শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. নাসির ইসলামের ওপর বর্বরোচিত হামলার প্রতিবাদ, হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষা আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়েছে ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরাম (এনডিএফ)।

গতকাল রোববার রাজধানী ঢাকার শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরাম (এনডিএফ)-এর উদ্যোগে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে এ দাবি জানানো হয়।

এ সময় বক্তারা বলেন, চিকিৎসকরা নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে, সীমিত সম্পদের মাঝেও সক্ষমতার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি রোগীকে দিনরাত সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। এরপরেও দেশজুড়ে চিকিৎসকদের ওপর একের পর এক বর্বরোচিত হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

বিসিএস হেলথ ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. মোস্তাফিজুর রহমান তার বক্তব্যে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এই বর্বরোচিত ও সুপরিকল্পিত হামলা শুধু ডা. নাসিরের ওপর নয়, বরং এটি পুরো চিকিৎসক সমাজ এবং বাংলাদেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর আঘাত। যারা এই হামলার মাধ্যমে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে ধ্বংস করতে চায় এবং চিকিৎসকদের সেবা দানে বাধা দিচ্ছে, তাদের শুধু গ্রেপ্তার করলেই হবে না; দ্রুত বিচার আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনি দেশের স্বাস্থ্য বিভাগের অভিভাবক। এই হামলা আপনার ওপরও হয়েছে। আমরা আশা করব, কোনো দলীয় পরিচয় বিবেচনা না করে সন্ত্রাসীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে আপনি সার্বিক ব্যবস্থা নেবেন। চিকিৎসকরা যেন নির্বিঘেœ সেবা দিতে পারেন, সেই নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করুন।

পাশাপাশি তিনি সাংবাদিকদের চিকিৎসকদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, আজ যদি চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হয়, তবে আগামী দিনে কোনো জটিল রোগীর চিকিৎসার দায়িত্ব নিতে চিকিৎসকরা ভয় পাবেন। এতে সাধারণ মানুষ ও দেশ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরাম (এনডিএফ)-এর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মাহমুদ হোসেন বলেন, বাংলাদেশ ছাড়া পৃথিবীর আর কোনো দেশে স্বাস্থ্যকর্মীরা এভাবে ঘন ঘন হামলার শিকার হন না। কোনো অনুসন্ধান ছাড়াই ঢালাওভাবে ‘ডাক্তারের অবহেলায় মৃত্যু’ বলে নিউজ করে দেওয়া কাম্য নয়। কোনো অভিযোগ থাকলে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে জানানো যেত, কিন্তু এভাবে অমানুষের মতো আক্রমণ করা নজিরবিহীন।

তিনি হাসপাতালে গিয়ে আহত ডা. নাসিরকে দেখার জন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান, তবে একই সাথে দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে কঠোর ব্যবস্থা এবং অনতিবিলম্বে ‘চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী সুরক্ষা আইন’ প্রণয়নের জোর দাবি জানান। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এরপরে যদি আর কোনো চিকিৎসক লাঞ্ছিত হন, তবে চিকিৎসক সমাজ আর ঘরে বসে থাকবে না। দাবি আদায়ে কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে।

এনডিএফ-এর সভাপতি ডা. মুক্তার হোসেনের সভাপতিত্বে এবং ডা. রুহুল কুদ্দুস বিপ্লবের সঞ্চালনায় উক্ত প্রতিবাদ সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন এনডিএফের সহ-সভাপতি ডা. অলিউল্লাহ, ডা. আতিয়া রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. রুহুল কুদ্দুস বিপ্লব, বিসিএস হেলথ ফোরামের ট্রেজারার ডা. আবু মোহাম্মদ, এনডিএফ ঢাকা মহানগর উত্তরের সেক্রেটারি ডা. হাসানুল মান্নাসহ অন্যান্য চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী নেতৃবৃন্দ।

সমাবেশ থেকে অবিলম্বে দোষীদের গ্রেপ্তার ও বিচার প্রক্রিয়া শুরু না হলে দেশব্যাপী আরও কঠোর কর্মসূচির ডাক দেওয়া হবে বলে আলটিমেটাম দেওয়া হয়।