বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও খুলনা অঞ্চল পরিচালক অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ইজ্জত উল্লাহ এমপি বলেছেন, বাইয়াত বা শপথ ইসলামের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিক। মানব জীবনে সফলতার জন্য বাইয়াতের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। বাইয়াত বিহীন মৃত্যু জাহিলিয়াতের মৃত্যু। রুকনরাই এই সংগঠনের প্রাণ। একজন রুকন হিসেবে আমাদের পরিপূর্ণভাবে আল্লাহ ও তার রাসুলের আনুগত্য করতে হবে, বিনয়ের সাথে পথ চলতে হবে, আমিত্ব পরিত্যাগ করতে হবে। ইকামাতে দ্বীনের কাজ একটি ফরজ ইবাদত। ইকামাতে দ্বীনের কাজকে আঞ্জাম দেওয়ার জন্য জামায়াতের সদস্যদের (রুকন) তাদের কৃত শপথের আলোকে জীবন পরিচালনা করতে হবে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এদেশে আল্লাহর আইন ও সৎ লোকের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব তৈরি এবং জনমত সৃষ্টির মাধ্যমে এদেশে ইসলামী সমাজ বিনির্মাণ করতে চাচ্ছে। এজন্য জামায়াতের জনশক্তিদের জনগণের সামনে ইসলামী সমাজ ব্যবস্থা, ইসলামী অর্থ ব্যবস্থা, ইসলামী বিচার ব্যবস্থা ও ইসলামী মূল্যবোধকে ব্যপকভাবে তুলে ধরতে হবে। আর সৎ ও যোগ্য নেতৃত্বকে সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করে গণভিত্তিকে মজবুত করতে হবে।
খুলনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে নগরীর সোনাডাঙ্গাস্থ আল ফারুক সোসাইটি মিলনায়তনে শনিবার দিনব্যাপী রুকন প্রার্থী ও সম্ভাব্য প্রার্থী শিক্ষা শিবিরে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ সব কথা বলেন।
শিক্ষা শিবিরের সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মজলিসে শূরা সদস্য ও খুলনা জেলা আমীর মাওলানা এমরান হুসাইন। কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য ও জেলা সেক্রেটারি মুন্সি মিজানুর রহমানের পরিচালনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা মহানগরী আমীর অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান, খুলনা অঞ্চল টিম সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা মশিউর রহমান খান এমপি। দারসুল কুরআন পেশ করেন দারুল কুরআন সিদ্দিকীয়া কামিল মাদরাসার সহকারী অধ্যাপক মাওলানা মো. মনিরুজ্জামান। শিক্ষা শিবিরে খুলনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর মাওলানা গোলাম সরোয়ার, অধ্যক্ষ মাওলানা কবিরুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারি মুন্সী মঈনুল ইসলাম, এডভোকেট মুস্তাফিজুর রহমান, অধ্যাপক মিয়া গোলাম কুদ্দুস ও এ টি এম গাউসুল আযম হাদি, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য শেখ সিরাজুল ইসলাম, মাওলানা আমিনুল ইসলাম, মুহা. আমিনুল ইসলাম, স, ম, এনামুল হক, এডভোকেট আবু ইউসুফ মোল্লা, গোলাম মোস্তফা আল মুজাহিদ, মিয়া মুজাহিদুল ইসলাম, আশরাফুল আলম, মাওলানা মিজানুর রহমান, মাওলানা সাইদুর রহমান, মাওলানা মুখতার হোসেন, অধ্যাপক আব্দুল আলিম মোল্লা, সৈয়দ হাসান মাহমুদ টিটো, মাওলানা আবুল হাসান, মাওলানা হাফিজুর রহমান, মওলানা লাবিবুল ইসলাম, মাওলানা আবু ইউসুফ, মাওলানা আখতারুজ্জামানসহ জেলার কর্মপরিষদের সদস্যসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। দিনব্যাপী এই শিক্ষা শিবিরে ইনসাফ ফী সাবিলিল্লাহ, আখিরাতই মুমিন জীবনের কাঙ্খিত মনজিল, আত্মগঠনে-কর্মীগঠন-নেতৃত্ব দান, বাইয়াতের গুরুত্ব ও পদ্ধতি, নৈতিকতা ও সাংগঠনিক দক্ষতা উন্নয়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। বক্তারা তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনের কাজকে আরও বেগবান করার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান।
অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান বলেন, মানব জীবনের প্রথম ভিত্তি হচ্ছে পরিবার। ব্যক্তি পরিবারের একটা অংশ। আর পরিবার সমাজের অংশ ও ভিত্তিপ্রস্তর। সমাজকে বাদ দিয়ে যেমন রাষ্ট্রের কল্পনা করা যায় না, তেমনি পরিবার ছাড়া সমাজও অকল্পনীয়। এজন্য ইসলাম পারিবারিক জীবনকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করেছে। ফলে জামায়াতের রুকনদের নিজেদের পরিবার নিয়ে চিন্তা করতে হবে। জাহান্নামের কঠিন আযাব থেকে মুক্তির জন্য পরিবারের সদস্যদের ইসলামের সু-মহান আদর্শের ভিত্তিতে গড়ে তুলতে হবে। স্ত্রী-সন্তানদের ইসলামী আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে খুলনা জেলা আমীর মাওলানা এমরান হুসাইন বলেন, জামায়াত একটি আদর্শিক সংগঠন। এ সংগঠন সব পর্যায়ে নৈতিক ও আদর্শবান কর্মী তৈরির জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা করে। এর অংশ হিসেবে সংগঠন বাছাইকৃত কর্মীদের জ্ঞানকে অধিক সম্প্রসারণের জন্য শিক্ষাশিবির আয়োজন করে থাকে। তিনি বলেন, ন্যায়-ইনসাফ ভিত্তিক সমাজ কায়েম ব্যতীত দুনিয়ায় প্রকৃত শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কাজ করতে হবে। নিজেকে পরিবার ও সমাজের মাঝে উত্তম মানুষ হিসাবে উপস্থাপন করতে হবে। এ ছাড়া সব মানুষের কল্যাণে আপনাদের কাজ করতে হবে