আসন্ন শ্রীপুর পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত মেয়র প্রার্থী ডক্টর মুহাম্মদ হারুন-অর-রশিদ মোল্লা বলেছেন, শ্রীপুর পৌরসভাকে একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও নাগরিকবান্ধব স্বপ্নের নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে চান তিনি। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদক, যানজট ও জলজটমুক্ত পৌরসভা প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি নাগরিক সেবায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও ন্যায়-ইনসাফ নিশ্চিত করাকে অগ্রাধিকার দিতে চান তিনি।

৩১ আগস্ট বিকেলে দৈনিক সংগ্রাম-এর সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন মেয়র প্রার্থী ড. মুহাম্মদ হারুন-অর-রশিদ মোল্লা। দীর্ঘ আলাপচারিতায় তিনি শ্রীপুর পৌরসভার বর্তমান নাগরিক সমস্যা, উন্নয়নের সম্ভাবনা, নির্বাচনী প্রত্যাশা এবং মেয়র নির্বাচিত হলে তাঁর কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন।

দৈনিক সংগ্রামকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ড. হারুন-অর-রশিদ মোল্লা বলেন, একটি পৌরসভা শুধু রাস্তা-ঘাট নির্মাণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। নাগরিকের নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, নির্বিঘ্ন চলাচল, পানি নিষ্কাশন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং দ্রুত ও হয়রানিমুক্ত নাগরিক সেবা নিশ্চিত করাও একটি আধুনিক পৌরসভার দায়িত্ব।

তিনি বলেন, “প্রতিটি নাগরিক তাদের অধিকার বুঝে পাবে। নাগরিকরা হয়রানিমুক্ত সেবা পাবেন। পৌরবাসীকে সেবা পাওয়ার জন্য দিনের পর দিন অফিসে অফিসে ঘুরতে হবে-এমন ব্যবস্থা আমি চাই না।”

জনগণের কাছে যাবে জনপ্রতিনিধি

নাগরিক সেবার ধরন পরিবর্তনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে ড. হারুন-অর-রশিদ মোল্লা বলেন, পৌরসভার জনগণ তাদের সমস্যার কথা জানাতে কেন দৌড়াবে? একজন জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব হলো জনগণের কাছে যাওয়া এবং তাদের সমস্যা খুঁজে বের করা।

তিনি বলেন, “সরেজমিনে গিয়ে খোঁজে খোঁজে নাগরিকদের সমস্যা বের করে সমাধান করা হবে। পৌরসভার জনগণ তাদের সমস্যার কথা জানাতে দৌড়াতে হবে কেন? একজন জনপ্রতিনিধি জনগণের কাছে যাবে।”

নাগরিক সেবার ছোটখাটো বিষয়েও দীর্ঘসূত্রতা দূর করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, একটি সড়কবাতি নষ্ট হলে সেটি ঠিক করতে মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে হবে কেন? তাঁর পরিকল্পনায় এ ধরনের ছোটখাটো নাগরিক সমস্যা দ্রুত সমাধানের ব্যবস্থা থাকবে।

তিনি বলেন, “সামান্য একটি সড়কবাতি নষ্ট হলে মাসের পর মাস লাগে ঠিক করতে। আমি চাই, এমন সমস্যা মাত্র ২০ মিনিটের মধ্যে সমাধান হবে। নাগরিক সেবা মানেই দ্রুত সেবা।”

জন্মনিবন্ধন ও মৃত্যুসনদের মতো মৌলিক নাগরিক সেবা নিয়েও তিনি বলেন, এসব কাজের জন্য মানুষকে হয়রানির শিকার হতে হবে কেন? জন্মনিবন্ধন করতে ঘুরতে হবে কেন, মৃত্যুসনদ নিতে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যেতে হবে কেন? এগুলো দ্রুততম সময়ে, সম্ভব হলে একদিনের মধ্যেই সম্পন্ন করার ব্যবস্থা করা হবে।

অসহায় মানুষের সহায়তার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “একজন অসহায় মানুষ চিকিৎসার জন্য আবেদন করে দিনের পর দিন ঘুরবে কেন? প্রয়োজন যাচাই করে মাত্র একদিনের মধ্যেই তাকে সহযোগিতা দেওয়ার ব্যবস্থা করতে চাই।”

