সহপাঠীর মৃত্যুর প্রতিবাদে নিরাপদ সড়ক পারাপারের দাবিতে গাজীপুরের টঙ্গীতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে তামীরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসার কয়েক হাজার শিক্ষার্থী। প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা অবরোধের পর জেলা প্রশাসন, সিটি করপোরেশন ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ, স্পিডব্রেকার স্থাপন, ক্ষতিপূরণ এবং নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা করার আশ্বাস পেয়ে কর্মসূচি প্রত্যাহার করে শিক্ষার্থীরা।

Tongi turbulent over Yasin's death2

রোববার সকাল ১১টার দিকে গাজীপুরা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মহাসড়কে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। এতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে আটকা পড়ে অসংখ্য যানবাহন। চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রী ও পথচারীরা।

শিক্ষার্থীদের অবরোধের মূল দাবি ছিল গাজীপুরা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দ্রুত ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ। তাদের অভিযোগ, মহাসড়কের এ অংশে নিরাপদে পারাপারের কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষকে ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হতে হচ্ছে। এর ফলে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে।

এরই মধ্যে শনিবার (৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় গাজীপুরা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মহাসড়ক পার হওয়ার সময় দ্রুতগতির একটি কভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় তামীরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসার নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইয়াসিন আলী (১৭) নিহত হন। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে রোববার সড়কে নেমে আসে শিক্ষার্থীরা।

অবরোধ চলাকালে প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ নূরুল করীম ভূঁইয়া, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শওকত হোসেন সরকার এবং গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার মাদ্রাসা ক্যাম্পাসে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সমাবেশে বক্তব্য দেন।

জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ নূরুল করীম ভূঁইয়া বলেন, ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই ও দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হবে। কমিটিতে জেলা প্রশাসন, গাজীপুর সিটি করপোরেশন ও সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি মাদ্রাসার অধ্যক্ষ এবং দুইজন শিক্ষার্থী প্রতিনিধি থাকবেন। প্রয়োজনীয় আবেদন সম্পন্ন হলে সরকারের সংশ্লিষ্ট তহবিল থেকে নিহত শিক্ষার্থীর পরিবারকে সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শওকত হোসেন সরকার বলেন, নিহত শিক্ষার্থীর পরিবারকে আগামী মঙ্গলবার সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে তিন লাখ টাকার চেক দেওয়া হবে। একই সঙ্গে সোমবার গাজীপুরা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। দ্রুততম সময়ে নির্মাণকাজ শুরুর পাশাপাশি মাদ্রাসার উভয় পাশে স্পিডব্রেকার নির্মাণের কথাও জানান তিনি।

জিএমপি কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার বলেন, দুর্ঘটনায় জড়িত কভার্ড ভ্যানটি জব্দ করা হয়েছে এবং চালককে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপদে মহাসড়ক পারাপার নিশ্চিত করতে তাৎক্ষণিকভাবে মাদ্রাসার উভয় পাশে অতিরিক্ত ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন করা হবে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের অসমাপ্ত বিআরটি প্রকল্পের কারণে বিভিন্ন স্থানে যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও পথচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে এসব আশ্বাস পাওয়ার পর রোববার বেলা আড়াইটার দিকে শিক্ষার্থীরা মহাসড়ক থেকে সরে যায়। প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা পর স্বাভাবিক হতে শুরু করে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের যান চলাচল।

শিক্ষার্থীরা জানান, প্রশাসনের দেওয়া প্রতিশ্রুতি দ্রুত বাস্তবায়ন করা হলে তারা আর কোনো কর্মসূচিতে যেতে চান না। তবে নির্ধারিত সময়ে ফুটওভারব্রিজসহ নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা বাস্তবায়ন না হলে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও তারা জানান।

এদিকে একটি শিক্ষার্থীর প্রাণহানির পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে ফুটওভারব্রিজ, স্পিডব্রেকার ও অতিরিক্ত ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েনের সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের প্রত্যাশা, প্রতিশ্রুতিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে গাজীপুরা বাসস্ট্যান্ডে পথচারী ও শিক্ষার্থীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত হবে।