মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট) সংবাদদাতা : বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান অফিস সহকারী কাম হিসাব রক্ষক মো. রেজোয়ান হোসেন মাতুব্বরের বিরুদ্ধে নানাবিদ অনিয়ম ও দুর্নীতি অভিযোগ উঠলেও এখনো বহাল তবিয়তে সেই হিসাব রক্ষক। অবসরে যাওয়া এক সিনিয়র নার্সের পেনশন, জিপি ফান্ড, জনকল্যান, কল্যাণ তহবিলের কাগজপত্র ঠিক করে দেয়ার কথা বলে মোটা অংকের টাকা হতিয়ে নেয়ার অভিযোগ এনে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষে তার ছেলে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েও একমাস অতিবাহিত হলেও তদন্তের নামে গড়িমসি, নেয়া হয়নি কোনো ব্যবস্থা।
প্রাপ্ত অভিযোগে জানা গেছে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান অফিস সহকারী কাম হিসাব রক্ষক মো. রেজোয়ান হোসেন মাতুব্বর ১৯৮৯ সালে প্রথমে এমএলএস পদে হাসপাতালে যোগদান করেন। পরবর্তীতে তিনি পদোন্নতি পেয়ে ২০১৮ সাল থেকে প্রধান অফিস সহকারী কাম হিসাব রক্ষক পদে মোরেলগঞ্জ হাসপাতালে দীর্ঘ ৮ বছর ধরে কর্মরত রয়েছেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিজ জন্মভূমি এ উপজেলায় কর্মরত থাকার সুবাধে বিভিন্নন সময় এ হাসপাতালে অবসরে যাওয়া কর্মকর্তা কর্মচারীর নিকট থেকে পেনশনের কাগজপত্র ঠিক করার কথা বলে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার একাধিক অভিযোগ রয়েছে। কাঠালতলা গ্রামের বাসিন্দা দুলাল কৃষ্ণ শিকদারের স্ত্রী হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স মিনা রানী ঠাকুর ২০২০ সালের ১৪ জুন করোনাকালীন তার মৃত্যু হওয়ায় তার নামের পেনশনসহ সকল তহবিলের অর্থ উত্তোলন কাগজপত্র ঠিক করে দেয়ার কথা বলে এককালীন আড়াই লাখ টাকা পরবর্তীতে কয়েক দফায় সর্বমোট ৫ লাখ টাকা হতিয়ে নেয় হিসাব রক্ষক রেজোয়ান মাতুব্বর এরকম অভিযোগ এনেছেন নার্স মিনা রানীর ছেলে সুভংকর শিকদার। অভিযোগে সুভংকর শিকদার আরো বলেন, চুক্তিভিত্তিক টাকা নিয়ে হিসাবরক্ষক তার মায়ের পেনশনের কোনো কাজ না করিয়ে তালবাহানা করে বছরের পর বছর এরকম ৪ বছর ঘুরেও সমাধান না পেয়ে তিনি নিজেই পুনরায় অর্থ ব্যয় করে তার মায়ের পেনশনের টাকাসহ অন্যান্য তহবিলের অর্থ উত্তোলন করেন। এছাড়া সুভংকরের নিকট থেকে আরো ১লক্ষ টাকা ধার বাবদ নিয়ে ৫০ হাজার টাকা ফেরত দেয়। বাকী টাকা না দিয়ে বছরের পর বছর তালবাহানা করছে। উক্ত হিসাবরক্ষক রেজোয়ান মাতুব্বর তার নিজ বাড়িতে পাকা ভবনে কাজ করিয়ে রাজমিস্ত্রি মোহাম্মদ আলীর শ্রমিকের মজুরির সম্পূর্ন টাকা পরিশোধ না করে ছেলে ছাত্রলীগ নেতার প্রভাব খাটিয়ে হুমকি দেয় ওই শ্রমিককে। স্থানীয় পর্যায়ে সালিশ বৈঠকে শ্রমিকের মজুরির টাকা পরিশোধের সিদ্ধান্ত হলেও পাওনা টাকা দি”েছনা প্রভাবশালী রেজোয়ান মাতুব্বর বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী ওই রাজমিস্ত্রীর। সুচতুর এ হিসাবরক্ষক ৮ বছর ধরে একই কর্মস্থলে থাকার সুবাধে নামে বেনামে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। বিগত ৪/৫ বছরের ব্যবধানে পৌর শহরে জমি ক্রয় করে গড়ে তুলেছেন একাধিক পাকা ভবন বাড়ি। স্থানীয়দের অভিযোগ রয়েছে বিগত ক্ষমতাসিনদের কাঁধে ভর করে তিনি এ সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন।
হাসপাতালের প্রধান অফিস সহকারী কাম হিসাব রক্ষক মো. রেজোয়ান হোসেন মাতুব্বর তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি নার্স মিনা রানীর পেনশনের কাগজপত্র ঠিক করা বাবদ কোনো টাকা নেননি। ধার নেয়া ১ লক্ষ টাকার ২৫ হাজার টাকা তার নিকট সুভংকর শিকদার পাবেন।