স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ফরিদা খানমকে ঢাকার নতুন জেলা প্রশাসক (ডিসি) নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ঢাকার বর্তমান ডিসি মো. রেজাউল করিমকে বদলি করা হয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপসচিব পদে। গতকাল বুধবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পৃথক প্রজ্ঞাপনে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

ফরিদা খানম এর আগে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ছিলেন। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি জেলা প্রশাসক হয়ে চট্টগ্রামে গিয়েছিলেন। এক বছর পর তাঁকে বদলি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আনা হয়। নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিএনপি সরকার গঠনের পর সচিব, জেলা প্রশাসক থেকে শুরু করে জনপ্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়েই পরিবর্তন করা হচ্ছে।

এর আগে গত ১ মার্চ থেকে ১ এপ্রিল পর্যন্ত এক মাসে তিন দফায় ২০টি জেলার জেলা প্রশাসককে প্রত্যাহার করা হয়েছিল। প্রত্যাহার করা জেলা প্রশাসকদের মধ্যে কেউ কেউ আছেন, যারা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে ডিসি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন।

এদিকে দেশের তিন গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ– খুলনা, বরিশাল ও সিলেটে নতুন বিভাগীয় কমিশনার নিয়োগ দিয়েছে সরকার। বুধবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

এতে উল্লেখ করা হয়, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. আবদুল্লাহ হারুনকে খুলনা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বরিশাল বিভাগের নতুন বিভাগীয় কমিশনার হয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব খলিল আহমেদ।

একই আদেশে, জুলাই গণঅভ্যুত্থান অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মশিউর রহমানকে সিলেট বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। জনস্বার্থে জারি হওয়া এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

স্বল্পমূল্যে আবাসন

(১২-এর পৃঃ­ ১-এর কঃ পর)

নতুন কমিটির নেতারা আবাসন খাতের উন্নয়নে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দেন। তারা বিশেষভাবে কৃষিজমি সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে কৃষিজমি দ্রুত কমছে, যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি। তাই ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় টেকসই ও পরিকল্পিত নগরায়নে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

এছাড়া, ঢাকার আশপাশে প্রায় ৪৫ লাখ টাকার মধ্যে ছোট আকারের ফ্ল্যাট নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও জানান তারা। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য সাশ্রয়ী আবাসনের সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন নেতারা।

তারা আরও বলেন, উঁচু ভবন নির্মাণ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সরকারের নীতিগত সহায়তার মাধ্যমে নির্মাণ ব্যয় কমানোর চেষ্টা করা হবে। পাশাপাশি আবাসন খাতের দীর্ঘদিনের সমস্যা উচ্চ নিবন্ধন ব্যয়, ব্যাংক ঋণের সীমাবদ্ধতা এবং প্রকল্প অনুমোদনের জটিলতা সমাধানে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হবে।

নবনির্বাচিত কমিটির নেতারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে একদিকে কৃষিজমি রক্ষা পাবে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের জন্য সাশ্রয়ী আবাসনের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।