কুষ্টিয়ার কুমারখালী পৌরসভায় ভোটার স্থানান্তরকে কেন্দ্র করে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন পৌরসভার মেয়র পদপ্রার্থী ও কুমারখালী উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. আতিকুর রহমান সবুজ। তবে অভিযোগটি নাকচ করে সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কর্মকর্তা এটিকে ‘ভুল বোঝাবুঝি’ বলে দাবি করেছেন।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে আতিকুর রহমান সবুজ অভিযোগ করেন, কুমারখালী পৌরসভায় বিপুলসংখ্যক ভোটার স্থানান্তর করা হয়েছে। এসব ভোটার স্থানান্তর যথাযথ নিয়ম মেনে হয়েছে কি না এবং স্থানান্তরিত ব্যক্তিরা প্রকৃতপক্ষে পৌরসভার বাসিন্দা কি না—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিষয়টি যাচাই করে জনসম্মুখে পরিষ্কার করার দাবি জানান তিনি।
ফেসবুক পোস্টে আতিকুর রহমান সবুজ দাবি করেন, ২৪ নভেম্বর থেকে কুমারখালী পৌরসভায় দেড় হাজারের বেশি ভোটার স্থানান্তর করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, ভোটার স্থানান্তরের শেষ তারিখ ছিল ৭ সেপ্টেম্বর। মেয়র পদপ্রার্থী হিসেবে এ বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশনের কাছে স্বচ্ছ ব্যাখ্যা দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি হতে চান তিনি। ভোটার তালিকা বা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অনিয়ম থাকলে তা আইনানুগভাবে প্রতিহত করার চেষ্টা করবেন। একই সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের আইনানুগ পরামর্শ ও সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগটি নাকচ করে বলেন, ভোটার স্থানান্তরের পুরো প্রক্রিয়া নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত বিধিবিধান অনুসরণ করেই সম্পন্ন হয়েছে। এ নিয়ে তৈরি হওয়া অভিযোগ বা সংশয় মূলত ভুল বোঝাবুঝির কারণে হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বলেন, “ভোটার স্থানান্তরের ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম করা হয়নি। প্রয়োজনীয় আবেদন, তথ্য যাচাই-বাছাই এবং নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই ভোটার স্থানান্তরের আবেদনগুলো নিষ্পত্তি করা হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, ভোটার স্থানান্তরের জন্য নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত নিয়ম ও প্রক্রিয়া রয়েছে। সেই বিধিবিধান অনুসরণ করেই সংশ্লিষ্ট আবেদনগুলো যাচাই করে কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে।
এদিকে একদিকে মেয়র পদপ্রার্থী আতিকুর রহমান সবুজ ভোটার স্থানান্তরের সংখ্যা ও প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে স্বচ্ছতা দাবি করেছেন, অন্যদিকে নির্বাচন অফিস বলছে, পুরো কার্যক্রম নিয়ম মেনেই হয়েছে। ফলে বিষয়টি নিয়ে তৈরি হওয়া সংশয় নিরসনে ভোটার স্থানান্তরের প্রক্রিয়া ও সংশ্লিষ্ট তথ্য সম্পর্কে নির্বাচন কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত ব্যাখ্যা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।