ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) জগন্নাথ হলে একজন প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর ওপর ছাত্রদলের সংঘবদ্ধ হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ, ক্ষোভ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। পাশাপাশি ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছে সংগঠনটি।

ছাত্রশিবিরের নেতৃবৃন্দ বলেন, হামলায় জড়িত অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতারা হলেন: ঝলক দাস (সেশন: ২০২০-২১, যুগ্ম আহ্বায়ক, জগন্নাথ হল ছাত্রদল ); চন্দন দাস (ফ্রেঞ্চ ল্যাঙ্গুয়েজ, সেশন: ২০২০-২, যুগ্ম আহ্বায়ক, জগন্নাথ হল ছাত্রদল); রিপন (মার্কেটিং, সেশন: ২০২১-২২, যুগ্ম আহ্বায়ক, জগন্নাথ হল ছাত্রদল); সাগর (ম্যানেজমেন্ট, সেশন: ২০২১-২২, ঢাবি ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মী)।

Untitled

সোমবার (২৫ মে) এক যৌথ বিবৃতিতে ঢাবি ছাত্রশিবিরের সভাপতি ও ডাকসু এজিএস মুহা. মহিউদ্দিন খান এবং সেক্রেটারি কাজী আশিক বলেন, "গত রাতে জগন্নাথ হলে সংঘটিত এই ন্যাক্কারজনক হামলা শুধু একজন শারীরিকভাবে চ্যালেঞ্জড শিক্ষার্থীর ওপর বর্বর নির্যাতনই নয়; বরং এটি ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের আধিপত্য, গেস্টরুম সংস্কৃতি, ভয়ভীতিনির্ভর নিয়ন্ত্রণ ও সন্ত্রাসের রাজনীতি ফিরিয়ে আনার অপচেষ্টার বহিঃপ্রকাশ।

এই চরম অমানবিক ও কাপুরুষোচিত হামলার পর ছাত্রদলের শীর্ষ পর্যায় থেকে দলীয় নাম প্রকাশ না করার জন্য ভুক্তভোগীকে চাপ প্রয়োগের অভিযোগ শিক্ষাঙ্গনের ন্যূনতম নৈতিকতার পরিপন্থী ও চরম উদ্বেগজনক।"

নেতৃবৃন্দ বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে গণরুম-গেস্টরুম সংস্কৃতি, অস্ত্রের রাজনীতি, হলকেন্দ্রিক দখলদারিত্ব ও ভিন্নমত দমনের যে কালো অধ্যায় অতীতে শিক্ষাঙ্গনকে কলুষিত করেছে, তার কারিগর ও প্রতিষ্ঠাতা ছিল ছাত্রদল। দীর্ঘদিন পর পুনরায় সেই পুরনো দমনমূলক ধারা ফিরিয়ে আনার লক্ষণ সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোতে স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হচ্ছে। জগন্নাথ হলের এই হামলা সেই ধারাবাহিকতারই অংশ।

তারা আরও বলেন, অতীতেও জগন্নাথ হলে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে রুমে ঢুকে মারধর ও আইলেটের ড. কুদরত-ই-খুদা হোস্টেলে ম্যানার শেখানোর নামে নবীন শিক্ষার্থীদের গেস্টরুমকেন্দ্রিক নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া শাহবাগ থানার ভেতরে ডাকসু নেতৃবৃন্দ ও সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের হামলার ঘটনার এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান বিচার না হওয়া অপরাধীদের জন্য এক ধরনের দায়মুক্তির বার্তা তৈরি করেছে। ছাত্রদলের জুলুম-নির্যাতনের স্পষ্ট প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও ছাত্রদল ও বিএনপির হাই-কমান্ডের চাপে প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তার কারণেই এরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয় কোনো সন্ত্রাসী ছাত্রসংগঠনের দখলদারিত্ব বা আধিপত্য বিস্তারের জায়গা নয়। বর্তমানে ক্যাম্পাসে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে ভয় ও দমনমূলক পরিবেশ তৈরির চেষ্টা চলছে। নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িত ছাত্রদল সন্ত্রাসীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা এবং জগন্নাথ হলে ভুক্তভোগীসহ সব শিক্ষার্থীর জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিতের জোর দাবি জানান।

নেতৃবৃন্দ আহত শিক্ষার্থীর দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কোনো রাজনৈতিক প্রভাব বা প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণে এই ঘটনার বিচার বাধাগ্রস্ত হলে ক্যাম্পাসে আরও ভয়াবহ পরিস্থিতির জন্ম নেবে, যার সম্পূর্ণ দায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকেই বহন করতে হবে।