মোহাম্মাদ মনিরুজ্জামান, মোংলা থেকে: বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট এবং অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মধ্যেও দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মোংলা বন্দর ধারাবাহিকভাবে তার কার্যক্রম পরিচালনা করছে। আধুনিক অবকাঠামো উন্নয়ন, নদীপথে পলি অপসারণ এবং দক্ষ ব্যবস্থাপনার কারণে ব্যবসায়ীদের মধ্যে এই বন্দর ব্যবহারের আগ্রহ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষত তৈরি পোশাক রপ্তানিতে এই বন্দর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। পাশাপাশি ভারত, নেপাল ও ভতানের জন্য ট্রানজিট সুবিধা প্রদান করায় এর কৌশলগত গুরুত্ব আরও বেড়েছে।
বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আউটার বার ড্রেজিং সম্পন্ন হওয়ার পর ইনার বার এলাকায় ড্রেজিং কার্যক্রমের ফলে এখন বেশি গভীরতার জাহাজ সরাসরি জেটিতে নোঙর করতে পারছে। এছাড়া কন্টেইনার ইয়ার্ড সম্প্রসারণ এবং আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজনের কারণে পণ্য ওঠানামার সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। জ্বালানি সংকট চলাকালেও সেবা অব্যাহত রাখতে বিশেষ তদারকি ব্যবস্থা চালু রয়েছে।
বর্তমানে বন্দরে বিদেশি জাহাজ আগমন এবং পণ্য খালাসের হার সন্তোষজনক অবস্থায় রয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগ জানায়, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রভাবে অনেক বন্দর কার্যক্রমে ধীরগতি দেখা দিলেও মোংলা বন্দর তার অবস্থান ও অবকাঠামোগত সক্ষমতা ব্যবহার করে স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রেখেছে। সরকারি নীতিমালার কারণে ডলার সংকট ও জ্বালানি সাশ্রয়ের চাপে থাকলেও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, ক্লিংকার, সার, কয়লা, পাথর, গম, চাল এবং হিমায়িত পণ্যের পাশাপাশি তৈরি পোশাকের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সক্রিয় রয়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে এই বন্দর দিয়ে ৬৭৯টি জাহাজ এবং এক কোটি পাঁচ লক্ষ মেট্রিক টন পণ্য খালাস হয়েছে।
পদ্মা সেতু চালু হওয়ার ফলে ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী শিল্পাঞ্চলের সঙ্গে মোংলা বন্দরের যোগাযোগ সহজ হয়েছে, যা ব্যবসায়ীদের জন্য এই বন্দর ব্যবহারে সুবিধা সৃষ্টি করেছে। বন্দর কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা জানান, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির মধ্যেও কার্যক্রম সচল রাখতে বিকল্প ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এটিকে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বাণিজ্যিক কেন্দ্রে পরিণত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
ব্যবসায়ী ও বন্দর ব্যবহারকারীদের মতে, চট্টগ্রাম বন্দর-এর ওপর চাপ কমাতে মোংলা বন্দর কার্যকর বিকল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বিশেষ করে আমদানিকৃত যানবাহন দ্রুত খালাস ও সরবরাহের ক্ষেত্রে এই বন্দর বর্তমানে দেশের মধ্যে অগ্রণী অবস্থানে রয়েছে। জ্বালানি সংকটের মধ্যেও বন্দরের এই ধারাবাহিক কার্যক্রম দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ফলে মোংলা বন্দরে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সচল থাকার পাশাপাশি কর্মচাঞ্চল্যও বজায় রয়েছে।