শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে এগিয়ে নিতে হবে ফার্মাসিউটিক্যালস খাত। বুধবার (৫ আগস্ট) বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ফার্মাসিউটিক্যালস রিপ্রেজেন্টেটিভস অর্গানাইজেশনের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান।

ফার্মাসিউটিক্যালস রিপ্রেজেন্টেটিভদের ন্যায্য শ্রম অধিকার প্রতিষ্ঠা, কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য ও শোষণ বন্ধ এবং শক্তিশালী ট্রেড ইউনিয়ন গড়ে তোলার লক্ষ্যে মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি খলিলুর রহমান জিহাদ। সেক্রেটারি জহির রাসেলের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক লস্কর মো. তসলিম, কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আলমগীর হোসাইন, আক্তারুজ্জামান, ট্রেড ইউনিয়ন সম্পাদক সোহেল রানা মিঠুসহ ফার্মাসিউটিক্যালস রিপ্রেজেন্টেটিভদের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান বলেন, দেশের ফার্মাসিউটিক্যালস রিপ্রেজেন্টেটিভরা দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের হয়রানি ও বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। দেশের বিভিন্ন শিল্পখাত উন্নয়নের সুযোগ পেলেও এ খাতের কর্মীরা এখনও ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত। আট ঘণ্টার কর্মঘণ্টার কথা থাকলেও বাস্তবে তাদের দিয়ে সীমাহীন শ্রম আদায় করা হয়। ছুটি, ইনক্রিমেন্ট, চাকরির নিরাপত্তা এবং মানবিক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত না করে বিভিন্ন কোম্পানি টার্গেটের নামে অমানবিক চাপ সৃষ্টি করছে।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রের যেমন জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা রয়েছে, তেমনি ওষুধ কোম্পানিগুলোরও তাদের শ্রমিকদের প্রতি দায়বদ্ধতা থাকতে হবে। একক আধিপত্যের মাধ্যমে শ্রমিকদের শোষণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। দেশের ওষুধ শিল্প যত এগিয়ে যাচ্ছে, মাঠপর্যায়ে কর্মরত রিপ্রেজেন্টেটিভদের জীবনমানও তত উন্নত হওয়া উচিত।

তিনি আরও বলেন, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠনের যে নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, তা কাজে লাগিয়ে উক্ত শ্রম খাতের বৈষম্য দূর করতে হবে। বিশেষ করে মাঠপর্যায়ের কর্মীরাই সবচেয়ে বেশি বৈষম্যের শিকার। মানবিক বাংলাদেশ গড়তে হলে শ্রমক্ষেত্রে অমানবিক আচরণের অবসান ঘটাতে হবে।

অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান বলেন, অন্যায়, জুলুম ও অবিচার যেখানে হবে, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন সেখানেই শ্রমিকদের পক্ষে সোচ্চার থাকবে। তবে শ্রমিকদের নিজেদের অধিকার আদায়ে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। ট্রেড ইউনিয়নই শ্রমিকদের দরকষাকষি, জীবনমান উন্নয়ন এবং মালিকপক্ষের সঙ্গে কার্যকর আলোচনার একমাত্র সাংগঠনিক মাধ্যম। ঐক্যবদ্ধ সংগঠনের মাধ্যমে অধিকার আদায় অনেক সহজ হবে।

তিনি বলেন, “আমাদের মূল লক্ষ্য ইনসাফ প্রতিষ্ঠা এবং অন্যায়, জুলুম ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করা। আজকের এই মতবিনিময় সভা ফার্মাসিউটিক্যালস রিপ্রেজেন্টেটিভদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে ভূমিকা রাখবে।”