মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা : মির্জাপুর উপজেলা সদরে দখলের কবলে সরকারি খাল, নদী ও হাটবাজার। এতে পরিবেশ হুমকির মুখে পড়েছে। সেইসঙ্গে সরকারের কয়েকশ কোটি টাকার সম্পত্তি প্রভাবশালী মহল দখল করে পাকা ভবন নির্মাণ করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। নামে বেনামে সরকারি এসব সম্পত্তি রাতারাতি দখল হলেও প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে স্থানীয় লোকজন অভিযোগ করেছেন। মঙ্গলবার উপজেলা সদরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে সরকারি সম্পত্তি দখলের সত্যতা পাওয়া গেছে।

জানা যায়, আশির দশক থেকে বারোখালি খালটির দুই পাড় ধীরে ধীরে অবৈধ দখল প্রক্রিয়া শুরু হয়। দখল করা স্থানগুলো একাধিকবার হাতবদল হয়ে এখন বাসাবাড়িসহ বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। খালটির দুই পাড় অব্যাহত দখলের ফলে বর্তমান প্রশস্ততা কমে দাঁড়িয়েছে ৪০ ফুটে। উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার আওয়াল হোসেন বিষয়টি জানিয়েছেন। এ দখল প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকলে ঐতিহ্যবাহী এ খালটি একসময় বিলীন হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন অভিযোগ করে বলেন, খাল দখল করে ভবন নির্মাণের কথা মির্জাপুর পৌরসভার প্রশাসনকে অবহিত করা হলে তারা সরেজমিন এসে কাজ বন্ধ করে দেন। এর কয়েকমাস পর আবার ভবনের কাজ শুরু হয়।

উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, মির্জাপুর উপজেলা সদরের বাইমহাটি এলাকা দিয়ে প্রবাহিত এক সময়ের খর¯্রােতা বারোখালি খাল এবং বাজারের উত্তর পাশ দিয়ে প্রবাহিত বংশাই নদীর মালিক সরকার। এসব সম্পত্তি সরকারের খাস খতিয়ানভুক্ত। কালের বিবর্তনে বারোখালি খাল ও বংশাই নদী ভরাট হয়ে আসলে স্থানীয় একটি চক্র সরকারি এসব সম্পত্তি দখলের প্রতিযোগিতায় নামেন। খাল ও নদীর আশপাশ এবং বুক ভরাট করে পাকা ভবন ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করে চলেছে। যে যার মতো পারছেন সেভাবেই দখল করে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, উপজেলা সদরের প্রফেসরপাড়া, বাইমহাটি, বাওয়ারকুমারজানি, মির্জাপুর সরকারি কলেজসংলগ্ন, বাইমহাটি কেন্দ্রীয় গোরস্তান সংলগ্ন, বংশাই রোড, মির্জাপুর বাইপাস রোড, গাড়াইল, পুষ্টকামুরি, কাঁচাবাজারসহ অধিকাংশ এলাকায় সরকারি সম্পত্তি দখলের প্রতিযোগিতা চলছে। এসব সরকারি সম্পত্তির মূল্য প্রায় কয়েকশ কোটি টাকা

পরিতোষ রায় বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পৌর শহরের পানি নিষ্কাশন ও নাব্য ফিরিয়ে আনতে ঐতিহ্যবাহী বারোখালি খালটি দখলমুক্ত করা প্রয়োজন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সালমান হাবীব বলেন, সরকারি নদী ও খালসহ কোনো সম্পত্তি ব্যক্তিমালিকানায় দখলের কোনো সুযোগ নেই। যারা অবৈধভাবে এসব স্থাপনা দখলে রেখেছেন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে এগুলো উচ্ছেদ করা হবে।