জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমকে আরও দ্রুত, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও গতিশীল করতে প্রযুক্তিনির্ভর যোগাযোগ ব্যবস্থা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ।

তিনি বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয় ও অধিভুক্ত কলেজগুলোর মধ্যে দ্রুত ও সরাসরি যোগাযোগ নিশ্চিত করা গেলে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন যেমন সহজ হবে, তেমনি মাঠপর্যায়ের সমস্যা ও মতামতও দ্রুত নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে পৌঁছানো সম্ভব হবে।

এ লক্ষ্যেই অধিভুক্ত কলেজগুলোর সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ আরও সহজ, দ্রুত ও কার্যকর করতে ‘Connecting Every Campus’ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এর আওতায় অধিভুক্ত কলেজগুলোর অধ্যক্ষদের কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্পোরেট সিম পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের হবিগঞ্জ আঞ্চলিক কেন্দ্রে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অধ্যক্ষদের মধ্যে গ্রামীণফোনের কর্পোরেট সিম বিতরণ করেন ভিসি প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ।

ভিসি বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজিটাল কার্যক্রমকে আরও আধুনিক, গতিশীল ও শিক্ষার্থী-কলেজবান্ধব করতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খুব শিগগিরই অধিভুক্ত কলেজগুলোর জন্য উচ্চগতির ইন্টারনেট সুবিধা নিশ্চিত করার উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে। পাশাপাশি লার্নিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (LMS) ও এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (EMS)-এর কার্যকারিতা ও সক্ষমতা বাড়াতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি বিভাগকে আরও আধুনিক ও শক্তিশালী করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর একটি সমন্বিত শিক্ষা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের লক্ষ্য। এর মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা অধিভুক্ত কলেজগুলো দ্রুত ও নিরবচ্ছিন্নভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারবে। এ লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাটা ক্যাপাসিটিও শিগগির বাড়ানো হবে।

‘Connecting Every Campus’ কর্মসূচির গুরুত্ব তুলে ধরে প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ বলেন, অধিভুক্ত কলেজগুলোর অধ্যক্ষদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সরাসরি ও দ্রুত যোগাযোগ নিশ্চিত করতেই এ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এর ফলে জরুরি নির্দেশনা, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, পরীক্ষা ও শিক্ষা কার্যক্রমসহ বিভিন্ন বিষয়ে তথ্য আদান-প্রদান আরও দ্রুত হবে।

তিনি বলেন, কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর তা দ্রুত মাঠপর্যায়ে পৌঁছানো যেমন জরুরি, তেমনি কলেজ পর্যায়ের সমস্যা, প্রয়োজন ও মতামতও সময়মতো বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছানো দরকার। যোগাযোগের এই দুই দিককে শক্তিশালী করাই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। এতে বিশ্ববিদ্যালয় ও অধিভুক্ত কলেজগুলোর মধ্যে যোগাযোগের দূরত্ব আরও কমে আসবে এবং অপ্রয়োজনীয় সময়ক্ষেপণ হ্রাস পাবে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৪০ লাখ শিক্ষার্থীর প্রসঙ্গ তুলে ধরে ভিসি বলেন, প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের সুফল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশাল শিক্ষা পরিবারের প্রতিটি পর্যায়ে পৌঁছে দিতে হবে।

‘Connecting Every Campus’ শুধু যোগাযোগের একটি উদ্যোগ নয়; এটি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশাল শিক্ষা পরিবারের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় ও সংযোগ তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি কলেজগুলোর বাস্তব অভিজ্ঞতা, সমস্যা ও পরামর্শ দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে পৌঁছানোর ব্যবস্থা আরও কার্যকর করা হবে। সবাই সমন্বিতভাবে কাজ করলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা প্রশাসনকে আরও আধুনিক, দ্রুত, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করা সম্ভব।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের হবিগঞ্জ আঞ্চলিক কেন্দ্রের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. আব্দুস সালামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. জি. এম. সরফরাজ, গ্রামীণফোনের পরিচালক নুরুল ফেরদৌস মাসুন্না, জেনারেল ম্যানেজার মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম এবং লিড স্পেশালিস্ট মো. এরশাদুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে হবিগঞ্জ অঞ্চলের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত ৮৫টি কলেজের অধ্যক্ষ অংশগ্রহণ করেন। তাঁদের মধ্যে ‘Connecting Every Campus’ কর্মসূচির আওতায় গ্রামীণফোনের কর্পোরেট সিম বিতরণ করা হয়।