কালিয়াকৈর (গাজীপুর) সংবাদদাতা : গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার পল্লীবিদ্যুৎ দিঘির পাড় এলাকায় মঙ্গলবার সকালে আহসান কম্পোজিট কারখানার শ্রমিকরা বাৎসরিক ছুটির টাকার দাবিতে কর্মবিরতি রেখে বিক্ষোভ ও কারখানায় হামলা চালিয়ে ভাংচুর করেছে। খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে গেলে

পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের সাথে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে ওই কারখানার ৯ কর্মকর্তা, পুলিশ ও শ্রমিকসহ কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়েছে।

পরে আহতদের উদ্ধার করে উপজেলার বিভিন্ন হাসপতালে ভর্তি করা হয়।

কারখানা ও পুলিশ সূত্র জানায় সোমবার কারখানায় শ্রমিকদের মধ্যে শ্রমিকদের দাবীর চেয়ে কম বাৎসরিক ছুটির টাকার শ্লিপ বিতরন করা হয়।

এতে শ্রমিকরা ক্ষিপ্ত হয়ে শতভাগ বাৎসরিক ছুটির টাকার পরিশোধের দাবি করে সকাল আটটার দিকে কর্মবিরতি রেখে বিক্ষোভ করতে থাকে। এসময় কারখানা কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে ক্ষিপ্ত হয়ে কারখানার অফিস কক্ষ ভাঙচুর করে। এতে অফিসের থাই জানান,দরজা, টেবিল সহ কয়েকটি কম্পিউটার ও ল্যাপটপ ভাংচুর করে উত্তেজিত শ্রমিকরা।

এসময় অফিস কক্ষে থাকা কারখানার প্রোডাকশন ম্যানেজার মাজহারুল ইসলাম, সহকারী প্রোডাকশন ম্যানেজার নুরন নবী ও আলতাফ হোসেনসহ ৯ কর্মকর্তা গুরুতর আহত হন। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে শিল্প পুলিশ গেলে তাদেরকে লক্ষ্য ইট পাটকেল ছুড়ে শ্রমিকরা। এসময় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলী ছুড়ে। এসময় শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে বেশ কিছু নারী শ্রমিকসহ ২০-২২ জন আহত হয়।

পরে খবর ঘটনাস্থলে আরো শিল্প পুলিশ ও রর্‌্যাব সদস্যরা গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। এ ঘটনায় কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশেও আহত হয়েছে।

কয়েকজন শ্রমিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানায়, বাৎসরিক ছুটিসহ কয়েটি দাবি করা হলে কারখানা কর্তৃপক্ষ শ্রমিক ছাটাইয়ের ভয় দেখায়। তাই আমরা আন্দোলনে গেলে কারখানা কর্তৃপক্ষ পুলিশ দিয়ে শ্রমিকের উপর লাঠিচার্জ করিয়েছে।

কারখানার এডমিন কর্মকর্তা জামাল হোসেন জানায়, শ্রমিকরা সকালে বাৎসরিক ছুটির টাকার দাবিতে হটাৎ কর্মবিরতি রেখে আন্দোলন করে। শ্রমিকদের বুঝিয়ে কাজে যোগদান করতে বললে তারা আরো চড়াও হয়ে অফিস কক্ষ ভাংচুর করে।এসময় অফিস কক্ষের কয়েকটি কম্পিউটার, ল্যাপটপ, ও থাই গ্লাশ ভাংচুর করে বাধা দিতে গেলে তারা আমাদের ৯ কর্মকর্তাকে রড দিয়ে পিটিয়ে আহত করে।

শিল্প পুলিশের ওসি মোরশেদ জানান, শ্রমিকরা সকালে থেকেই আন্দোলন করছে। কয়েকবার শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়ে পরে পুলিশের সংখ্যা বাড়ানো হয়। আমাদের কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে। কারখানায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।