ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে গাজীপুরে ব্যাপক নিরাপত্তা প্রস্তুতি নিয়েছে জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনের ৯৩৫টি ভোটকেন্দ্রকে সিসিটিভি নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। একইসঙ্গে প্রায় সাড়ে ১৮ হাজার পুলিশ, আনসার, সেনাবাহিনী, বিজিবি ও র্যাব সদস্য নির্বাচনী শৃঙ্খলা রক্ষায় মাঠে কাজ করছেন।
বুধবার দুপুরে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান গাজীপুর জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলম হোসেন। তিনি বলেন, 'ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন, সে লক্ষ্যেই প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। ৯৩৫টি ভোটকেন্দ্র সিসিটিভির আওতায় আনা হয়েছে, যাতে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা দ্রুত শনাক্ত ও প্রতিরোধ করা যায়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কেন্দ্রের ভেতরে ও বাইরে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবেন।'
তিনি আরও জানান, নির্বাচনী শৃঙ্খলা রক্ষা ও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলার বিভিন্ন এলাকায় ৩৮টি মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হচ্ছে, প্রতিটি মোবাইল কোর্টের দায়িত্বে একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত রয়েছেন। এসব টিম নিয়মিত টহল, চেকপোস্ট কার্যক্রম ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে যেকোনো অনিয়ম বা বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে।
রিটার্নিং কর্মকর্তা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুর জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনে মোট ৪২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জেলার মোট ভোটার সংখ্যা ২৭ লাখ ৩৮ হাজার ২৪৯ জন। ভোটগ্রহণকে ঘিরে ইতোমধ্যে ব্যালট পেপার ও প্রয়োজনীয় নির্বাচনী সামগ্রী কেন্দ্রে কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত তৎপরতায় ভোটারদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভোটের দিন যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিরাপত্তা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।