সন্ত্রাস-চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান

সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিষয়ে ড. হারুন-অর-রশিদ মোল্লা বলেন, সাধারণ মানুষ যাতে নিরাপদে বসবাস করতে পারে, ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারে এবং কোনো ধরনের ভয় বা হয়রানির শিকার না হয়, সে পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

নির্বাচিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান তিনি।

মাদকমুক্ত পৌরসভা গড়ার প্রত্যয়

মাদকের বিস্তারকে তরুণ সমাজের জন্য বড় ধরনের হুমকি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব এবং সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিত ভূমিকা প্রয়োজন।

যানজট ও জলজট নিরসনে পরিকল্পিত উদ্যোগ

শ্রীপুর পৌরসভার নাগরিকদের অন্যতম ভোগান্তি যানজট ও জলাবদ্ধতা। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, পানি প্রবাহের পথ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে সমন্বিত পরিকল্পনার আওতায় আনতে হবে।

জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং যানজট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, বাজার ও জনবহুল এলাকাগুলো চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আধুনিক পদ্ধতির ওপর গুরুত্ব

পরিচ্ছন্ন পৌরসভা গড়তে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন ড. হারুন-অর-রশিদ মোল্লা। প্রতিটি এলাকায় নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ এবং নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি কার্যকর ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার কথা জানান তিনি।

ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক নাগরিক সেবার অঙ্গীকার

মেয়র নির্বাচিত হলে দল-মত, শ্রেণি-পেশা নির্বিশেষে সব নাগরিকের জন্য সমানভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। নাগরিক সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বৈষম্য থাকা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, “প্রতিটি নাগরিকের অধিকার রয়েছে সঠিক সময়ে সঠিক সেবা পাওয়ার।” তাই নাগরিক সেবায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও ন্যায়-ইনসাফ প্রতিষ্ঠাকে তিনি অগ্রাধিকার দিতে চান।

শিক্ষা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে দীর্ঘ সম্পৃক্ততা

ড. মুহাম্মদ হারুন-অর-রশিদ মোল্লা পিয়ারআলী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সহকারী অধ্যাপক। তিনি শ্রীপুর পৌর জামায়াতে ইসলামীর প্রফেসর ইউনিটের সভাপতি। পাশাপাশি তিনি লেখক ও গবেষক হিসেবে পরিচিত।

তিনি মোল্লা নগর শিক্ষা পরিবারের প্রতিষ্ঠাতা, শ্রীপুর উপজেলা কলেজ শিক্ষক পরিষদের সভাপতি এবং শ্রীপুর উপজেলা কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র সহ-সভাপতি। ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডেও তাঁর সম্পৃক্ততা রয়েছে। তিনি মোল্লা নগর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব এবং শিরিরচালা ঈদগাহের খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

‘জনগণের রায়ই হবে আমার শক্তি’

নির্বাচন প্রসঙ্গে ড. হারুন-অর-রশিদ মোল্লা বলেন, জনগণের ভালোবাসা ও আস্থাই একজন জনপ্রতিনিধির সবচেয়ে বড় শক্তি। তিনি শ্রীপুর পৌরবাসীর কাছে দোয়া, সমর্থন ও মূল্যবান ভোট প্রত্যাশা করেন।

তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে পৌরবাসীর প্রত্যাশাকে সামনে রেখে একটি কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হবে। নাগরিকদের সমস্যা সরাসরি শোনা, অগ্রাধিকার নির্ধারণ এবং পর্যায়ক্রমে সেগুলোর সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সবশেষে শ্রীপুর পৌরবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, তিনি এমন একটি পৌরসভা দেখতে চান যেখানে নাগরিকরা নিরাপদে চলাফেরা করতে পারবেন, পরিচ্ছন্ন পরিবেশে বসবাস করবেন, জলাবদ্ধতা ও যানজটে দুর্ভোগ কমবে এবং নাগরিক সেবা হবে সহজ, দ্রুত ও জবাবদিহিমূলক।

শ্রীপুর পৌরসভাকে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদক, যানজট ও জলজটমুক্ত করে ন্যায় ও ইনসাফের ভিত্তিতে একটি আধুনিক স্বপ্নের নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে পৌরবাসীর দোয়া, সমর্থন ও রায় প্রত্যাশা করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত মেয়র প্রার্থী ডক্টর মুহাম্মদ হারুন-অর-রশিদ মোল্লা।