রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার দাওকান্দি সরকারি কলেজের আলোচিত ঘটনায় নারী প্রদর্শক আলেয়া খাতুন হীরাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। অধ্যক্ষের কার্যালয়ে বিএনপিকর্মী শাহাদ আলীকে চড় মারার ঘটনায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একইসঙ্গে কলেজ কর্তৃপক্ষও ভয়ের কারণে কোনো মামলা করেনি। তবে আলেয়াকে জুতাপেটা করা ওই বিএনপিকর্মী শাহাদ আলী এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। তার বিরুদ্ধে আগে থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকলেও পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

গত বৃহস্পতিবার তাফসির মাহফিলের নামে চাঁদা সংগ্রহ করতে কয়েকজন বিএনপি নেতা কলেজের অধ্যক্ষের সঙ্গে দেখা করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি আকবর আলী, ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি জয়নাল আবেদীন, ওয়ার্ড বিএনপির নেতা আফাজ উদ্দিন, এজদার আলী এবং গ্রাম্য মাতব্বর আব্দুস সামাদ ওরফে সামাদ দারোগা।

অধ্যক্ষের কার্যালয়ে উপস্থিত অবস্থায় তাদের সঙ্গে প্রদর্শক আলেয়া খাতুন হীরার বাগবিত- শুরু হয়। আলেয়ার অভিযোগ, এ সময় শাহাদ আলী তাকে উদ্দেশ্য করে আপত্তিকর মন্তব্য করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি শাহাদ আলীকে চড় দেন। এর জেরে শাহাদ আলী তাকে জুতাপেটা করেন এবং চুল ধরে টানাহেঁচড়া করেন। একই সময় অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাককেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনার পর বিএনপি নেতাকর্মীরা শনিবার সংবাদ সম্মেলন করে অধ্যক্ষ ও প্রদর্শকের অপসারণের দাবিতে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেয়। পাশাপাশি বিকেলে এলাকায় বিক্ষোভ কর্মসূচিও পালন করা হয়।

পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) রাজশাহী অঞ্চলের পরিচালক অধ্যাপক মো. আছাদুজ্জামান রোববার দুপুরে কলেজটি পরিদর্শন করেন এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান। তবে তিনি কলেজে গিয়ে অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক ও প্রদর্শক আলেয়া খাতুনকে পাননি। অসুস্থতার কারণে তারা অনুপস্থিত রয়েছেন বলে জানানো হয়। পরে কলেজ থেকে ফিরে মাউশি কার্যালয়ে অধ্যক্ষকে ডেকে আলেয়া খাতুন হীরাকে সাময়িক বরখাস্ত করার নির্দেশ দেন পরিচালক অধ্যাপক মো. আছাদুজ্জামান। বিষয়টি তিনি নিজেই নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, উচ্ছৃঙ্খল আচরণের অভিযোগে আলেয়ার বিরুদ্ধে এলাকায় বিক্ষোভ হচ্ছে। এ কারণে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনার বিষয়ে অধ্যক্ষ ও প্রদর্শককে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে এবং তাদের জন্য ২৪ ঘণ্টার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকেও ঘটনার বিষয়ে একটি প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট তিনটি প্রতিবেদন একত্র করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে বলে জানা গেছে।

দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পঞ্চানন্দ সরকার গণমাধ্যমকে জানান, অধ্যক্ষ থানায় এসে জিডি করতে চাননি; অনলাইনে জিডি করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু এ ধরনের বিষয়ে অনলাইনে জিডি করার সুযোগ না থাকায় তা করা সম্ভব হয়নি। ওসি আরও জানান, নারী প্রদর্শক আলেয়াকে জুতাপেটা করা শাহাদ আলীর বিরুদ্ধে আগেই একটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। ওই পরোয়ানা নিয়েই তিনি কলেজে এসে ঘটনাটি ঘটান।