গণভোটের ফলাফলকে শপথের আওতায় এনে কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন রাজশাহী-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, যদি কোনো কারণে গণভোট বাতিল হয়ে যায়, তবে বর্তমান সংসদ সদস্যদের পদও বাতিলের আইনি ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
গতকাল বুধবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২৪তম দিনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
আলোচনায় অংশ নিয়ে অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, একই অর্ডারে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলো, আবার গণভোটও হলো। আমরা সংসদ সদস্যের শপথ নিলাম, কিন্তু গণভোটের শপথ নিলাম না। বর্তমান আইনজ্ঞরা পর্যালোচনা করছেন যে, যদি গণভোট বাতিল হয়ে যায়, তাহলে সংসদ সদস্য পদও বাতিল হওয়ার আশঙ্কা আছে। শেষ পর্যন্ত আমও যাবে, ছালাও যাবে, মাননীয় স্পিকার।
গণভোট নিয়ে সৃষ্ট দ্বন্দ্ব নিরসনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘গণভোটকে শপথ দিয়ে এটাকে কার্যকরী করতে হবে। তা না হলে এই দ্বন্দ্বের সমাধান হবে বলে মনে হয় না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তিনি অক্ষরে অক্ষরে এটি পালন করবেন। তাহলে শপথটা নিতে অসুবিধা কোথায়? আমরা তো বুঝি না। তাই শপথ নিয়েই এই সংকটের সমাধান করতে হবে।’
জান্নাতের টিকিট বিক্রি সর্ম্পকে অধ্যাপক মুজিব বলেন, আল্লাহ তাআলা সূরা তওবার ১১১ নম্বর আয়াতে বলেছেন যে, আল্লাহ তায়ালা জান-মালকে কিনে নিয়েছেন জান্নাতের বিনিময়ে। এটা আল্লাহর কথা। আপনি জান-মাল দিবেন, বিক্রি করবেন, জান্নাতে যেতে পারবেন। জান-মাল আল্লাহর পথে দিবেন না, আপনার কপালে জান্নাত হবে না। এটা আল্লাহর কথা, এটা মানুষের কথা না। আমি চ্যালেঞ্জ দিলাম, জামায়াতে ইসলামীর কোন নেতা বলেছে আমার কাছে জান্নাতের টিকিট আছে, বিক্রি করছি? মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে জবাব দিতে হবে, কেন তিনি এটা বলছেন। ফখরুল ইসলাম সাহেব বলেছিলেন, আমরা শরীয়তের আইন বিশ্বাস করি না। পরে অবশ্যই আত্মসমর্পণ করে নির্বাচনের আগে বলেছেন, শরীয়তের বিরুদ্ধে আমরা কোনো আইন আমরা পাস করব না। তো ধন্যবাদ ওনাকে যে অন্তত তওবা করে ফিরে এসেছেন। আমরা আল্লাহর আইন চাই। আপনারা আল্লাহর আইনের বিরোধিতা করবেন না বলেছেন, অতএব আসুন বাংলাদেশে মানুষের আইনের কবর রচনা করে কুরআনের আইন প্রতিষ্ঠা করি রাব্বুল আলামীন। আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে সে তৌফিক দান করুক।
