খুলনাসহ দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষ ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের কবলে পড়েছে। গত বুধবার দুপুরে চাহিদার বিপরীতে বিদ্যুতের ঘাটতি ছিল ২০৩ মেগাওয়াট। ফলে বিপাকে পড়েছে শিক্ষার্থী, পরীক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ। প্রচন্ড গরম আর বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ে অতিষ্ট মানুষ। দিনে-রাতে ঘন্টায় ঘন্টায় বিদ্যুৎ যাচ্ছে-আর আসছে বলে অভিযোগ গ্রাহকদের। ভোরে এমনকি মধ্যরাতেও বিদ্যুতের সরবরাহ বন্ধ থাকছে। বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ কম থাকায় এই ঘাটতি দেখা দিয়েছে। ফলে ফিডার ভিত্তিক লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।

ওয়েস্টজোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানী সূত্রে জানা যায়, খুলনা বিভাগের ১০ জেলা, বরিশাল বিভাগের ছয় জেলা ও বৃহত্তর ফরিদপুরের পাঁচ জেলাসহ মোট ২১ জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহের দায়িত্বে রয়েছে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো)। এই ২১ জেলায় বিদ্যুতের গ্রাহক রয়েছে ১৭ লাখ ২৮ হাজার ৩১৬ জন।

ওজোপাডিকো সূত্র আরও জানায়, ২১ জেলায় ওজোপাডিকোর আওতাধীন এলাকায় গত বুধবার দুপুর ১টায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ৮১০ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ ছিল ৬০৭ মেগাওয়াট, অর্থ্যাৎ লোডশেডিং ছিল ২১০ মেগাওয়াট। এর মধ্যে শুধুমাত্র খুলনা জোনে লোডশেডিং ছিল ১৫৫ মেগাওয়াট। এদিন খুলনায় ৬২৩ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ছিল ৪৬৮ মেগাওয়াট। আর বরিশাল জোনে লোডশেডিং ছিল ৪৮ মেগাওয়াট। এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টায় খুলনাসহ ২১ জেলায় লোডশেডিং ছিল ১২৫ মেগাওয়াট।

নগরীর খালিশপুর এলাকার এইচএসসি পরীক্ষার্থী জিয়া ও ময়না বলেন, তিন মাস পর এইচএসসি পরীক্ষা। বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের কারণে দিনে ও রাতে লেখাপড়ায় সমস্যা হচ্ছে। একে তো গরম তার ওপর বিদ্যুৎ যাচ্ছে আর আসছে। রাতেও প্রচন্ড গরম থাকে। পড়তে বসা যায় না। অবশ্য এটি বৈশ্বিক সমস্যা। তবে এটি তদারকি করা প্রয়োজন।

খুলনা জেলার ডুমুরিয়ার গুটুদিয়া গ্রামের স্বপ্না খাতুন বলেন, প্রচন্ড রোদ। অসহ্য গরম। সেই সঙ্গে দিনের বেলায় বিদ্যুৎ না থাকলে ঘরে থাকা কষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সকাল থেকে গভীর রাত অবধি বিদ্যুৎ যাওয়া আসা করে। বিদ্যুৎ যাওয়ার পরে এক বা দেড় ঘন্টা পরে বিদ্যুৎ আসে। ঘন্টাখানিক থাকে, আবার চলে যায়। দিনে-রাতে ৮ থেকে ১০ বার বিদ্যুৎ থাকে না। এভাবে বিদ্যুৎ যাওয়ার জন্য গরমে অসুস্থ হয়ে যাচ্ছি। এছাড়া ইলেক্ট্রনিকস পণ্য নষ্ট হচ্ছে। ফ্রিজে থাকা খাবারও নষ্ট হচ্ছে।

আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, খুলনায় বুধবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে তাপদাহের কারণে বেশি গরম অনুভূত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন খুলনা আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ মো. মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, তাপদাহ চলছে। যে কারণে গরম বেশি। তবে আগামী ২৫ বা ২৬ এপ্রিল খুলনায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

ওজোপাডিকোর প্রধান প্রকৌশলী (এনার্জি, সিস্টেম কন্ট্রোল এন্ড সার্ভিসেস) মো. আব্দুল মজিদ বলেন, গত মঙ্গলবার বিকেল থেকে লোডশেডিং বেড়েছে। বিদ্যুতের সরবরাহ কম পাচ্ছি, তাই কম দিচ্ছি। বৈশি^ক অবস্থার কারণে জ্বালানি সংকটে এই সমস্যা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুন মাসে ৮০৯ মেগাওয়াট চাহিদা ছিল। আর বুধবার দুপুর ১টায় বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা ছিল ৮১০ মেগাওয়াট। আরও বাড়তে পারে। চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ছিল ৬০৭ মেগাওয়াট। লোডশেডিং ছিল ২০৩ মেগাওয়াট। এর মধ্যে খুলনা ও বাগেরহাটের ৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতি ছিল।

চ-১২ (ঋ) ২৩-০৪-২০২৬

ইরানকে জরুরি ওষুধ সামগ্রী দিল বাংলাদেশ

স্টাফ রিপোর্টার

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকটের প্রেক্ষাপটে ভ্রাতৃপ্রতিম ইরানের জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ ও মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মহাসচিব ড. কবির এম আশরাফ আলম ঢাকায় ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রাহিমি জাহানাবাদির কাছে জরুরি ওষুধ সামগ্রী হস্তান্তর করেন।

ঢাকাস্থ ইরানি দূতাবাসে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (দ্বিপাক্ষিক) ড. মু. নজরুল ইসলাম এবং পশ্চিম এশিয়া অনুবিভাগের মহাপরিচালক মো. হুমায়ুন কবীর উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের আহত জনগণের চিকিৎসা সহায়তার লক্ষ্যে জরুরি ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম ক্রয়ের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ৬ এপ্রিল বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিকে এক কোটি টাকা অনুদান দেন।

অনুষ্ঠানে সচিব (দ্বিপাক্ষিক) ড. মু. নজরুল ইসলাম মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে ব্যাপক প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির জন্য গভীর উদ্বেগ ও দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সব সময় শান্তির পক্ষে। তিনি আশা ব্যক্ত করেন যে, কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ উপায়ে এই সংকটের সমাধান হবে এবং মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে।

ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রাহিমি জাহানাবাদি সহায়তা গ্রহণকালে বাংলাদেশ সরকারের এই মানবিক উদ্যোগের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বাংলাদেশ ও ইরানের মধ্যে বিদ্যমান গভীর ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেন এবং এই দুঃসময়ে ইরানের জনগণের প্রতি বাংলাদেশের মানুষের সহমর্মিতা ও আন্তরিক সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানান। বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মহাসচিব ড. কবির বলেন, রেড ক্রিসেন্ট বিশ্বের নিপীড়িত মানুষের জন্য কাজ করে থাকে। যুদ্ধকালীন ইরানের জনগণের জন্য এই মানবিক সহায়তায় অংশগ্রহণ তাদের দায়িত্ব বলে উল্লেখ করেন।