গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোঃ শওকত হোসেন সরকারের পক্ষ থেকে টঙ্গী পূর্ব ও পশ্চিম থানার ২০৮টি কিন্ডারগার্টেন স্কুলের মধ্যে ক্রীড়া সামগ্রী, জার্সি ও ফুটবল বিতরণ করা হয়েছে। শিশুদের পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলায় উৎসাহিত করা এবং তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সহায়ক পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার টঙ্গীর ইউনাইটেড মডেল একাডেমিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে এসব ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোঃ শওকত হোসেন সরকারের সহধর্মিনী, কাশিমপুর গার্লস হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও কোনাবাড়ী ডিগ্রি কলেজের সভাপতি মেহনাজ সরকার শিল্পী।

গাজীপুর প্রাইভেট স্কুল অ্যাসোসিয়েশন টঙ্গী পূর্ব থানার সভাপতি মোঃ আব্দুল মতিনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক শাহাবুদ্দিন হাওলাদার ও টঙ্গী পশ্চিম থানার সাধারণ সম্পাদক মোঃ মজিবুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর কেজি স্কুল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আজিজুল ইসলাম মানু, সাধারণ সম্পাদক রওনক উদ্দিন, গাজীপুর প্রাইভেট স্কুল অ্যাসোসিয়েশন টঙ্গী পশ্চিম থানার সভাপতি মুহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ, হাতিমারা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লিজা খন্দকার লাকি, কাশিমপুর গার্লস হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোক্তার হোসেন প্রমুখ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেহনাজ সরকার শিল্পী বলেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় কিন্ডারগার্টেন স্কুলগুলো গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগে গড়ে ওঠা এসব প্রতিষ্ঠান বিপুলসংখ্যক শিশুর শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করছে। তাই শিক্ষার মানোন্নয়নের পাশাপাশি শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের বিষয়টিকেও গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি বলেন, শুধু বইয়ের পড়াশোনা নয়, খেলাধুলাও একটি শিশুর সুস্থ ও সুন্দরভাবে বেড়ে ওঠার অন্যতম মাধ্যম। এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোঃ শওকত হোসেন সরকার মহানগরের সরকারি-বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের খেলাধুলায় উৎসাহিত করতে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছেন। পর্যায়ক্রমে মহানগরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত করা হবে।

মেহনাজ সরকার শিল্পী আরও বলেন, শিশু-কিশোরদের মাঠমুখী করতে গাজীপুর মহানগরের ৫৭টি ওয়ার্ডে খেলার মাঠ ও আধুনিক ক্রীড়া সুবিধা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মাঠের স্বল্পতার কারণে যেন কোনো শিশুকে খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত হতে না হয়, সে লক্ষ্যেই পরিকল্পিতভাবে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

তিনি শিক্ষক, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে শিশুদের নিয়মিত খেলাধুলায় অংশগ্রহণে উৎসাহিত করার আহ্বান জানান।

সংশ্লিষ্টরা বলেন, নগর এলাকায় খেলার মাঠের সংকট দিন দিন বাড়ছে। এ অবস্থায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ এবং নতুন খেলার মাঠ তৈরির উদ্যোগ শিশু-কিশোরদের শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি মাদক, অপরাধ ও নানা ধরনের নেতিবাচক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।