খায়রুজ্জামান লিটন
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা
রাজশাহী ব্যুরো
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজশাহীতে দুজনকে হত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনসহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে আনা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। একই সঙ্গে ৩৪ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি এবং চারজনকে ট্রাইব্যুনালে হাজিরের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। মামলায় প্রসিকিউশনের পক্ষে অভিযোগের বিস্তারিত তুলে ধরার পাশাপাশি ট্রাইব্যুনালে তিনটি ভিডিও উপস্থাপন করা হয়। প্রসিকিউশনের দাবি, ভিডিওগুলোতে কয়েকজন আসামীকে অস্ত্র হাতে গুলী করতে দেখা যায় এবং তাদের মধ্যে কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল প্রাইমা ফেসি গ্রাউন্ড বিবেচনায় অভিযোগ আমলে নেন। একই সঙ্গে পলাতক আসামীদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং গ্রেপ্তার থাকা আসামীদের জন্য প্রোডাকশন ওয়ারেন্টের আবেদন মঞ্জুর করা হয়। মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করা হয়েছে।
প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি হওয়া চারজন হলেন- রাজশাহী-৩ আসনের সাবেক এমপি মো. আসাদুজ্জামান আসাদ, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার, যুবলীগ নেতা জহিরুল ইসলাম রুবেল ও মোহাইমিনুল ইসলাম মানিক। অন্যদিকে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হওয়া ৩৪ জনের মধ্যে রয়েছেন সাবেক রাসিক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, পুলিশের বিপ্লব বিজয় তালুকদার, হুমায়ুন কবির, রকি কুমার ঘোষ, রাশিক দত্ত, বাপ্পী চৌধুরী রনি, মহিদুল ইসলাম মোস্তফা, খালিদ হাসান বিপ্লব, রাশেদুল করিম রোজেল, মেহেদী হাসান ওরফে রনি, জেডু সরকার ওরফে জাবেদুর রহমানসহ অন্যরা। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজশাহী মহানগরের বোয়ালিয়া থানার শেখেরচক স্বচ্ছ টাওয়ারের সামনে আন্দোলনকারী রায়হান আলীকে গুলী করে হত্যা করা হয়। একই সময়ে শাহ মখদুম কলেজের সামনে আনজুম সাকিব নিহত হন। এ ছাড়া সালমান ওরফে শিমুলসহ আরো অনেক মানুষ আহত হন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। শেখেরচক স্বচ্ছ টাওয়ার, শাহ মখদুম কলেজ, পদ্মা নদীর বেড়িবাঁধ, আলুপট্টি মোড়সহ আশপাশের এলাকায় সংঘটিত এসব ঘটনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করেছে প্রসিকিউশন।