পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার প্রত্যন্ত আমবাড়িয়া ইউনিয়নে ব্যতিক্রমী ৫ কিলোমিটার ম্যারাথন দৌড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তরুণদের খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করা, মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখা এবং রক্তদানে উৎসাহিত করার উদ্দেশ্যে প্রথমবারের মতো এ আয়োজন করা হয়। এতে বিভিন্ন বয়সী শতাধিক প্রতিযোগী অংশ নেন।
বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালে গোসাইডাঙ্গী ঈদমাঠ থেকে ম্যারাথনের যাত্রা শুরু হয়। প্রতিযোগীরা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামীণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে আমবাড়িয়া নতুন বাজারে গিয়ে দৌড় শেষ করেন। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আমবাড়িয়া ব্লাড ডোনার্স সোসাইটি এ আয়োজন করে।

প্রায় ২০ মিনিটে ৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে প্রথম স্থান অর্জন করেন কুষ্টিয়া জেলা দলের রোহান মণ্ডল। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের হাতে নগদ অর্থ পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
এবারের আয়োজনে বিশেষভাবে নজর কাড়ে ১১ বছর বয়সী তুহিন হোসেনের সাফল্য। সে পঞ্চম স্থান অর্জন করে। তুহিন জানায়, গ্রামে এমন দৌড় প্রতিযোগিতা আগে কখনো হয়নি। অন্যদের অংশগ্রহণ দেখে উৎসাহিত হয়ে সে দৌড়ে অংশ নেয় এবং ভালো ফল করতে পেরে আনন্দিত।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে আমবাড়িয়া ব্লাড ডোনার্স সোসাইটির সভাপতি হাফেজ মো. আব্দুল আলিমের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামী আমবাড়িয়া ইউনিয়ন আমির আবু সায়েম মোল্লা, গোসাইডাঙ্গী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সানাউল্লাহ, ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ও গোপগ্রাম এ জেড মডেল ফাজিল মাদ্রাসার প্রভাষক মো. সুমন হোসেন, ইউনিয়ন সেক্রেটারি মো. জাকির হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
প্রতিযোগী রোহান মণ্ডল বলেন, প্রত্যন্ত গ্রামে এমন আয়োজন সত্যিই প্রশংসনীয়। ভবিষ্যতে ফুটবল ও ক্রিকেটের পাশাপাশি অন্যান্য খেলাধুলারও বড় আয়োজন করা প্রয়োজন।
প্রধান শিক্ষক মো. সানাউল্লাহ বলেন, গ্রামের তরুণদের উদ্যোগে এমন আয়োজন গর্বের বিষয়। নিয়মিত খেলাধুলার সুযোগ তৈরি হলে তরুণরা ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হবে এবং মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে থাকবে।
আয়োজক সংগঠনের সভাপতি হাফেজ মো. আব্দুল আলিম বলেন, ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)-এর তাৎপর্য স্মরণ করার পাশাপাশি তরুণদের রক্তদানে উদ্বুদ্ধ করতেই এ আয়োজন। অংশগ্রহণকারীদের ব্যাপক সাড়া তাদের উৎসাহিত করেছে। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এমন আয়োজন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রত্যন্ত গ্রামে আয়োজিত এ ম্যারাথন শুধু একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় সীমাবদ্ধ থাকেনি; তরুণদের সুস্থ বিনোদন, মানবিকতা ও সামাজিক সচেতনতার বার্তাও দিয়েছে।