চট্টগ্রাম নগরের চকবাজার এলাকায় কলেজছাত্র আশফাক কবির সাজিদ (১৭)-কে মারধরের পর নির্মাণাধীন একটি ভবনের আটতলা থেকে লিফটের গর্তে ফেলে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় কিশোর গ্যাংয়ের একাধিক সদস্য জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন নিহতের পরিবার।

গতকাল বৃহস্পতিবার চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবুল আজাদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন। নিহত সাজিদ বিএফ শাহীন কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিলেন।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত রোববার (১২ এপ্রিল) রাতে ডিসি রোড এলাকার মৌসুমি আবাসিকের একটি নির্মাণাধীন ভবনে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর নিহতের বাবা আবুল হাশেম সিকদার বাদী হয়ে মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) চকবাজার থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ৭ জনের নাম উল্লেখসহ আরও ৫-৬ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করা হয়েছে।

এজাহারভুক্ত আসামীরা হলো-আইমন, অনিক, রানা মাইকেল, ইলিয়াস, এনায়েত উল্লাহ, মিসকাতুল কায়েস এবং ভবনের দারোয়ান এনামুল হক। অভিযোগ রয়েছে, তাদের অধিকাংশই একটি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য।

জানা গেছে, সাজিদ পড়াশোনার কারণে ডিসি রোড এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। ঘটনার দিন বিকেলে তিনি বন্ধু ফারদিন হাসানের সঙ্গে মৌসুমি আবাসিক এলাকায় দেখা করতে যান। এ সময় অভিযুক্তরা তাদের অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।

একপর্যায়ে সাজিদ তাদের হাত থেকে রক্ষা পেতে পাশের একটি নির্মাণাধীন ভবনে ঢুকে প্রধান গেট ভেতর থেকে বন্ধ করে দেন এবং দৌড়ে আটতলায় উঠে যান। কিন্তু হামলাকারীরা গেটে ধাক্কা দিলে দারোয়ান এনামুল হক গেট খুলে দেন। এরপর তারা ওপরের তলায় গিয়ে সাজিদকে বেধড়ক মারধর করে এবং একপর্যায়ে লিফটের খালি গর্তে ফেলে দেয়।

গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্তে আশপাশের বিভিন্ন সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব ফুটেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।

ওসি বাবুল আজাদ বলেন, ভবনের দারোয়ান এনামুল হককে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামীদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।