আফাজ্জল হোসেন, বাগমারা (রাজশাহী) : রাজশাহীর বাগমারাসহ আশেপাশের উপজেলায় ঈদকে সামনে রেখে হাট-বাজারে জাল টাকার কারবারির চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। পবিত্র ঈদুল ফেতরের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে উপজেলার বিভিন্ন হাটগুলেতে ততই ক্রেতা ও বিক্রেতাদের ভিড় জমছে। আর এই ভিড়ে কেনা-কাটার অন্তরালে সহজ-সরল সাধারণ মানুষকে প্রতারিত করছে একটি প্রতারক চক্র। জাল টাকার কারবারিদের নিয়োগকৃত এজেন্টরা ইতোমধ্যেই এই অঞ্চলের বিভিন্ন পয়েন্টে অপারেশন শুরু করেছে। চক্রটি অন্যান্য নোটের পাশাপাশি ৫০০ ও ১ হাজার টাকার জাল নোট নিয়েই বেশি মাঠে নেমেছে। শুক্রবার উপজেলা সদর ভবানীগঞ্জ বাজারে পার্শ্ববর্তী আত্রাই উপজেলার আদমদীঘির বামন গ্রামের হামিদুল হক (৪৫) প্রতারক চক্রেরর এক সদস্যকে হাতে নাতে ধরে স্থানীয়রা। এসময় তার কাছে ৫০০ টাকা ও ১০০০ টাকার নোট পাওয়া যায়। পরে তাকে স্থানীয়রা আনসার ভিডিপি’র মাধ্যমে থানা পুলিশের হাতে তুলে দেয়। এ ব্যাপারে প্রশাসনের নজরদারির পাশাপাশি লেনদেনকারীদেরও ‘নোট দেখে নেওয়ার’ জন্য বিভিন্ন ব্যাংকের পক্ষ থেকে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত এ অঞ্চলে সরবরাহকৃত টাকাগুলোর মধ্যে ৫০০ এবং ১০০০ টাকার নোটই বেশি। তবে যেসব জাল টাকা সরবরাহ করা হচ্ছে তার মধ্যে ৫০০ টাকার নোটই জাল হচ্ছে বেশি। এ ছাড়া মুদ্রিত ১০০ টাকা এবং ৫০০ টাকার নোটের সাইজ একই রকম হওয়ায় জাল টাকার কারবারিরা এক ধরনের ক্যামিকেল ব্যবহারের মাধ্যমে ১০০ টাকার নোটের ওপরের ছাপা অংশ মুছে দিয়ে সহজেই ৫০০ টাকার নোটের ছাপ দিয়ে তা বাজারে সরবরাহ করছে। এ ছাড়াও ১০০০, ১০০ ও ৫০ টাকার নোটেরও জাল টাকা পাওয়া যাচ্ছে।

জাল টাকার কারবারীরা টার্গেটে রেখেছে পান ও পশুহাটে। এসময় সাধারণত কৃষক ও খামারিরা টাকা বেশি লেনদেন করেন। সাধারণ মানুষ টাকা দেখে নেয়ার ব্যাপারে তেমন একটা গুরুত্ব দেন না। ফলে সাধারণ মানুষ জাল টাকার কারবারিদের খপ্পরে পড়ে বিপদে জড়িয়ে যাচ্ছেন। পাশাপাশি তারা আতংকিতও হচ্ছেন। কাজেই এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন বলে অভিজ্ঞমহল মনে করেন।

বাগমারাসহ আশেপাশের কয়েকটি উপজেলার বিভিন্ন স্পটে এই জাল টাকার কারবারিরা তাদের ঘাঁটি করেছে। এর মধ্যে বাগমারা উপজেলার ভবানীগঞ্জ, তাহেরপুর, মচমইল, মাদারীগঞ্জ, মোহনগঞ্জ, শিকদারীসহ উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে তাদের শক্ত ঘাঁটি রয়েছে। জাল টাকার কারবারিদের একটি চক্র কয়েকটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে এসব স্পটে কৌশলে তারা অবৈধ ব্যবসা পরিচালনা করে যাচ্ছে বলে একটি সূত্র জানিয়েছেন।