বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন কেন্দ্রীয় সভাপতি এডভোকেট আতিকুর রহমান বলেছেন, শ্রমিক সংগঠনের নেতৃত্বে থেকে কেউ কেউ জমিদার হয়ে গেছেন। শ্রমিকের চাঁদার টাকা দিয়ে কোনো নেতা ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হবেন, এমন পরিস্থিতি আর মেনে নেওয়া হবে না। শ্রমিক সংগঠনের নামে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দেন তিনি। তিনি বলেন, আমরা নিজেরা জুলুম করব না এবং কোনো জুলুম সহ্য করব না। শ্রমিক সংগঠন কিংবা রাজনৈতিক পদ-পদবি ব্যবহার করে কেউ শ্রমিকের ওপর শোষণ, নিপীড়ন বা জুলুম করার চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। জুলুম হবে যেখানে, প্রতিরোধ হবে সেখানে। চাঁদাবাজি হবে যেখানে, প্রতিরোধ হবে সেখানে বলে তিনি নেতা-কর্মীদের মাঠে সক্রিয় থাকার আহ্বান জানান। শনিবার রাতে নগরীর খালিশপুর বিআইডিসি রোডস্থ শ্রমিক কল্যাণ ট্রাস্ট মিলনায়তনে খুলনা মহানগরী শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের উদ্যোগে রেজিস্ট্রার্ড ট্রেড ইউনিয়ন ও পেশা ভিত্তিক দায়িত্বশীল সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ সব কথা বলেন।
খুলনা মহানগরী সভাপতি আজিজুল ইসলাম ফারাজীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক ডা. সাইফুজ্জামানের পরিচালনায় সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও খুলনা অঞ্চল পরিচালক সাবেক কাউন্সিলর মাস্টার শফিকুল আলম, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কর্মসংস্থান সম্পাদক খান গোলাম রসুল, খুলনা অঞ্চল সহকারী পরিচালক মো. আজিজুর রহমান, টিম সদস্য আলফিদা হোসেন, সাবেক ছাত্রনেতা মুনসুর আলম চৌধুরী। সমাবেশে বক্তৃতা করেন ও উপস্থিত ছিলেন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের খুলনা মহানগরীর সহ-সভাপতি এস এম মাহফুজুর রহমান, সাখাওয়াত হোসেন, কাজী মাহফুজুর রহমান, খালিশপুর থানা সভাপতি জাহিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক বুলবুল কবির, সোনাডাঙ্গা থানা সভাপতি খান আব্দুল অহিদ, সাধারণ সম্পাদক নুরুল হক, নির্বাহী সদস্য আনিসুর রহমান, মাওলানা শরিফুল ইসলাম, বিআরইএল সভাপতি সাইফুল ইসলাম, দৌলতপুর থানার সভাপতি রফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান জুনায়েদ, খুলনা সদর থানা সহ-সভাপতি নাসিরুদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক মুরাদ সোহাগ, আড়ংঘাটা থানা সভাপতি শাহিনুল ইসলাম, সাজ্জাদ হোসেন তপু, হরিণটানা থানা সভাপতি হেলাল উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক তাইফুর রহমান, পরিবহন শাখার সভাপতি কামাল হোসেন, আসলাম শিকদার, আব্দুল বারেক, লবণচরা থানা সাধারণ সম্পাদক মাস্টার আব্দুল ওহীদ, খুলনা সদর থানা ফার্ণিচার শ্রমিক ইউনিয়ন সভাপতি আলী হায়দার নিরু শ্রমিকনেতা মাওলানা শরিফুল ইসলাম, শহিদুল ইসলাম, মুজাহিদুল ইসলাম বিপ্লব, কামরুল ইসলাম, মাসুম, আবদুল কাদের, দবির উদ্দিন প্রমুখ।
পরিবহন খাতের শ্রমিক সংগঠনগুলোতে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি বলেন, কোনো সংগঠনকে একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ করতে দেওয়া হবে না। নিয়মিত নির্বাচন করতে হবে, এডহক কমিটি করে দীর্ঘদিন সংগঠন পরিচালনার সুযোগ দেওয়া যাবে না। পরিবহন শ্রমিকদের চাঁদার টাকা নিয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করারও দাবি জানান তিনি। তিনি বলেন, কে কোথায় কত টাকা আয় করেছেন, কত টাকা ব্যয় করেছেন, কোনো নেতার পকেটে পরিবহন শ্রমিকের কোনো টাকা ঢুকতে দেওয়া যাবে না। শ্রমিকের টাকা দিয়ে কেউ সংগঠন করে ব্যক্তিগতভাবে বড়লোক হবেন, আর অন্য শ্রমিক সংগঠনকে কাজ করতে দেওয়া হবে না, এমন পরিস্থিতি আর মেনে নেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি এডভোকেট আতিকুর রহমান।
খুলনার ঐতিহ্যবাহী শিল্পাঞ্চলগুলোর বর্তমান বেহাল দশার প্রতি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ প্রধান অতিথি এডভোকেট আতিকুর রহমান বলেন, এক সময় খুলনার খালিশপুর, দৌলতপুর, আফিলগেট, আলিম, ইস্টার্ণ কিংবা পার্শ্ববর্তী নওয়াপাড়া ও রাজঘাটের এলাকায় হাজার হাজার শ্রমিকের পদচারণায় মুখরিত থাকত। কিন্তু রাষ্ট্রীয় নীতিহীনতা, দুর্নীতি ও নানা অনিয়মের জাঁতাকলে পড়ে সেখানকার প্রায় সকল মিল-কারখানা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে এই শিল্পাঞ্চলগুলো আজ প্রায় জনশূন্য ও বিবর্ণ হয়ে পড়েছে। তিনি অবিলম্বে খুলনার এই বন্ধকৃত সমস্ত মিল-কারখানা পুনরায় চালু করার দাবি জানান।
শ্রমিকদের ব্যবহার ও বঞ্চনার ইতিহাস উল্লেখ করে তিনি অভিযোগ করেন, দেশের সরকার, পুঁজিপতি ও শিল্পপতিরা সবসময় নিজেদের স্বার্থ সিদ্ধির জন্য শ্রমিকদের ব্যবহার করেছে, কিন্তু তাদের প্রকৃত জীবনমান উন্নয়নে কিংবা সমস্যা সমাধানে কখনো আন্তরিকভাবে এগিয়ে আসেনি। স্বাধীনতার দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও দেশের শ্রমজীবী মানুষ তাদের ন্যায্য অধিকার, সামাজিক মর্যাদা ও ন্যায্য মজুরি থেকে আজও বঞ্চিত রয়েছে। নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক নেতারা নানা শ্রমিকবান্ধব প্রতিশ্রুতি দিলেও ক্ষমতা পেয়ে তা বেমালুম ভুলে যান, যা শ্রমিকদের সঙ্গে চরম প্রতারণার সামিল। শ্রমিকদের নায্য অধিকার আদায়, বঞ্চনার অবসান এবং খুলনার বন্ধ কলকারখানা চালু না হলে ভবিষ্যতে কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেন, শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায় না হওয়া পর্যন্ত ঘরে ফিরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তাই সকল শ্রমিককে সকল ভেদাভেদ ভুলে এক প্ল্যাটফর্মে এসে একটি দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলার প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান।