বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের এডভোকেট মো. জাহেদুল ইসলাম গত ২০ মার্চ দৈনিক সংগ্রাম-এ প্রকাশিত ‘ঝরেপড়া শিক্ষার্থীদের ১২ কোটি টাকা গিলে খেলো এনজিও স্কাস-সংযোগ’ শীর্ষক সংবাদের প্রেক্ষিতে এক লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন।
তিনি সাদিয়া নাসরিন এর বরাত দিয়ে সংবাদটির প্রতিবাদ করেছেন। তিনি বলেন, সংবাদটি ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। সংবাদদাতা কোনো যাচাই-বাছাই না করে, সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কোনো কর্মকর্তার সাথে কথা না বলে মনগড়াভাবে প্রতিবেদনটি করেছেন।
তিনি উল্লেখ করেন, সংযোগ বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহীর বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন ও কল্পনানির্ভর তথ্য পরিবেশন করা হয়েছে। এতে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সম্মানহানি করা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, প্রকৃত প্রস্তাবে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো-এর আউট অব স্কুল চিনড্রেন প্রোগ্রাম (OOSC-PEDP4) ‘সেকেন্ড চান্স’ প্রকল্পের আওতায় কক্সবাজার জেলা কনসোর্টিয়ামের অংশ হিসেবে “সংযোগ বাংলাদেশ” রামু উপজেলায় ৭০টি শিখন কেন্দ্রের মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম থেকে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের পাঠদান করছে এবং প্রকল্পটি ২০২৪-এর ডিসেম্বর মাসে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এ প্রকল্পের টাকা কোনভাবেই তসরুপ করার সুযোগ নেই। প্রকল্পের শুরু থেকে শিক্ষার্থী নির্বাচন থেকে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা পর্যন্ত প্রতিটি ধাপ লীড এনজিও স্কাস এবং উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর সহকারী পরিচালকের কার্যালয় থেকে কঠোর মনিটরিং এর মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হয়। সরকারের উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা নিয়মিতভাবে এই প্রকল্পের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। প্রকল্পটি নিয়মিত মনিটরিং এবং অগ্রগতি পর্যালোচনার জন্য সরকারের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে IVA কমিটি করে দেয়া হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা, উপজেলা পশুসম্পদ কর্মকর্তাসহ উপজেলার অন্যান্য কর্মকর্তা এই IVA কমিটির সদস্য।
প্রকল্পটি সঠিকভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করার ক্ষেত্রে IVA কমিটির সদস্যবৃন্দ কেন্দ্র পরিদর্শন করে শিক্ষক, ঘর মালিক এবং শিক্ষার্থীদের অভিভাবকসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দের কাছে তথ্য সংগ্রহ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে প্রতিবেদন জমা দেন বিধায় সংস্থার পক্ষে নিজস্ব প্রভাব বিস্তার করার বা অর্থ আত্মসাৎ করার সুযোগ নেই।
লিগ্যাল নোটিশে বলা হয়, কক্সবাজার জেলার তিনটি এনজিও এর বাজেট ১৫ কোটি টাকা। সংযোগ বাংলাদেশ -এর বাজেট মাত্র ৫ কোটি টাকা। ২০২১ থেকে জুন ২০২৪ সাল পর্যন্ত সংযোগ বাংলাদেশ এর অনুকূলে অর্থ ছাড় করা হয় ৩,০৫,৪৬,৪৫৭ টাকা। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও জানুয়ারি-ডিসেম্বরের উপকরণ বিল এখনও ছাড় করা হয়নি। জুলাই-ডিসেম্বর মেয়াদের শিক্ষা বেতন, ঘর ভাড়াসহ কেন্দ্র ব্যবস্থাপনা খরচের বিল এখনও দেয়া হয়নি। সুতরাং যেখানে বিলই হয়নি সেখানে প্রকাশিত সংবাদের কথিত ১২ কোটি টাকা আত্মসাতের কথা অবান্তর।