মাহমুদ শরীফ, কুমারখালী (কুষ্টিয়া) সংবাদদাতা : কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে পবিত্র ঈদ উল আযহা সামনে রেখে কুরবানির জন্য সাড়ে তিন হাজার ছোট বড় খামারে প্রস্তুত করা হয়েছে ২৩ হাজার পশু। শেষ মূহুর্তেই পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে খামারি ও পশু মালিকরা। তবে দাম নিয়ে শঙ্কায় রয়েছে তারা। উপজেলায় পশুর চাহিদা রয়েছে ১৫ হাজারটি, যা গত বছরের তুলনায় দুই হাজার ৭৯৩টি বেশি।
দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, দ্রব্যমূল্য, সরকার বাইরের দেশ থেকে গরু আমদানি করবে কি না, বাড়তি পরিচর্যায় খরচ বৃদ্ধি, হাটে বাইরের ক্রেতা আসবেন কি না? এসব নানাবিধ কারনে ঈদে পশু বিক্রি ও লাভ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছে খামারিরা। কুরবানির পশু বাজারে তোলার সময় ঘনিয়ে আসছে। গত কয়েক বছর পর পর তেমন লাভ করতে পারেনি তারা।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় এবছর ঈদ সামনে রেখে তিন হাজার ৫৯৭টি খামারে মোট ২২ হাজার ৪০০টি পশু হৃষ্টপুষ্ট করা হয়েছে। এর মধ্যে ষাড় ১২ হাজার ৯১৭টি, গাভী এক হাজার ৩৬৭টি, ছাগল ৭ হাজার ৯৭৬টি, ভেড়া ১৪০টি। উপজেলায় পশুর চাহিদা রয়েছে ১৫ হাজার, যা গত বছর ছিল ১২ হাজার ২০৭টি। তবে নানা কারণে এ বছর খামারে পশুর সংখ্যা কমেছে।
উপজেলার শিলাইদহ ইউনিয়নের খোরশেদপুর গ্রামের জোয়ার্দার এগ্রো ফার্মের মালিক মোহাম্মদ রানা জোয়ার্দার বলেন, গত বছর ঈদে ৪০টি পশু বিক্রি করে ভালই লাভ হয়েছিল। এবছর ৪৩টি ষাড় প্রস্তুত করেছি। আকারভেদে এক লাখ ১০ হাজার থেকে সাড়ে ৪ লাখ টাকা মূল্যের পশু আছে। গত বছর ৯টি ষাড় গরু বিক্রি করে খরচ বাদে সাড়ে ৩ লাখ টাকা করেছিলেন যদুবয়রা ইউনিয়নের জোতমোড়ার খামারি হান্নান মোল্লা। তিনি বলেন, এবারও ৯টি ষাড় পালন করেছি। তবে দেশের চলমান পরিস্থিতিতে বাজারে ক্রেতা পাওয়া যাবে কি না? ক্রেতা পেলেও ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করতে পারব কি না? এসব নিয়ে চিন্তিত তিনি। জগন্নাথপুরপুর ইউনিয়নের হাসিমপুর গ্রামের রমন ঘোষ শান্ত বলেন, এ বছর পশুর খরচ বেশি হলেও দাম কম মনে হচ্ছে। গত বছরে ঈদের জন্য ৫০-৭০টি ষাড় প্রস্তুত করে চরম লোকশান গুণেছি। সেজন্য খামারে আপাতত দুধ ও বাছুর উৎপাদন করা হচ্ছে। এ বছর ৯০০ কেজি ওজনের মাত্র একটি বড় ষাড় আছে। চার বছর বয়সি এই ষাড়টিতে খরচ পড়েছে তিন লাখ টাকার মত। চার লাখ টাকা হলে ষাড়টি বিক্রি করবেন বলে জানালেন, পশু খাদ্যের ব্যাপারে সদকী ইউনিয়নের হুদা মহম্মদপুর গ্রামের কৃষক জামাল হোসেন বলেন, ৫৫ কেজি বস্তার ছালের দাম গতবার ছিল দুই হাজার ২০০-৩০০ টাকা। আর এবার একই ছাল কিনতে ২০০-৪০০ টাকা বেশি লাগছে। ৫০০ টাকার গুড়ার দাম এবার ৮০০ টাকা। গতবছরের ৪-৫ টাকা আটির বিছালি এবার কিনেছি ৭-৮ টাকায়।
কুমারখালী স্টেশন বাজার সংলগ্ন ছালপট্টির ব্যবসায়ী মতিয়ার রহমান বলেন, পশু মোটাতাজা করার জন্য এখন মানুষ সাধারণত ছাল (গমের ভুসি), ছোলা, খেসারি, খুদ গুঁড়া, খৈল, ফিড, অ্যাংকার ডাল, খড় ইত্যাদি গোখাদ্য ব্যবহার করে। ৩৯ কেজির বস্তা খুদ এক হাজার ৫২০ টাকা, অ্যাংকারের ভুসি এক হাজার ১৭০, ছোলার ভূসি ৫৫ কেজি দুই হাজার ৫৫০ টাকায় বিক্রি করছি। তিনি আরো জানান, গত বছরের তুলনায় গোখাদ্যের দাম বেড়েছে বস্তা প্রতি ১৫০-২৫০ টাকা।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন জানান, কুমারখালীতে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে স্বাস্থ্যসম্মত ভাবে পশু হৃষ্টপুষ্ট করা হয়। কুরবানির ঈদ সামনে রেখে এবার উপজেলায় ২২ হাজার ৪০০টি পশু হৃষ্টপুষ্ট করা হয়েছে। উপজেলায় চাহিদার তুলনায় বেশি পশু আছে। রমজানের ঈদেও এবার পশু বিক্রি হওয়ায় গতবারের চেয়ে কিছু পশু কম আছে। এবারো ভাল দাম পাবেন খামারিরা।
উল্লেখ্য, কুমারখালী উপজেলা পশু বিক্রির জন্য চারটি স্থায়ী সপ্তাহিক হাট রয়েছে। স্থানীয় ও বাইরের ব্যাপারিরা হাট ছাড়াও গ্রামে গ্রামে ঘুরে পশু কিনে থাকে। অনেক কৃষক ও খামারী ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটে পশু নিয়ে যান বিক্রি করতে। এছাড়াও অনলাইনে চলে বেচাকেনা। যদিও পশু কেনাবেচা এখনও শুরু হয়নি।