলাশবাড়ীর মানুষ সেই ইতিহাস জানেন। আজ এখানে আমরা দুজনকে হারিয়েছি। নির্বাচনের পর থেকে এ পর্যন্ত জামায়াতে ইসলামীর পাঁচজন নেতা-কর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা অতীতের কথাও ভুলিনি। হাসিনা সরকারের আমলে জামায়াতে ইসলামীর বহু নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে, গুম করা হয়েছে, গ্রেপ্তার ও নির্যাতন করা হয়েছে। শীর্ষ নেতৃবৃন্দসহ অসংখ্য নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। বহু মানুষ গুম হয়েছেন, হাজার হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার ও কারাবন্দি করা হয়েছে। আজ সেই সরকার ক্ষমতায় নেই। কিন্তু আমরা প্রশ্ন করতে চাই, যারা আজ ক্ষমতায় আছেন, তারা কি সেই পুরোনো সন্ত্রাস ও দখলদারিত্বের পথেই হাঁটবেন? আপনারা একসময় মজলুম ছিলেন, এটা আমরা বুঝি। আমরাও আপনাদের মজলুম অবস্থার কথা জানি। কিন্তু এখন যদি সন্ত্রাসের হাত আপনারা না গুটিয়ে নেন, তাহলে এই দেশের জনগণ আবারও আপনাদের জবাব দিতে বাধ্য হবে, ইনশাআল্লাহ।

মাওলানা আবদুল হালিম শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস প্রসঙ্গে বলেন, শুধু গাইবান্ধার সাঘাটায় নয়, আপনারা দেখছেন, সরকারি দলের ছাত্র সংগঠন বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাঙ্গনে একের পর এক অস্থিরতা সৃষ্টি করছে। অতীতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অস্থিরতা সৃষ্টি করে কেউ টিকে থাকতে পারেননি। আগামী দিনেও সাম্য, ন্যায় ও জনগণের আন্দোলনের মুখে আপনারা টিকে থাকতে পারবেন না, ইনশাআল্লাহ। আমরা চাই শিক্ষাঙ্গনে শান্তি ফিরে আসুক। শিক্ষার্থীরা নিরাপদে পড়াশোনা করুক। কোনো রাজনৈতিক দলের সন্ত্রাসের কারণে শিক্ষার্থীদের জীবন ও শিক্ষাজীবন ধ্বংস হবে, এটা আমরা চাই না।

এই বিচার যদি বর্তমান সরকার করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে মনে রাখতে হবে, এই সরকারই শেষ সরকার নয়। সরকার পরিবর্তন হবে, কিন্তু শহীদদের হত্যার বিচার একদিন অবশ্যই হবে, ইনশাআল্লাহ। সাঘাটার মানুষ সেই বিচার দেখতে পাবেন, ইনশাআল্লাহ। আসুন, আমরা শহীদদের পরিবারের পাশে ঐক্যবদ্ধ থাকি।

৫ আগস্টের বিপ্লব এবং জুলাই বিপ্লবের যে আকাঙ্ক্ষা ছিল, বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ, অন্যায়-অবিচারমুক্ত বাংলাদেশ, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে হবে। শহীদ আবু সাঈদসহ যারা জীবন দিয়েছেন, তাঁদের আত্মত্যাগকে আমরা বৃথা যেতে দিতে পারি না। জনগণ ভোটের মাধ্যমে এবং গণভোটের মাধ্যমে যে রায়ের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, সেই রায় বাস্তবায়ন করতে হবে। গণভোটের রায় বাস্তবায়নের জন্য আমাদের ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে, ইনশাআল্লাহ।

তিনি বলেন, আমরা চাই এমন একটি বাংলাদেশ, যেখানে আইনের শাসন থাকবে, যেখানে সন্ত্রাস থাকবে না, যেখানে চাঁদাবাজি থাকবে না, যেখানে দখলদারিত্ব থাকবে না, যেখানে মানুষের ভোটের অধিকার থাকবে, যেখানে শহীদের রক্তের মর্যাদা দেওয়া হবে। ইনশাআল্লাহ, আমরা সেই বাংলাদেশ গড়ে তুলব। আল্লাহ আমাদের সহায় হোন।