সিরাজগঞ্জ সংবাদদাতা : শুষ্ক মৌসুমে সিরাজগঞ্জের কাজীপুরে যমুনা নদীর তীর সংরক্ষণ এলাকার দুটি স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে নদীতে ধসে পড়েছে বেশ কিছু অংশ। স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে পানির স্রোত তীব্র হয়ে পশ্চিম তীরের সংরক্ষণ এলাকায় আঘাত হানছে, ফলে এ ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। অসময়ের এই ভাঙনে নদীপাড়ের মানুষের মধ্যে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং ভাঙন রোধে জিও ব্যাগভর্তি বালুর বস্তা ফেলা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কাজীপুর উপজেলার কাজীপুর মৌজায় বালুমহাল ইজারা দেওয়া থাকলেও প্রভাবশালী একটি মহল শুষ্ক মৌসুমে ইকোপার্ক এলাকা, পলাশপুর ঘাট, মেঘাই ঘাট ও ঢেকুরিয়া এলাকায় অবৈধ ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করে আসছে। এতে নদীর তলদেশে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। গত এক সপ্তাহ ধরে যমুনা নদীতে পানি বাড়তে শুরু করলে সেই স্রোত এসে পশ্চিম তীরের সংরক্ষণ এলাকায় আঘাত হানে। শুক্রবার রাতে পলাশপুর ঘাট এলাকায় দুটি স্থানে তীর ধসে পড়ে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, ২০১০ সালে কাজীপুরে যমুনা নদীর পশ্চিম তীরে সংরক্ষণ কাজ শুরু হয় এবং ২০১৪ সালে তা সম্পন্ন হয়। পাথরের ব্লক ও বালুভর্তি বস্তা দিয়ে তীর রক্ষা করা হয়েছিল। কিন্তু চলতি শুষ্ক মৌসুমেই দুটি স্থানে তীর ধসে পড়ায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। হুমকির মুখে পড়েছে মেঘাই বাঁধ, ফসলি জমি ও আশপাশের স্থাপনা। বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই এই ভাঙন পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।
সরেজমিনে জানা গেছে, কাজীপুরে প্রায় ৪০টি বালুর পয়েন্ট রয়েছে। এসব পয়েন্ট ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে আওয়ামী লীগ নেতাদের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও সরকার পরিবর্তনের পর এখন সেগুলো বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের কিছু নেতাকর্মীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। প্রতিদিন এসব পয়েন্ট থেকে শত শত ট্রাক বালু বিক্রি হচ্ছে, যার বড় একটি অংশ রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের কাছে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অথচ তাদের কারও নামে বৈধ বালুমহালের ইজারা নেই।
পলাশপুর গ্রামের বাসিন্দা মোমেনা খাতুন বলেন, “আমাদের জমিজমা প্রায় নদীতে চলে গেছে। এখন কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই। নদীতে পানি কম থাকলেও গত রাতে দুই জায়গায় ভেঙে গেছে। সারা বছর বালু তোলে, কিন্তু দেখার কেউ নেই।
একই এলাকার শান্ত বলেন, আমার বাড়ির সামনে থেকেই সারা বছর বালু তোলা হয়েছে। এখানে কোনো বৈধ ইজারা আছে বলে জানি না। গত রাতের ভাঙনে মনে হচ্ছে আমার বাড়িটাও টিকবে না।
সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান বলেন, ধসে যাওয়া স্থানে দ্রুত বালুভর্তি বস্তা ফেলা হচ্ছে। আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। বৈধ ও অবৈধ দুই ধরনের বালু উত্তোলনই হয়। আমরা অবৈধ উত্তোলনের খবর পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিচ্ছি। বাঁধের ক্ষতি করে কাউকে বালু তুলতে দেওয়া হবে না।
কাজীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আইন অনুযায়ী সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা, বাঁধ, গ্যাস পাইপলাইন ও সেতুর এক কিলোমিটারের মধ্যে বালু উত্তোলন নিষিদ্ধ। ইজারা করা এলাকার বাইরে বালু উত্তোলন করতে দেওয়া হবে না। আমরা একাধিকবার অভিযান চালিয়ে জরিমানা করেছি। ভবিষ্যতেও অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সড়কের ভেতর দিয়ে পাইপ বসানোর অনুমোদন কেন দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে সড়ক বিভাগকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।