এস আই বাবর, সাতকানিয়া : দক্ষিণ চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার কালীপুর এলাকার বিখ্যাত লিচু এবার মৌসুমের শুরুতেই বাজারে এসেছে। সুগন্ধি, রসালো ও মিষ্টি স্বাদের জন্য খ্যাত কালীপুরের লিচু ইতোমধ্যে স্থানীয় হাটবাজারে ও দেশের বিভিন্ন স্থানে ক্রেতাদের নজর কাড়ছে। কালীপুরের লিচুর চাহিদা প্রতিবছরই অনেক বেশি থাকে। তবে চলতি বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় উৎপাদন ভালো হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় চাষিরা। লিচু গাছে এবার ফলন আশানুরূপ হওয়ায় কৃষকরা খুশি। বাজারে চাহিদা বেশি থাকায় দামও তুলনামূলক ভালো মিলছে।জানা যায়, বাঁশখালী উপজেলার কালীপুর লিচুর জন্য বিখ্যাত। এছাড়া সাধনপুর, পুকুরিয়া, বৈলছড়ি, গুনাগড়ি, পুকুরিয়া, জঙ্গল জলদি, জঙ্গল চাম্বল, পুইছড়িসহ প্রতিটি ইউনিয়নে বাণিজ্যিক ও ঘরোয়াভাবে পাহাড়ি ও সমতল এলাকায় লিচুর চাষ হচ্ছে। জানা গেছে, এবার বাঁশখালীতে ৭১০ হেক্টর জমিতে লিচু চাষ হয়েছে। এছাড়া মধ্যে কালীপুরের ৩০০ হেক্টর, বিভিন্ন বাসা বাড়িতে ঘরোয়াভাবে সহ পুরো উপজেলায় সাড়ে ৮০০ হেক্টর বাগানে বিভিন্ন জাতের লিচুর চাষ হয়েছে। এসবের মধ্যে কালীপুরের স্থানীয় জাত ছাড়াও রাজশাহী বোম্বে, বারি–১, ২, ৩ ও ৪ এবং চায়না ৩ জাতের লিচু রয়েছে। কৃষক শহিদুল ইসলাম জানান, “এবার লিচুর বাগানে কীটনাশক ও সঠিক পরিচর্যার কারণে ফলন ভালো হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবার গাছপ্রতি ফল বেশি ধরেছে।” তিনি বলেন, “প্রথম দিকেই বাজারে বিক্রি শুরু হওয়ায় দাম ভালো পাচ্ছি। প্রতি ১০০ লিচু বিক্রি হচ্ছে৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায়।” গত বুধবার দুপুরে কালিপুর বাজার স্থানীয় বাজার ঘুরে দেখা গেছে, কাঁচা ও আধা-পাকা লিচুর পাশাপাশি পাকা লিচুও বিক্রি হচ্ছে। পাইকাররা কালীপুরের লিচু কিনে দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠাচ্ছেন। রাজধানী ঢাকাসহ নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, চট্টগ্রাম ও সিলেটের বাজারে এই লিচুর বিশেষ চাহিদা রয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আবু ছালেক বলেন, বাজারে আসতে শুরু করেছে বাঁশখালীর কালিপুরের বিখ্যাত রসালো লিচু। এবার ঝড়বৃষ্টির আধিক্য না থাকায় বাঁশখালীতে লিচুর ভাল ফলন হয়েছে। কালিপুর ইউনিয়নের ৩০০ হেক্টরসহ পুরো বাঁশখালীর ৭১০ হেক্টর বাগানে স্থানীয় ও উন্নত জাতের লিচু চাষ হয়েছে। এর মধ্যে রাজশাহীর বোম্বে, বারি ১, ২, ৩, ৪ ও চায়না ৩ জাতের লিচুও চাষ হয়েছে। সাধনপুর, কালিপুর, চাম্বল, পুঁইছড়ী, বৈলছড়ীসহ বাঁশখালীর বিভিন্ন এলাকায় লিচু চাষ হয়েছে। আবহাওয়া এমন অনুকূল থাকলে ভাল ফলন হবে আশাবাদী।