বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আর গণরুম হতে দেয়া হবে না। গণরুম, গেষ্টরুমের কবর হয়ে গেছে চব্বিশে; সেটা আর ফিরে আসবে না। এখন কেউ ফিরিয়ে আনতে চাইলে তাদেরই ফিরিয়ে দেয়া হবে। কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে আর এটা হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় এখনো রাজনৈতিক অপচর্চামুক্ত হয়নি। রাজনৈতিক বিবেচনায় অনেক জায়গায় অনেক কিছু করা হচ্ছে। আমরা চুপচাপ আছি বলে মনে করবেন না ঘুমিয়ে গেছি, সতর্ক করেন তিনি।

আজ রোববার (১৯ জুলাই) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আয়োজনে ‘রক্তাক্ষরে জুলাই’ প্রদর্শনী পরিদর্শন শেষে দেয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান২

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রশিবির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আয়োজনে ‘রক্তাক্ষরে জুলাই’ প্রদর্শনী পরিদর্শন করছেন ডা. শফিকুর রহমান

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সরকারি দল স্বাধীন বিচার বিভাগ, দুর্নীতি দমন কমিশন, মানবাধিকার কমিশন চায় না, নির্বাচন কমিশন চায় না। আগের ফ্যাসিবাদী আলোকে সবকিছু রাখতে চায়। এজন্য তারা গণভোটের গণরায় মানতে চায় না। আমরা পরিস্কার বলে দিচ্ছি- এ রায় বাংলার জমিনে বাস্তবায়ন হবে, ইনশাআল্লাহ।

তিনি আরও বলেন, জনগণকে অপমান করার সুযোগ কাউকে দেয়া হবে না। ৭০ ভাগ মানুষ যে রায় দিয়েছে, আল্লাহর মেহেরবানীতে তা অবশ্যই বাস্তবায়ন হবে। আমরা সংসদে ও রাজপথে লড়াই করব। দাবি সংসদে আদায় হলে আলহামদুলিল্লাহ, না হলে রাজপথে আন্দোলন করে দাবি আদায়ে বাধ্য করা হবে।

জামায়াত আমির বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নে কোনো ছাড় নাই। কোনো ধানাই পানাই মানবো না। আমাদের অনেক লোভ দেখানো হয়েছে- সব ঘৃণাভরে প্রত্যাখান করেছি। জনগণের সাথে আমরা বেঈমানি করব না। জনগণের রায়কে অপমান করব না। গণভোটের রায় ব্যর্থ হলে জনগণ গণতন্ত্র ও নির্বাচনী প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থা হারাবে এবং জনগণ সরকারকে ধিক্কার দেবে। জনগণের ধিক্কারের পাত্র বিরোধীদল হতে চায় না। এ দায়িত্ব আমরা (বিরোধীদল) নেবো না। এজন্যই আমাদের লড়াই, আমাদের সংগ্রাম।

তিনি বলেন, সরকার এখন স্বৈরশাসকের ভাষায় বিভিন্ন কথা বলছে। তাদের চেলাচামুন্ডারা ও বটবাহিনী মানুষের ইজ্জত নিয়ে খেলে। আবার সেই ফ্যাসিবাদ!

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, জনগণের স্বার্থের সাথে কোনো আপস হবে না। কোনো অপশক্তির কাছে মাথাও নত করা হবে না। দেশীয়, আঞ্চলিক, আন্তর্জাতিক-এটা যাই হোক। যুবকদের প্রত্যাশার, আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ গড়ার জন্য বাকী জীবনকে আমরা উজার করে দেবো। যুবকদের সাথে লড়াই করব। যুবকদের সাথে ও সম্মুখভাগে থেকে মুক্তির আন্দোলন চলবে। এ আন্দোলন কেউ বন্ধ করতে পারবে না- প্রাচ্যের অক্সফোর্ডখ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ওয়াদা করে গেলাম, বলেন তিনি।

এসময় আমীরে জামায়াতের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য জনাব মো. মোবারক হোসাইন, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর এডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন ও সহকারী সেক্রেটারি জনাব মুহাম্মদ কামাল হোসেন এমপি, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম, সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা, ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম, ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ও ডাকসু এজিএস মহিউদ্দিন খানসহ ডাকসু নেতৃবৃন্দ, জামায়াতে ইসলামী এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্র ও মহানগরীর বিপুল সংখ্যাক নেতা-কর্মী।

বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান২৩

জামায়াত আমির শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদির কবর জিয়ারত করেন।

পরে আমীরে জামায়াত নেতৃবৃন্দকে সাথে নিয়ে ডাকসু নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় করেন এবং ইনকিলাব মঞ্চের সাবেক আহ্বায়ক শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদির কবর জিয়ারত করেন।