চারঘাট (রাজশাহী) সংবাদদাতা : রাজশাহীর চারঘাট উপজেলায় তিন ফসলি কৃষিজমিতে অবৈধভাবে পুকুর খনন করে সেই মাটি ইটভাটায় সরবরাহের করা হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার শলুয়া ইউনিয়নের চামটা কানজগাড়ি মাঠ এলাকায় গত এক সপ্তাহ ধরে প্রায় ১৬ বিঘা তিন ফসলি জমিতে পুকুর খননের কাজ চলছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, শলুয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান ইউনিয়ন যুবলীগের সহসভাপতি শামীম আহমেদ বিভিন্ন কৃষকের কাছ থেকে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে নেয়া প্রায় ৪০ বিঘা জমিতে পুকুর খননের উদ্যোগ নেন। এর মধ্যে ২৪ বিঘা জমিতে ইতোমধ্যে পুকুর খনন করে কয়েকজন মৎস্য চাষির কাছে বিক্রি করা হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, খননকৃত মাটি এমএনএম ইটভাটাসহ স্থানীয় কয়েকটি ইটভাটায় সরবরাহ করা হচ্ছে। এলাকাবাসীর দাবি, এমএনএম ভাটার মালিক ছামিউল আলম বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং তার ভাটায় নিয়মিত এসব মাটি নেয়া হচ্ছে। রাতের আঁধারে ১০ চাকার ভারী ড্রাম ট্রাকে করে মাটি পরিবহন করা হচ্ছে, যা আইন লঙ্ঘনের পাশাপাশি জনদুর্ভোগ বাড়াচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, গত বছর একই স্থানে পুকুর খননের চেষ্টা করলে উপজেলা ভূমি প্রশাসন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে কাজ বন্ধ করে দেয় এবং ব্যবহৃত এক্সকাভেটর অকেজো করে দেয়। তবে চলতি বছরে আবারও রাতের আঁধারে খনন কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, ভারী যানবাহনে মাটি পরিবহনের কারণে শিশাতলা থেকে আড়ানী পর্যন্ত প্রায় ২৪ কোটি টাকা ব্যয়ে চলমান সড়কের কার্পেটিং কাজ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ইতোমধ্যে সড়কের বিভিন্ন স্থানে দেবে যাওয়ার ঘটনাও দেখা গেছে।

পুকুর খননের স্থান সংলগ্ন একটি গুরুত্বপূর্ণ কালভার্ট রয়েছে, যা দিয়ে অন্তত ১৫ থেকে ২০টি গ্রামের পানি নিষ্কাশন হয়। স্থানীয়দের আশঙ্কা, পুকুর খননের ফলে কালভার্টটি বন্ধ হয়ে গেলে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে ব্যাপক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হবে। এছাড়া স্থানীয়দের দাবি, এই পুকুর সম্পূর্ণভাবে খনন করা হলে আশপাশের প্রায় ৪০০ একর কৃষিজমি স্থায়ীভাবে চাষাবাদের অনুপযোগী হয়ে পড়বে।

স্থানীয় কৃষক আনসার উদ্দিন (৭৫) বলেন, এই জমিতে আগে তিন ফসল হতো। এখন পানি বের হওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেক জমিতে শুধু রসুন চাষ করতে হচ্ছে। পুকুর খনন হলে বর্ষায় পুরো এলাকা পানিতে তলিয়ে যাবে।

তিনি আরও বলেন, যারা খনন করছে তারা প্রভাবশালী। তাদের বিরুদ্ধে কিছু বলতে গেলেই সমস্যা হয়, তাই সবাই চুপ করে আছে।

বিএনপি নেতা এমএনএম ইটভাটার মালিক ছামিউল আলম বলেন, আমি আগের মালিকের কাছ থেকে পুকুরটি নিয়ে হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী খনন করছি। যুবলীগ নেতা শামীম আহমেদের সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই।

চারঘাট উপজেলা তাঁতীদলের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম গনি বলেন, গত বছর প্রশাসন অভিযান চালানোর পর আমি কাজ বন্ধ করে দিই। এ বছর পুকুর খননের সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

শলুয়া ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, পুকুরের সঙ্গে আমার কিছু জমি আছে, সেখানে পানি জমে থাকায় চাষাবাদ হয় না। তাই পুকুরের জন্য টেন্ডার দিয়েছি।

শলুয়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান লালন সরকার বলেন, কিছু অসাধু ব্যক্তি রাতের আঁধারে তিন ফসলি জমিতে পুকুর খনন করছে। আমরা খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবো।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রাহাতুল করিম মিজান বলেন, অবৈধভাবে পুকুর খননের খবর পেয়েছি। দ্রুত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।