বাংলাদেশে ভালো ও স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করতে ১৯টি সুপারিশ দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন। এর মধ্যে ছয়টি সুপারিশকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন ২০২৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ৪ মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশে অবস্থান করে। এ সময় ইইউ সদস্যভুক্ত রাষ্ট্র, কানাডা, নরওয়ে এবং সুইজারল্যান্ড থেকে আসা ২২৩ জন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক দেশের ৬৪ জেলায় মোতায়েন ছিলেন।

গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে এসব সুপারিশ করেন ইইউর নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান ইভার্স ইজাবস।

এ সময় ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ইভার্স ইজাবস বলেন, নির্বাচনে কোনো ধরনের ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং আমাদের চোখে পড়েনি। যদি কোনো রাজনৈতিক দলের ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে অভিযোগ থাকে, তাহলে তারা আইনি প্রক্রিয়ায় যেতে পারে।

তিনি বলেন, ২০০৮ সালের পর এমন বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, যার মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের ওপর জনগণের আস্থা ফিরে আসছে। সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথেষ্ট ছিল। ফলাফল প্রাথমিক ও চূড়ান্তভাবে প্রকাশ নিয়ে কোনো অস্বচ্ছতার অভিযোগ ছিল না।

ইভার্স আরও বলেন, প্রার্থীরা স্বচ্ছভাবে প্রচারণা চালাতে পেরেছেন। যে কোনো রাজনৈতিক সংকট নিয়ে সংলাপের যথেষ্ট সুযোগ ছিল। যখনই কোনো অভিযোগ এসেছে বা নির্বাচনকালীন সময়ে কোনো সংকট তৈরি হয়েছে, তা দ্রুত ও বিশ্বাসযোগ্যভাবে সমাধান করা হয়েছে।

তবে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য সবাইকে আরও কাজ করতে হবে বলে জানান ইভার্স ইজাবস। এজন্য তাদের পক্ষ থেকে ১৯টি সুপারিশ করা হয়েছে বলে জানান তিনি। গত বছরের শেষ দিক থেকে ইইউর নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন বাংলাদেশে অবস্থান করছে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনের দিন ইউরোপীয় ইউনিয়নের সব সদস্য রাষ্ট্রের পাশাপাশি কানাডা, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ড থেকে আসা ২২৩ জন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক দেশের ৬৪টি প্রশাসনিক জেলায় দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচন নিয়ে মিশনটি তাদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করেছে, স্বচ্ছ দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রেখেছে এবং প্রায় ৭ লাখ ৭০ হাজার প্রবাসী ভোটারের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছে। প্রতিবেদনে নির্বাচনী আচরণবিধি কার্যকরে নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচার কমিটির সক্রিয় ভূমিকার প্রশংসা করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রতিরোধে গৃহীত উদ্যোগ এবং নাগরিক পরিসর পুনরুজ্জীবিত হওয়ার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মিশন ছয়টি অগ্রাধিকার সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে-নির্বাচনের আইনি কাঠামোর ব্যাপক সংস্কার, নির্বাচনী প্রচারণার অর্থায়ন সংক্রান্ত বিধানগুলো আরও শক্তিশালী করা, নারীর অংশগ্রহণ বাড়াতে ইতিবাচক পদক্ষেপ, ডিজিটাল পরিসর অধিকতর নিরাপদ করার লক্ষ্যে সংস্কার, ভোট গণনায় অধিক স্বচ্ছতা এবং পোস্টাল ব্যালটে ভোটদানের আওতা সম্প্রসারণ।