তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা : চলনবিলের বুক চিরে প্রবাহমান ১৬টি নদীর মধ্যে কাটাখাল একটি নদী যা আত্রাই ও ভদ্রাবতী হয়ে বড়াল নদীতে পড়েছে। উত্তরাঞ্চলের পদ্মা নদীর মুখে ভারতের স্থানী আগ্রাসী বাঁধ চলনবিলের নদ নদীকে ধ্বংস করছে। সেই সাথে প্রভাবশালীদের নদী দখল ও দূষণে ভরাট হয়ে চলনবিলের অস্তিত্ব হারাতে বসেছে। চলনবিলের কাটা নদীর পাড় কেটে মাটি বিক্রির জমজমাট ব্যবসা চলছে। প্রকাশ্যে দিবালোকে নদীর মাটি ভেকু মেশিন দিয়ে কেটে ড্রাম ট্রাকে পুলিশের সামনে দিয়ে বিক্রি করলেও দেখার কেই নেউ। সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার হামকুড়িয়ার হাটিকুমরুল বনপাদা মহা সড়কের ৮নং ব্রিজের নিজ দিয়ে বয়ে চলা কাটা নদীর পাড় মাটি কেটে উজাড় করছে মাটি খেকো অসাধু ব্যবসায়িরা।
আশির দশকে চলনবিলের নদ নদী সংস্কার করা হয়েছিল। তারপর একবার নামমাত্র কাটা নদী সহ চলনবিলে গুমানী ভদ্রাবতী বড়াল কাটাখালসহ ৫টি নদী সংস্কার করলেও তা এখন সংরক্ষণের অভাবে চলনবিল শেষ হতে চলেছে। সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার কাটা খাল হামকুড়িয়া গ্রামের দক্ষিণে ও ৮নং ব্রিজের উত্তরে দক্ষিণ শ্যামপুর পযর্ন্ত নদীর পাড় কেটে সাবার করে ফেলেছে। বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেও কোন ফল হয় নাই। মাটি খোররা নদীর পাড় কেটেই চলেছে। স্থানীয় ব্যাক্তি বর্গরা বলেন চলনবিলের কাটা নদীর পাড় কেটে ট্রাকে করে মাটি নিয়ে যাচ্ছে একটি অসাধু চক্র। প্রকাশ্যে দিবালোকে নদীর পাড় কেটে অবৈধ এ মাটির ব্যবসা চললেও দেখার যেনো কেউ নেই।
জানা যায়, অনেক দিন ধরে স্থানীয় একটি চক্র নদীর পাড় কেটে মাটির ব্যবসা করছে। শ্রমিক দিয়ে মাটি ড্রাম ট্রাকের সাহায্যে বিক্রি করছে, আর লুটে নিচ্ছে টাকা।
এদিকে, অব্যাহতভাবে পাড় কাটায় নদীভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে নদী তীরবর্তী বসতভিটা, খেলার মাঠ ও দোকানপাট। নদীর তীর রক্ষায় এই অবৈধ মাটি বিক্রি বন্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয়রা জানান, শুষ্ক মওসুমে শুরু হয় নদীর পাড় কাটা। গত ৬ মাস ধরে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল নদীর পাড় কেটে মাটি নিয়ে যায়। দিনে-দুপুরে ট্রাকে করে মাটি নিয়ে গেলেও ব্যবসায়ীরা প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে কেউ কিছু বলছে না। দীর্ঘদিন ধরে পাড় কাটা বন্ধে সচেতন মহল থেকে দাবি উঠলেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় হতাশ এলাকাবাসী।
সরেজমিনে কাটানদীর বড়পাড় নদী তীরবর্তী এলাকায় গেলে দেখা যায়, ১০-১২ জনের এক দল শ্রমিক কোদাল ও বেলচার ও ভেকুর সাহায্যে মাটি কেটে ট্রাক ভরছে। মাটি কাটার এই দৃশ্য ক্যামরাবন্দি করতেই শ্রমিকর ও অসাধুরা সাংবাদিকের উপড় চরাও হয়। পাড় কাটার বিষয়ে ট্রাক বোঝাই কাছে জানতে চাইলে কোনো কথা বলতে রাজি হননি।