চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে পৃথক দুটি অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ চিংড়ির রেণু জব্দ ও সমুদ্রে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ শিকারের দায়ে একটি মাছ ধরার নৌযান আটক করেছে কোস্ট গার্ড ও মৎস্য বিভাগ।

অবৈধ চিংড়ি রেণু জব্দ : চট্টগ্রাম জেলা মৎস্য দপ্তর এবং বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড পূর্ব জোন, চট্টগ্রামের যৌথ অভিযানে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে কর্ণফুলী উপজেলার শাহ আমানত ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় বাগদা চিংড়ির রেণুবাহী দুটি ট্রাক আটক করা হয়।

অভিযানে ট্রাক দুটি থেকে মোট ৭০টি প্লাস্টিক ড্রাম উদ্ধার করা হয়, যাতে বিপুল পরিমাণ বাগদা চিংড়ির রেণু পাওয়া যায়। সংশ্লিষ্টরা নিশ্চিত করেন, এসব রেণু কোনো অনুমোদিত হ্যাচারিতে উৎপাদিত নয়; বরং কক্সবাজার উপকূলের প্রাকৃতিক উৎস থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে, যা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

চট্টগ্রাম জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সালমা বেগমের নির্দেশনায় এবং কর্ণফুলী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আব্দুল আলীমের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এ অভিযানে জব্দকৃত রেণুগুলো পরবর্তীতে কর্ণফুলী নদীতে অবমুক্ত করা হয়। জব্দকৃত রেণুর বাজারমূল্য আনুমানিক ৬ কোটি টাকা বলে জানা গেছে।

নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ শিকার, নৌযান আটক : একই দিনে রাত আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিটে ৫৮ দিনব্যাপী সামুদ্রিক মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা চলাকালে সমুদ্রে অবৈধভাবে মাছ শিকাররত একটি মাছ ধরার বোট আটক করা হয়। আটক বোটে থাকা মাছের আনুমানিক মূল্য নির্ধারণ করা হয় ১ লাখ ৬৮ হাজার টাকা। এ ঘটনায় বোট মালিকের বিরুদ্ধে ২ লাখ ১০ হাজার টাকা প্রশাসনিক জরিমানা আরোপ করা হয়েছে।

সামুদ্রিক মৎস্য বিধিমালা, ২০২৩-এর ধারা ২৪(৪) অনুযায়ী জব্দকৃত মাছের একটি অংশ স্থানীয় এতিমখানা ও মাদরাসায় বিতরণ করা হয়। অবশিষ্ট মাছ নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা রাজস্ব আদায় করা হয় (ভ্যাট ও ট্যাক্স ব্যতীত)। অভিযানকালে জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের জরিপ কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমানসহ জেলা ও উপজেলা মৎস্য বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

অভিযান অব্যাহত থাকবে : সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অবৈধ মৎস্য আহরণ ও চিংড়ির রেণু সংগ্রহ বন্ধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।