চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার চরপাথরঘাটা এলাকায় অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ পানি নিষ্কাশন পথ বাতামতল খাল দখল, ভরাট ও দূষণের কারণে কার্যত মৃতপ্রায় হয়ে পড়েছে। খালের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই তীব্র জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে, যার ফলে অন্তত ৩০ হাজার মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, খালটি প্লাস্টিক, পলিথিন ও গৃহস্থালির বর্জ্যে প্রায় ভরাট হয়ে গেছে। বিভিন্ন স্থানে অবৈধ স্থাপনা গড়ে ওঠায় খালের প্রস্থ কমে গেছে এবং পানির চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে পড়েছে। ফলে অল্প বৃষ্টিতেই পানি উপচে সড়ক ও আশপাশের বসতঘরে ঢুকে পড়ছে।
বিশেষ করে নি¤œাঞ্চলগুলোতে হাঁটুসমান পানি দিনের পর দিন স্থায়ী হয়ে থাকছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। অনেকেই চলাচলের জন্য বাঁশের সাঁকোর ওপর নির্ভর করছেন। স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের পানির মধ্যে দিয়েই যাতায়াত করতে হচ্ছে; এমনকি অনেকে বিদ্যালয়ে গিয়ে পোশাক পরিবর্তন করতে বাধ্য হচ্ছে।
দীর্ঘদিন পানি জমে থাকায় এলাকায় তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। পাশাপাশি মশার উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পেয়েছে। পানিবাহিত রোগ যেমন ডায়রিয়া ও চর্মরোগের প্রকোপও বাড়ছে। অনেক স্থানে টিউবওয়েল পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. সিরাজুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে খালে অবাধে ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাব এবং খালের দুই তীরে অবৈধ স্থাপনা গড়ে ওঠায় এর প্রস্থ কমে গেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণে প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে একই দুর্ভোগের পুনরাবৃত্তি ঘটছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য ফরিদ জুয়েল জানান, কয়েক বছর আগে খালটি পরিষ্কার করা হলেও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে তা আবার আগের অবস্থায় ফিরে গেছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোছাম্মৎ জেবুন্নেছা বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে মশাবাহিত রোগের পাশাপাশি ডায়রিয়া, কলেরা ও বিভিন্ন চর্মরোগের ঝুঁকি বাড়ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগজনক।
এ বিষয়ে কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সজিব কান্তি রুদ্র বলেন, খাল খননের জন্য ইতোমধ্যে সরকারি বরাদ্দ পাওয়া গেছে। আগামী মাস থেকে খনন কাজ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে উপজেলার অন্যান্য খাল সংস্কারেরও পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে স্থানীয়দের দাবি, শুধু খনন নয়-খাল দখলমুক্ত করা, নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা এবং টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার মাধ্যমে স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করতে হবে।