তিনি বলেন, আমাদের প্রথম চিন্তা হচ্ছে দুনিয়াতে আমরা কেউ থাকবো না। মরার পরে আমাদের আসল জায়গা। এখানে যা আলোচনা হচ্ছে সব দুনিয়া কেন্দ্রিকই আলোচনা হচ্ছে। আখেরাতে কী হবে এ চিন্তা কারো মনে নাই। আল্লাহ তাআলা সূরা আল-ইমরানের ১৮৫ নম্বর আয়াতে বলেছেন, 'ফামান যুহযিহা আনিন নারি ওয়া উদখিলাল জান্নাতা ফাকাদ ফায'। যে ব্যক্তি জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচতে পারলো সে সত্যিকার সফল হবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করতে পারলো সে সত্যিকার সফল হতে পারবে।
তিনি আরো বলেন, সংসদ লবিতে ঢোকার সময় আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা এবং ঈমান এটা দেখার পরে মনে হয় যে আল্লাহর প্রতি যদি ঈমান থাকে তাহলে তো আমাদের আইনের উৎস আল কোরআন। কোরআনের বিধান বাংলাদেশে চালু হওয়া উচিত ছিল। শতকরা ৯০ জন মানুষ যারা কুরআনে বিশ্বাস করে এই কুরআনে যে বিধানগুলো আছে ৬৬৬৬টি আয়াতের মধ্যে নট লেস দ্যান ১০০০ আয়াত বিলং টু দি পজিটিভ অর্ডার অ্যান্ড নট লেস দ্যান ১০০০ আয়াত বিলং টু দি নেগেটিভ অর্ডার। ১০০০ আয়াত আছে যেগুলো হ্যাঁ বাচক আইন, ১০০০ আয়াত আছে যেগুলো না বাচক নিষেধ। কুরআনের এই ১০০০ পজিটিভ এবং ১০০০ নেগেটিভ আয়াতগুলো বাংলাদেশে কায়েম করতে হবে এটা আমাদের দাবি।
তিনি বলেন, আল্লাহ তায়ালা যাদেরকে নির্বাচিত করেছেন হুকুমতের ক্ষমতা দিয়েছেন সূরা হজের ৪১ নম্বর আয়াত। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আছেন তার দৃষ্টি আকর্ষণ করে সকলকেই বলতে চাই, 'আল্লাযীনা ইম মাক্কান্নাহুম ফিল আরযি আকামুস সালাতা ওয়া আতাউয যাকাতা ওয়া আমারু বিল মা'রুফি ওয়া নাহাও আনিল মুনকার'। যারা রাষ্ট্র ক্ষমতা পাবে তারা দেশে নামাজ চালু করে মানুষের চরিত্র ভালো করে দেবে এবং যাকাত চালু করে মানুষের ক্ষুধা দারিদ্র্য বেকারত্ব দেশ থেকে তারা বিতাড়িত করবে। ভালো কাজ করে মানুষকে শান্তিতে থাকতে দেবে, খারাপ কাজ বন্ধ করে অশান্তির আগুন থেকে মানুষকে রক্ষা করবে। কিন্তু দুর্ভাগ্য আওয়ামী লীগ এসেছে ৬ বার বিএনপি ৫ বার জাতীয় পার্টি ২ বার এতগুলা সরকার এসেছে জাতীয় সংসদে কুরআনের একটি আইনও চালু করে নাই। সবচাইতে লজ্জা সবচাইতে দুঃখজনক কথা হলো এটা। আমরা চাই আমরা এ দেশে কুরআনের আইন চালু করে মানুষকে মুক্তি দেব। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বলব আপনাকেও জিজ্ঞাসা করা হবে আমাকেও করা হবে বাংলাদেশে কেন নামাজ চালু করা হলো না? কেন যাকাত চালু করে ক্ষুধা দারিদ্র্য বেকারত্ব দেশ থেকে দূর করা হলো না? কেন ভালো কাজ চালু করে মানুষকে শান্তিতে থাকতে দেওয়া হলো না? কেন খারাপ কাজগুলো বন্ধ করে অশান্তি থেকে মানুষকে রক্ষা করা গেল না? মাননীয় স্পিকার আমি আপনার মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সহ আইন মন্ত্রী পাশে বসে আছেন তারা জবাব দিবেন এবং বলবেন তাদের দায়িত্বটা কি?
