পাউরুটিতে ক্যানসার সৃষ্টিকারী ক্ষতিকর রাসায়নিক পটাশিয়াম ব্রোমেটের ব্যবহার বন্ধ এবং বাজারজাত করা প্রতিটি প্যাকেটে ‘পটাশিয়াম ব্রোমেট ব্যবহার হয়নি’ মর্মে ঘোষণা বাধ্যতামূলক করার নির্দেশনা চেয়ে রিট আবেদনটির শুনানি চলতি সপ্তাহের যেকোনো দিন হাইকোর্টে হতে পারে।
জনস্বার্থে মুভমেন্ট ফর হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড গুড গভর্নেন্স ফাউন্ডেশন (এমএইচআরজিএফ) এই রিটটি দায়ের করেছে।
সোমবার (২৭ জুলাই) রিটকারী পক্ষের আইনজীবী সঞ্জয় মণ্ডল এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, “রিটের শুনানি চলতি সপ্তাহে হওয়ার কথা রয়েছে। কোনো কারণে এ সপ্তাহে শুনানি না হলে আগামী সপ্তাহে শুনানি হবে বলে আশা করছি।”
সঞ্জয় মণ্ডল আরো বলেন, “অনিরাপদ খাদ্যের মাধ্যমে মানুষের শরীরে ক্যানসার সৃষ্টিকারী উপাদান প্রবেশ করছে। এ পরিস্থিতি রোধে আদালতের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।”
এর আগে গত রোববার মুভমেন্ট ফর হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড গুড গভর্নেন্স ফাউন্ডেশনের (এমএইচআরজিএফ) চেয়ারম্যান কবীর আলমগীর জনস্বার্থে এ রিট করেন। রিটে খাদ্য সচিব, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, বিএসটিআই, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ অটো বিস্কুট অ্যান্ড ব্রেড ম্যানুফ্যাকচারিং অ্যাসোসিয়েশন এবং কয়েকটি শীর্ষ বেকারি প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষকে বিবাদী করা হয়েছে।
আবেদনে পাউরুটির মোড়কে ব্যবহৃত উপকরণের তালিকা ও পটাশিয়াম ব্রোমেট ব্যবহার না করার ঘোষণা বাধ্যতামূলক করার পাশাপাশি নিষিদ্ধ এই রাসায়নিকের ব্যবহার বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
কবীর আলমগীর বলেছেন, “সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত পাউরুটিতে পটাশিয়াম ব্রোমেটের উপস্থিতি-সংক্রান্ত প্রতিবেদন এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণার তথ্য রিটের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে।”
তিনি বলেন, “ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য, কানাডা, ভারত, অস্ট্রেলিয়াসহ বিশ্বের প্রায় ৪০টি দেশে পটাশিয়াম ব্রোমেট নিষিদ্ধ। বাংলাদেশেও ২০২২ সালে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ এটি নিষিদ্ধ করলেও বাস্তবে এর ব্যবহার বন্ধ হয়নি।”
রিটে বলা হয়েছে, ভেজাল ও অনিরাপদ খাদ্যের কারণে দেশের লাখো মানুষ স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন। প্রতিবছর ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। এ অবস্থায় খাদ্য উৎপাদনে নিষিদ্ধ রাসায়নিকের ব্যবহার জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর হুমকি।
এর আগে, ২০২১ সালে ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে সংগ্রহ করা ১৯টি পাউরুটির নমুনা পরীক্ষা করে ১৬টিতে মাত্রাতিরিক্ত পটাশিয়াম ব্রোমেট পাওয়া যায়। এর পর বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ রুটি, পাউরুটি ও অন্যান্য বেকারি পণ্যে পটাশিয়াম ব্রোমেট (KBrO₃) ও পটাশিয়াম আয়োডেট (KIO₃) ব্যবহার নিষিদ্ধ করে।
সংস্থাটি তখন জানায়, পটাশিয়াম ব্রোমেট মানবদেহে থাইরয়েডের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। এটি ক্যানসার সৃষ্টিকারী (কারসিনোজেন) হিসেবে চিহ্নিত এবং জিনগত পরিবর্তনের ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে। এছাড়া, ডায়রিয়া, বমি ভাব ও পেটের নানা জটিলতার কারণ হতে পারে।
নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালেও কয়েকটি নমুনায় পটাশিয়াম ব্রোমেটের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। একইসঙ্গে কিছু নমুনায় অনুমোদিত মাত্রার চেয়ে বেশি ক্যালসিয়াম প্রোপিওনেটও শনাক্ত হয়েছে। বিষয়গুলো নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন ও ডাটাবেজ প্রস্তুত করা হচ্ছে।