শহিদুল্লাহ মনসুর, জাবি সংবাদদাতা
আগামী পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে দেশের প্রধান প্রধান পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থানরত সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যতিক্রমধর্মী ও উৎসবমুখর সব আনন্দ আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিশ্ববিদ্যালয় শাখাগুলো। ঈদের মূল চেতনাÑত্যাগ, কুরবানি, সহমর্মিতা ও সৌহার্দ্যকে সামনে রেখে প্রতিটি ক্যাম্পাসে স্থানীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে মিল রেখে রাখা হয়েছে ভিন্ন নাম। কোথাও পুরান ঢাকার আদলে “দস্তরখান-এ-ঈদ”, কোথাও চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবানের আদলে “মেজবান-ই ঈদ”, আবার কোথাও চাটগাঁইয়া ভাষায় “আইয়্যো ঈদ’র গোস্ত হাই”Ñপ্রতিটি আয়োজনেই থাকছে শিক্ষার্থীদের জন্য ভোজ, শুভেচ্ছা বিনিময় ও মিলনমেলার আবহ।
পরিবার থেকে দূরে ঈদের সময় ক্যাম্পাসে থাকা শিক্ষার্থীদের মাঝে আনন্দ ভাগাভাগি, ভ্রাতৃত্ববোধ ও সম্প্রীতির বার্তা পৌঁছে দিতে এসব উদ্যোগ নেওয়া হয়ে থাকে। এবারের ঈদে এখন পর্যন্ত আয়োজনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় পূর্ব শাখা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে আয়োজন করা হয়েছে “দস্তরখান-এ-ঈদ”। ঈদের রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে বিশেষ নৈশভোজ। আয়োজকরা বলছেন, পরিবার-পরিজন ছাড়া হলে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের জন্য ঈদের দিনটিকে কিছুটা হলেও আনন্দময় করে তুলতেই এই উদ্যোগ। ইতোমধ্যে গুগল ফর্মের মাধ্যমে হলে থাকা শিক্ষার্থীদের তথ্য সংগ্রহ সম্পন্ন হয়েছে।
অন্যদিকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজন করা হচ্ছে “মেজবান-ই ঈদ”। চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবানি সংস্কৃতির আদলে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ঈদের দিন দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়ায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য থাকবে ভোজ ও ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময়ের আয়োজন। অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে আগেই উন্মুক্ত করা হয়েছে নিবন্ধন কার্যক্রম।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশিবির আয়োজন করছে ব্যতিক্রমধর্মী অনুষ্ঠান “আইয়্যো ঈদ’র গোস্ত হাই”। প্রমিত ভাষায় এর অর্থ হয় 'আসো ঈদের গোশত খাই'। আঞ্চলিক ভাষার এই শিরোনাম ইতোমধ্যেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলাদা আগ্রহ তৈরি করেছে। ঈদের পরদিন রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সোহরাওয়ার্দী হল এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া হলের ডাইনিং এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে।
এবারের আয়োজনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে ঢাকায় অবস্থানরত প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ছাত্রশিবির প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি পূর্ব শাখার উদ্যোগ “সফরা এ ঈদ”। ঈদের দিন দুপুর ২টায় উত্তরা ও বসুন্ধরা এলাকায় অনুষ্ঠিতব্য এই আয়োজনে থাকবে ঐতিহ্যবাহী মেজবানি ভোজ, ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় এবং মিলনমেলার পরিবেশ।
বিশেষভাবে নজর কেড়েছে ভিন্ন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা ব্যবস্থার ঘোষণা। আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, ক্যাম্পাসে অবস্থানরত সকল শিক্ষার্থী যেন উৎসবের আনন্দে শামিল হতে পারেন, সে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়েই পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে। শিক্ষার্থীদের অনেকে এটিকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের ইতিবাচক উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।
বিভিন্ন ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঈদের সময় অনেক শিক্ষার্থী নানা কারণে বাড়ি যেতে পারেন না। বিশেষ করে দূরবর্তী অঞ্চল, আর্থিক সীমাবদ্ধতা কিংবা ব্যক্তিগত ব্যস্ততার কারণে অনেককেই হলে থেকেই ঈদ উদযাপন করতে হয়। ফলে এ ধরনের আয়োজন তাদের জন্য একদিকে যেমন মানসিক স্বস্তি এনে দেয়, অন্যদিকে তৈরি করে পারিবারিক আবহের অনুভূতি।
শিক্ষার্থীদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে উৎসবের স্মৃতি শুধু আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং সহপাঠীদের সঙ্গে ভাগাভাগি করা মুহূর্তগুলোই হয়ে ওঠে সবচেয়ে মূল্যবান। আর সে জায়গা থেকেই ছাত্রশিবিরের এই উদ্যোগগুলো ক্যাম্পাসজুড়ে তৈরি করেছে উৎসবের নতুন আমেজ। ঈদকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের মাঝে সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ব ও অংশগ্রহণমূলক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে এমন আয়োজনগুলো ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলেও মনে করছেন অনেকে।