কুষ্টিয়ায় আধুনিক কসাইখানার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) আনুষ্ঠানিকভাবে আধুনিক কসাইখানার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। উন্নত প্রযুক্তিসম্পন্ন এই কসাইখানায় প্রথম দফায় মেশিনের পাশাপাশি সনাতন পদ্ধতিতেও গবাদিপশুর মাংস প্রস্তুত করা হচ্ছে। শহরের অদূরে লাহিনী বটতলার জিকে ক্যানেল ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় প্রায় ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ।

প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রায় দুই মাস আগে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এরপর স্থাপনাটি পরিচালনার দায়িত্বে থাকা কুষ্টিয়া পৌরসভার কাছে হস্তান্তর করা হয়।

কুষ্টিয়া জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ আল মামুন হোসেন মন্ডল জানান, “এই কসাইখানায় প্রথমে ইসলাম ধর্মের রীতিতে সনাতন পদ্ধতিতে গবাদিপশু জবাই করা হবে। পরে মাংস প্রস্তুত পর্যন্ত বাকি কার্যক্রম মেশিনের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে।”

কুষ্টিয়া পৌরসভা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ কসাইখানায় প্রথম পর্যায়ে মেশিন এবং সনাতন উভয় পদ্ধতিতেই মাংস প্রস্তুত করা হবে। আধুনিক মানের এই কসাইখানা চালুর মাধ্যমে একদিকে যত্রতত্র পশু জবাইয়ের ফলে সৃষ্ট পরিবেশ দূষণ রোধ হবে। পাশাপাশি মাংস ব্যবসায়ীদের শ্রম ও সময়ও সাশ্রয় হবে।

অন্যদিকে ভোক্তারা পাবেন স্বাস্থ্যসম্মত মাংস এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। নতুন এ কসাইখানা চালু হলে শহরের মাংস সরবরাহ ব্যবস্থা আরও সুশৃঙ্খল ও পরিচ্ছন্ন হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

প্রাণী সম্পদবিভিাগের কর্মকর্তাদের দাবী, জনস্বাস্থ্যের উন্নয়নে আধুনিক এই কসাইখানা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে যেখানে–সেখানে পশু জবাই বন্ধ হবে। এতে পরিবেশ দূষণ কমে আসবে। রোগবালাই আছে এমন গরু জবাই করা বন্ধ হবে। বিজ্ঞানসম্মত ও স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে প্রক্রিয়াকৃত মাংস খেতে পারবে জেলাবাসী। এছাড়া এখানে জবাই করা পশুর চামড়াও থাকবে নিখুঁত।

অপরদিকে মেশিনে পশু জবাই করা ও হালাল মাংস প্রসঙ্গে হক্কানী দরবারের পরিচালক মাওলানা খালিদ হোসাইন সিপাহী বলেন, একটি হালাল পশুর খাবার অনেক সময় হারাম হয়ে যায়। আল্লাহর নামে জবাই করা ব্যতিত হালাল পশুর গোস্ত মুসলমানদের জন্য খাওয়া হারাম। তাই আল্লাহর নামে পশু জবাই হতে হবে।

এছাড়াও হালাল প্রাণীর অনেক কিছু খাওয়া নিষিদ্ধ। ইসলামী বিধান অনুযায়ী হালাল প্রাণীর ৮টি অংশ খাওয়া নিষেধ। এর মধ্যে

১. পুরুষ লিঙ্গ, ২. স্ত্রী লিঙ্গ, ৩. মুত্রথলি, ৪. মেরুদন্ডের ভেতরের মগজ বা সাদা রগ, ৫. পিত্ত, ৬. অন্ডকোষ, ৭. চামড়ার নিচের টিউমারের মতো উঁচু গোশত, ৮. প্রবাহিত রক্ত। তবে এগুলোর মধ্যে প্রবাহিত রক্ত অকাট্য হারাম, বাকিগুলো মাকরুহে তাহরিমি।

আধুনিক কসাইখানায় পশুর মাংস প্রস্তুত হোক এতে কোন সমস্যা নেই। তবে মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য ইসলামী শরীয়ত মোতাবেক পশু জবাই ও মাংস প্রস্তুত করবেন এ দাবী জেলার হক্কানী উলামায়েকেরাম ও সচেতন মুসলিম সমাজের। এগুলোর দিকে কর্তৃপক্ষ সজাগ দৃষ্টি রাখবেন এ প্রত্যাশা জেলার সুশীল সমাজের।