ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবু জাফর খান বলেছেন, মাদরাসা শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে শুধু পাঠদান নয়; বরং সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। তিনি বলেন, প্রশিক্ষণে অর্জিত জ্ঞান বাস্তবায়নের মাধ্যমেই এ উদ্যোগের প্রকৃত সাফল্য আসবে এবং মাদরাসা শিক্ষায় দৃশ্যমান পরিবর্তন সম্ভব হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকাল ৩.৩০ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মিলনায়তনে কামিল (স্নাতকোত্তর) শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্রের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত দু’দিনব্যাপী “মাদরাসা প্রধানগণের দক্ষতা উন্নয়ন বিষয়ক প্রশিক্ষণ-২০২৬” কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী অধ্যক্ষদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, প্রশিক্ষণ শেষে নিজ নিজ মাদরাসায় ফিরে শিক্ষার্থীদের জন্য কম্পিউটার ল্যাব, বিজ্ঞানাগার ও লাইব্রেরির সুব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে এবং শিক্ষকদের নিয়ে বিষয়ভিত্তিক সেমিনার আয়োজন করতে হবে। তিনি শিক্ষকদের উদ্বুদ্ধ করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, আচার-ব্যবহার ও ভালো কাজে অনুপ্রাণিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক চাকরির বাজারে টিকে থাকতে শিক্ষার্থীদের যোগ্য করে তুলতে আরবি ও ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা গড়ে তোলার উদ্যোগ নিতে হবে। এছাড়াও তিনি আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে বলেন, মাদরাসার আয়-ব্যয়ের সঠিক হিসাব সংরক্ষণ ও অপচয় রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।ভাইস চ্যান্সেলর বলেন, ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় আঞ্চলিক কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে, যাতে অধিভুক্ত মাদরাসাগুলোকে ভবিষ্যতে আরও সহজ ও দ্রুত সহায়তা প্রদান করা যায়। তিনি বলেন, মাদরাসা শিক্ষার উন্নয়নে বিশ্ববিদ্যালয় সব ধরনের সহযোগিতা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

প্রশিক্ষণ কর্মশালার সমাপনি ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম। প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারী মাদরাসার অধ্যক্ষদের মাঝে সনদ প্রদান করেন ভইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. আবু জাফর খান। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার এ এস এম মামুনুর রহমান খলিলী, রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) ফাহাদ আহমদ মমতাজী, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তরের (ভারপ্রাপ্ত) পরিচালক জিয়াউর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, দুদিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণে মাদরাসার একাডেমিক মানোন্নয়ন, প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণসহ বিভিন্ন বিষয়ে সেশন অনুষ্ঠিত হয়।