নাজমুল হুদা রূপগঞ্জ থেকে : ঢাকা সিলেট মহাসড়কের রূপগঞ্জ অংশের আসন্ন ঈদ যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে যানজট নিরশনে রাস্তায় ট্রাফিকের দায়িত্ব পালন করছে শতাধিক শিক্ষার্থী ও স্বেচ্ছাসেবী। উপজেলার ঢাকা সিলেট মহাসড়ক ও এশিয়ান হাইওয়ে সড়কের গুরুত্বপূর্ণ ও যানজট সৃষ্টিকারী স্পট গুলোতে যানবাহনের দীর্ঘ সারী ঠেকাতে কাজ করছেন এসব স্বেচ্ছাসেবীগণ। উভয় মহাসড়কের ভুলতা গাউছিয়া, কাঞ্চন সেতু,মুড়াপাড়া, রূপসী, তারাবোসহ আশপাশের এলাকায় এখন যানজট অনেকাংশেই কমেছে।

রূপগঞ্জ উপজেলার উপর দিয়ে বয়ে চলা নির্মাণাধীন ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ও গাজীপুর- চট্টগ্রাম বাইপাস সড়ক, কাঞ্চন ব্রিজ থেকে ডেমরা সড়কের সম্প্রসারণের কাজ চলছে। একদিকে সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ চলমান। অন্যদিকে প্রয়োজনীয় বিকল্প রাস্তা না থাকায় যানবাহনের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

আসন্ন ঈদকে ঘিরে জমে ওঠেছে ভুলতা গাউছিয়া পাইকারী কাপড়ের হাট। পিছিয়ে নেই স্থানীয় হাটবাজারগুলো। সারা দেশের ব্যবসায়ীরা ছুটে আসছেন এখানে। কারখানার শ্রমিকদের সড়ক পারাপার, বেতন-ভাতার দাবিতে সড়ক অবরোধ, যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং, যাত্রী উঠানামাসহ নানা কারণেই সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। এই যানজট ছড়িয়ে পড়ছে উপজেলার অব্যন্তরীণ সড়কে। তাতে ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। দেশের পূর্বাঞ্চলীয় ১৮জেলার মানুষ এই উপজেলার উপর দিয়ে রাজধানী ঢাকার অভিমুখে ঈদ যাত্রায় ভোগান্তি নিয়ে যাতায়াত করছে।

ঈদ যাত্রায় যানজট নিরসনে স্বেচ্ছা সেবীদের উদ্বুদ্ধ করে এ ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইফুল ইসলাম । রূপগঞ্জ ইউএনওর এ উদ্যোগে মহাসড়কে অনেক অংশে স্বস্থি ফিরেছে।

ঈদ উপলক্ষে জমে ওঠা রূপগঞ্জের মার্কেট, শপিংমল, অভ্যন্তরীণ সড়কগুলো ব্যস্ত। লোকে লোকারণ্য। জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানে সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। কখনো যানজট রূপ নিচ্ছে তীব্র ও স্থায়ী যানজটে। থেমে থেমে চলছে গাড়ির চাকা। ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক যান চলাচল। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কর্মক্ষম মানুষ। তাতে অপচয় হচ্ছে অর্থের। নষ্ট হচ্ছে সময়। ভোগান্তিতে পড়ছে ঘরমুখী সাধারণ মানুষ। মহাসড়ক গুলোর যানজট নিরশনে রূপগঞ্জ ইউএনওর এই উদ্যোগ সড়কের শৃঙ্খলা ফেরাতে সাহায্য করছে। পুরো উপজেলায় প্রতিটি মোড়, চৌরাস্তা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে নিয়োগ দিয়েছেন শতাধিক স্বেচ্ছাসেবী ও শিক্ষার্থী ট্রাফিক ফলে কমেছে যানজট। কিছুটা স্বস্তি নিয়ে নির্বিঘ্নে যাতায়াত করছেন মানুষ।

রূপগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের লোগো সম্বলিত হলুদ-টিয়া রংয়ের কটি পরিহিত এক হাতে ছাতা, অন্য হাতে বাঁশি নিয়ে এসকল শিক্ষার্থী ও স্বেচ্ছাসেবীরা কাজ করছেন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত। রাতে জ্বলছে হাতে থাকা লাইট। নিয়োজিত সবাই স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। দায়িত্ব পালন করছেন স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবীরাও।

রূপগঞ্জে মহাসড়কের যানজট নিরসনে এবারই প্রথমবারের মতো কোনো উপজেলা নির্বাহী অফিসার ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। তাতে পথচারী, ঈদে ঘর ফেরা মানুষ ও পরিবহন যাত্রীরা সুফল পাচ্ছে।

নিঃস্বার্থ সমাজকল্যাণ যুব সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ইফতেখার ভুইয়া রিদ্বীন জানান, শতাধিক স্বেচ্ছাসেবী সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্নে ও নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি কাজ করছি।

রূপগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবী ঐক্য পরিষদের সভাপতি নজরুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থী ও স্বেচ্ছাসেবীদের ট্রাফিক দায়িত্ব পালনে যানজট নিরসনের পাশাপাশি চাঁদাবাজি. ছিনতাইসহ অপরাধ প্রবণতা হ্রাস পেয়েছে।

রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন, এবারের রমযান মাস ও ঈদে ভোগান্তি ছাড়া মানুষের স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ঈদের দিন পর্যন্ত শিক্ষার্থী ও স্বেচ্ছাসেবীরা সড়কে ট্রাফিকের দায়িত্ব পালন করবে। তাদের অধিকাংশই স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।