মোংলা সংবাদদাতা : বাগেরহাটের মোংলা পৌর এলাকার ঠাকুরানী খাল বর্তমানে দখল ও দূষণের কারণে তার স্বাভাবিক অস্তিত্ব প্রায় হারিয়ে ফেলেছে। খালজুড়ে ময়লা-আবর্জনা জমে থাকায় এটি যে একটি খাল-তা বোঝার উপায় নেই বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জন প্রভাবশালী ব্যক্তি খালের দুই পাড় দখল করে সেখানে অবৈধভাবে দোকানপাট, বহুতল ভবন এবং কাঁচা ঘর নির্মাণ করেছেন। এসব স্থাপনার কারণে খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। পাশাপাশি খালে নিয়মিত ময়লা-আবর্জনা ফেলার ফলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে এবং মশার উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।
স্থানীয়রা জানান, খালটি এমনভাবে দখল করা হয়েছে যে অনেক জায়গায় স্থায়ী স্থাপনা গড়ে উঠেছে, ফলে ভবিষ্যতে পুনঃখননের জন্য প্রয়োজনীয় জায়গাও আর অবশিষ্ট নেই। খালের ভেতর দিয়ে চলাচল করাও এখন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে, কারণ দুর্গন্ধ ও আবর্জনায় পরিবেশ নষ্ট হয়ে গেছে।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করে। পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই আশপাশের বসতবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ে। অনেকেই অভিযোগ করেন, ড্রেনেজ ব্যবস্থার সঙ্গে খালের সংযোগ ব্যাহত হওয়ায় পানি দ্রুত নেমে যেতে পারে না, ফলে দীর্ঘসময় জলাবদ্ধতা স্থায়ী হয়। এলাকাবাসী দীর্ঘদিন ধরে খালটি দখলমুক্ত করা এবং পুনঃখননের দাবি জানিয়ে আসছেন। তবে এ বিষয়ে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে তারা অভিযোগ করেছেন। তাদের মতে, দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে এটি বড় ধরনের দুর্যোগে রূপ নিতে পারে।
এদিকে জলাবদ্ধতা নিরসন ও খালের নাব্যতা পুনরুদ্ধারে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাগেরহাট-৩ (রামপাল-মোংলা) আসনের সংসদ সদস্য এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, খালের সীমানা নির্ধারণ (ডিমার্কেশন) এবং দখল সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত কাজ সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে পৌরসভার ড্রেনেজ ব্যবস্থার সঙ্গে খালটির কার্যকর সংযোগ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।