তিনি আরো বলেন, আমাদের দেশের সুদ ঘুষ মদ জুয়া জেনা ব্যভিচার চাঁদাবাজি টেন্ডারবাজি যারা করে এরা কোনো দলের লোক না। কিন্তু যখন বলা হয় যে এক দল চাঁদাবাজি করে পালায় গেছে আর এক দল চাঁদাবাজি করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে এটা বলার পরে কোনো কোনো দল যদি রিঅ্যাকশন করে তখন তো বুঝা যায় এই চাঁদাবাজদেরকে দলের সদস্য হিসেবে গ্রহণ করা হচ্ছে। আজকে সিদ্ধান্ত হোক চাঁদাবাজ কোনো দলের সদস্য হতে পারে না চাঁদাবাজ চাঁদাবাজই তাদেরকে ধরতে হবে গ্রেপ্তার করতে হবে। আজকে বিরোধী দল এই প্রস্তাব দিতে চায় যে বাংলাদেশকে চাঁদাবাজ মুক্ত করতে হবে চাঁদাবাজ মুক্ত বাংলাদেশ আমরা দেখতে চাই।
তিনি শিক্ষকদের বিষয়ে বলেন, শিক্ষকদের দায়িত্ব আমার ওপর থাকার কারণে দীর্ঘদিন শিক্ষকেরা রাস্তায় আন্দোলন করেছে এমপিওভুক্ত হওয়ার জন্য। তারা মশার কামড় খেয়ে কষ্ট করে প্রেসক্লাবে রাত্রি কাটিয়েছে। আমি বলতে চাই মানুষ গড়ার কারিগর শিক্ষকদেরকে এভাবে আর কষ্ট দেওয়া উচিত না। মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী এখানে আছেন প্রধানমন্ত্রী আছেন সকলেই শুনছেন শিক্ষকদেরকে এরকম কষ্ট না দিয়ে সকলকে এই শিক্ষকদের বেতন ভাতা যেগুলো এমপিওভুক্ত করার জন্য তারা দাবি করছে মাননীয় স্পিকার এটাও হওয়া দরকার দেরি করা মোটেই উচিত না। আর আমাদের দাবি হচ্ছে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করলেই তো সমস্যার সমাধান হয়ে যায়। বাজেট ১.৬৯ না করে আমরা এটা ৫% ৪% পর্যন্ত বাজেট দিতে পারি তাহলে শিক্ষকদের সমস্যা দূর হয়ে যেতে পারে।
তিনি আলেমদের নিয়ে বলেন, এ দেশে ইসলামী আইন চালু করার জন্য সকল ওলামায়ে কেরাম আমাদের এমপিরা এখানে অনেকে আছেন যারা মাদরাসা পাস এবং বড় বড় ওলামায়ে কেরাম তাদেরকে নিয়ে এবং বাইরে যত মাযহাব যুক্ত ওলামায়ে কেরাম আছে এমনকি আহলে হাদিস আছে সকল ওলামাকে নিয়ে একটা ইসলামী বোর্ড গঠন করা যারা ইসলামী আইন চালু করার জন্য আমাদেরকে পরামর্শ দিবে এবং দেশে সেই আইন কার্যকরী হবে।
শ্রমিকদের বিষয়ে অধ্যাপক মুজিব বলেন, শ্রমিকরা অনেক কষ্টের মধ্যে আছে। তাদের বেতন বাড়ানো হয়নি সর্বনিম্ন মজুরি বলা হয় কিন্তু তারা এখন পর্যন্ত যা বলা হয়েছে যা সিদ্ধান্ত হয়েছে তা বাস্তবায়ন হচ্ছে না। আমি দাবি করছি তাদের সর্বনিম্ন মজুরি যেটা সিদ্ধান্ত আছে এটাকে বাস্তবায়ন করা হোক।
তিনি বলেন, আমাদের দেশে সব জায়গায় একই দাবি করা হয়। সকল এমপি বলে আমার এখানে স্বাস্থ্য কেন্দ্র আছে মেডিকেল আছে অ্যাম্বুলেন্স নাই কার অ্যাম্বুলেন্স আছে ড্রাইভার নাই। একটা সিদ্ধান্ত হলেই তো কথাগুলো বলা লাগে না। সেটা হলো বাংলাদেশের যেখানেই স্বাস্থ্য কেন্দ্র আছে এবং হাসপাতাল আছে সব জায়গায় অ্যাম্বুলেন্স থাকবে ড্রাইভার থাকবে এটা কোন অবস্থাতেই এটা হতে পারে না গাড়ি নাই হাসপাতাল সেখানে আছে রোগীরা আসবে কেমন করে যারা মরে যাচ্ছে। সেজন্য বাংলাদেশের সকল স্বাস্থ্য কেন্দ্রে অ্যাম্বুলেন্স এবং ড্রাইভার নিশ্চিত করতে হবে।
এছাড়া বড় বড় আলেমদের ছবি ব্যবহার করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ বিজ্ঞাপন প্রচারের তীব্র নিন্দা জানান মুজিবুর রহমান। এ ধরনের অপরাধীদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির আওতায় আনার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।