যশোর শহরের নীলগঞ্জ সুপারি বাগান এলাকার ‘আল মাদ্রাসাতুশ শারইয়্যাহ’ নামে একটি কওমি মাদ্রাসায় দ্বিতীয় শ্রেণির ৯ বছর বয়সী এক শিশু শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুটিকে যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তির পরিচয় নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক তথ্যের মধ্যে ভিন্নতা পাওয়া গেছে।

স্থানীয় সূত্র ও অভিভাবকদের অভিযোগ, সোমবার সন্ধ্যায় সুপারি বাগান ব্যাংকপট্টি এলাকার ফল ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলামের ছেলে নীরব নামে এক বহিরাগত যুবক মাদ্রাসায় প্রবেশ করে। একপর্যায়ে ওই যুবক শিশুটিকে একটি কক্ষে ডেকে নিয়ে প্রথমে মারধর এবং পরে বলাৎকার করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিভাবকদের দাবি, অভিযুক্ত ওই যুবক মাদ্রাসায় নিয়মিত যাতায়াত করত এবং পরিচ্ছন্নতার কাজও করত। ফলে একজন বহিরাগত ব্যক্তির অবাধে মাদ্রাসায় প্রবেশ ও শিশুদের কাছে যাওয়ার সুযোগ কীভাবে তৈরি হলো, এ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদ্রাসার মুহতামিম কবীর হোসেন ও শিক্ষক নাছির উদ্দিনের দায়িত্বে অবহেলা এবং যথাযথ নজরদারির অভাবেই এমন ভয়াবহ ঘটনা ঘটার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

ঘটনার পর বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা এবং প্রভাবশালী মহলের মাধ্যমে সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কয়েকজন অভিভাবক। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

এদিকে যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আহসান কবির বাপ্পি জানান, সোমবার রাত সাড়ে ৮টার পর ৯ বছরের শিশু সিয়াম হাসপাতালে ভর্তি হয়। সে বলাৎকারের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে হাসপাতালের কাছে প্রাপ্ত প্রাথমিক তথ্যে শিশুটি মাদ্রাসারই একজন সিনিয়র শিক্ষার্থীর দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।

তিনি আরও জানান, শিশুটির মেডিকো-লিগ্যাল পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। মেডিকেল বোর্ডের চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর ঘটনার প্রকৃত বিষয় নিশ্চিত হওয়া যাবে।

একটি ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশু শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে এমন অভিযোগে ক্ষোভে ফুঁসছেন স্থানীয় অভিভাবকরা। তাঁদের প্রশ্ন, একটি আবাসিক বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং তদারকির দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের জবাবদিহি কোথায়?

অভিভাবকরা ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে জড়িত ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা এবং দায়িত্বে অবহেলা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধেও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। পাশাপাশি কোনো প্রভাবশালী মহলের চাপ, আপস বা সমঝোতার মাধ্যমে ঘটনাটি আড়াল না করে শিশুটির নিরাপত্তা, চিকিৎসা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত এবং মেডিকো-লিগ্যাল পরীক্ষার চূড়ান্ত প্রতিবেদনের মাধ্যমে অভিযোগের প্রকৃত সত্য দ্রুত উদ্ঘাটিত হবে—এমনটাই প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।